সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

চা শ্রমিকদের মজুরি দ্রুত পরিশোধ না হলে সিলেটে বৃহত্তর আন্দোলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে চা বাগানের স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, মজুরি না পেয়ে প্রতিবাদে দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশি সময় কর্মবিরতি পালন করছে, দীর্ঘদিন কর্মবিরতি চললে বাগানেরও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হবে, যা কোনভাবে সুফল বয়ে আনবে না।

শনিবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের টিকেট কাউন্টারের সামনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে লাক্কাতুরা, কেওয়াছড়া, দলদলি সহ এনটিসি’র সকল বাগানের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সংহতি সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সিলেট জেলা সভাপতি বীরেন সিং এর সভাপতিত্বে ও সদস্য শিপন পালের সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল রায়, ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান সফিক, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, সাংবাদিক দেবাশীষ দেবু, চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক হৃদেশ মুদি, হিলুয়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মদন গঞ্জু, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মুখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ রুদ্র প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ লাক্কাতুরা, কেওয়াছড়া, দলদলি সহ ন্যাশনাল টি কোম্পানির চা শ্রমিকরা মজুরি থেকে বঞ্চিত। মজুরি না পেয়ে চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত ৫ আগষ্ট সরকারের পতনের পর থেকে অচলাবস্থা শুরু হয়। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে, স্বাভাবিক ভাবে মানুষ আশা করেছিল বৈষম্যের অবসান হবে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে শ্রমিকরা। গত দুর্গাপূজার সময় থেকে আন্দোলন চলছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বোনাস প্রদান করলেও নিয়মিত মজুরি দেয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান ও নানা প্রতিবাদের মুখে আশ্বাস দেয়া ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু আশ্বাসে শ্রমিকের পেট চলে না সন্তান সন্ততি সহ অসহায় হয়ে পরছে শ্রমিকরা, দোকানে বাকিও মিলছে না।

সিলেটের নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন- সিলেট অঞ্চল চা বাগান অধ্যুষিত, সিলেটের অর্থনীতির জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া চা বাগানকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে, সারাদেশের মানুষ চা বাগানের সৌন্দর্য দেখতে আসে। এই শিল্প ধ্বংস হলে সিলেটের মানুষও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এজন্য সিলেটের সকল মানুষকে এ আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য আহবানও জানান তারা।

চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, অবিলম্বে যদি মজুরি পরিশোধ করে বাগান চালু করার উদ্যোগ নেয়া না হয়, তাহলে সিলেটের ২২ বাগান সহ সকল বাগানে কর্মবিরতি সহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চা শ্রমিকদের মজুরি দ্রুত পরিশোধ না হলে সিলেটে বৃহত্তর আন্দোলন

আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে চা বাগানের স্বাভাবিক কর্ম পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, মজুরি না পেয়ে প্রতিবাদে দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশি সময় কর্মবিরতি পালন করছে, দীর্ঘদিন কর্মবিরতি চললে বাগানেরও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হবে, যা কোনভাবে সুফল বয়ে আনবে না।

শনিবার বিকেলে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের টিকেট কাউন্টারের সামনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে লাক্কাতুরা, কেওয়াছড়া, দলদলি সহ এনটিসি’র সকল বাগানের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সংহতি সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সিলেট জেলা সভাপতি বীরেন সিং এর সভাপতিত্বে ও সদস্য শিপন পালের সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল রায়, ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান সফিক, সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, সাংবাদিক দেবাশীষ দেবু, চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক হৃদেশ মুদি, হিলুয়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মদন গঞ্জু, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মুখলেছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ রুদ্র প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ লাক্কাতুরা, কেওয়াছড়া, দলদলি সহ ন্যাশনাল টি কোম্পানির চা শ্রমিকরা মজুরি থেকে বঞ্চিত। মজুরি না পেয়ে চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত ৫ আগষ্ট সরকারের পতনের পর থেকে অচলাবস্থা শুরু হয়। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে, স্বাভাবিক ভাবে মানুষ আশা করেছিল বৈষম্যের অবসান হবে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে শ্রমিকরা। গত দুর্গাপূজার সময় থেকে আন্দোলন চলছে, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বোনাস প্রদান করলেও নিয়মিত মজুরি দেয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান ও নানা প্রতিবাদের মুখে আশ্বাস দেয়া ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, শুধু আশ্বাসে শ্রমিকের পেট চলে না সন্তান সন্ততি সহ অসহায় হয়ে পরছে শ্রমিকরা, দোকানে বাকিও মিলছে না।

সিলেটের নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন- সিলেট অঞ্চল চা বাগান অধ্যুষিত, সিলেটের অর্থনীতির জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এছাড়া চা বাগানকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে, সারাদেশের মানুষ চা বাগানের সৌন্দর্য দেখতে আসে। এই শিল্প ধ্বংস হলে সিলেটের মানুষও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এজন্য সিলেটের সকল মানুষকে এ আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য আহবানও জানান তারা।

চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, অবিলম্বে যদি মজুরি পরিশোধ করে বাগান চালু করার উদ্যোগ নেয়া না হয়, তাহলে সিলেটের ২২ বাগান সহ সকল বাগানে কর্মবিরতি সহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।