সিলেটে শীতকালীন সবজির দাম কমেনি,দাম ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরে
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১১২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি :
এখন শীতকাল সবজির মৌসুম। বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। তবে শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কমেনি, ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরেই রয়েছে। সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজির পাশাপাশি বাজারে এখন কাঁচা টমেটো, শালগম, পেঁয়াজ পাতা, মুলা, শিমের মতো সবজিও জায়গা করে নিচ্ছে।
শীতকালীন সবজি বাজারে এগুলো বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে। বিক্রেতারা বলছেন, নতুন এসেছে বলেই এগুলোর দাম বেশি। কয়েক দিন গেলেই দাম কমতে শুরু করবে। তবে মৌসূমি সবজির স্বাদ নিতে অনেক ক্রেতাই বাড়তি দাম দিয়ে সবজি কিনছেন।
বৃহস্পতিবার সিলেট নগরের টুকের বাজার, মদিনা মার্কেট ও রিকাবীবাজার কাঁচা বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় শীতের সবজির এই চিত্র।
সিলেট নগরের টুকেরবাজার কাঁচা সবজি কেনাবেচার জন্য বিখ্যাত। সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয়। এর বেশির ভাগ বিক্রি হয় এই বাজারে। এই বাজার থেকে সিলেট শহরের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। টুকের বাজার থেকে প্রতিদিন সকালে বিক্রেতারা সবজি কিনে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রি করেন। এছাড়াও এই বাজারের সবজি সিলেটের বিভিন্ন বাজারে যায়। আর সেই সবজি সিলেট শহরে মাত্র এক হাত ঘুরেই কেজিতে দাম বাড়ছে ১০ থেকে ২৫ টাকা। কৃষকরা কৃষিতে লাভ করুক আর ক্ষতি করুক ব্যবসায়ীরা ঠিকই পকেটে লাভের টাকা ভরছেন।
কৃষক এবং পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি পটল টুকের বাজারে সকালে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই পটল সিলেট শহরের মদিনা মার্কেট সবজি বাজারে একই দিন বিক্রি হয়েছে কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। এতে করে কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি করলা বিক্রি দাম পড়ে ৭৫-৮০ টাকা করে। কিন্তু একই করলা শহরে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। আবার বরবটির দাম পড়ে প্রতি কেজি ৬২ টাকা। কিন্তু একই বরবটি শহরে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে। এদিকে নগরে মদিনা মার্কেট থেকে রিকাবীবাজার কাঁচা বাজারের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। এই বাজারে মদিনা মার্কেটের চেয়ে ১০-২০ টাকা বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শিম ৮০-৯০, শালগম ৮০-৭০ টাকা, কাঁচা টমেটো ১২০, টমেটো ১৪০, পেঁয়াজ পাতা ১২০-১৬০, মুলা ৪০-৫০, গাজর ১২০-১৩০, লম্বা বেগুন ৫০-৬০, সাদা গোল বেগুন ৫০-৬০, কালো গোল বেগুন ৮০-১০০, শসা ৫০-৭০, করল্লা ৮০-৯, পেপে ৪০-৫০, পটল ৫০-৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৮০, ঢেঁড়স ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৬০-৭০, বরবটি ৮০-১০০, কচুর লতি ৬০, কচুরমুখী ৮০-১০০, কাঁচা মরিচ ১০০-১১০, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি লাউ ৩০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা ও চাল কুমড়া ৫০-৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে আমদানির খবরে আলুর দাম কিছুটা কমে মানভেদে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু একশ টাকার নিচে কোনও পেঁয়াজ নেই। এছাড়া রুই মাছ ৩৫০-৫৫০, কাতল মাছ ৩৫০-৫৫০, কালিবাউশ ৪০০-৬০০, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৪০০, কাঁচকি মাছ ৫০০-৬০০, কৈ মাছ ৩৫০-৪৫০, পাবদা মাছ ৬০০, শিং মাছ ৫০০-৬০০, টেংরা মাছ ৭০০-৯০০, পাঙ্গাস মাছ ২৮০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৯০, কক মুরগি ২৮০-৩৩০, লেয়ার মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি কেজি ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০-৭০০, গরুর মাংস বাজার ভেদে ৭৫০-৭৮০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, সাদা ডিম ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি রাখছেন। খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
























