সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশইন সতর্ক ৫৫ বিজিবি, পাহারায় চা বাগানের শ্রমিকরাও সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও পুনর্মিলনী সিলেট কাষ্টঘরে বিশেষ অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা বড়ি ও নগদ ১ লাখ ৮৬ হাজার ২০৬টাকাসহ গ্রেফতার ১ সিলেটে মাদক আস্তানায় গ্রেফতার ২ সিলেটে পুলিশের চিরুনি অভিযান, গ্রেফতার ৯৪ সিলেট অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক- রেজা হাসান সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু,নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন সিসিক প্রশাসক আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার- শিক্ষামন্ত্রী লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প

সিলেটেসহ বিভিন্ন স্থানে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

রাতে শাবি শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার :

ইসকন কর্তৃক চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)  বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০ টায় শাহপরাণ হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোল চত্বর প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করেন তারা। এসময় ‘ইসকন তুই জঙ্গি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী’ সারা বাংলায় খবর দে, ইসকনের কবর দে’ ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন একজন আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করার মাধ্যমে তারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভুমিকায় আবিষ্ট হয়েছে। কিছুদিন আগেও ইসকন সদস্যরা সন্ত্রাসী কায়দায় একজন পুলিশ সদস্যের উপর এসিড নিক্ষেপ করেছে।’ তারা আরো বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি ইসকন নেতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার তোষামোদি করে তাদেরকে পুনর্বাসন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ অনতিবিলম্বে আজকে রাতের মধ্যে হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদার বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই বিপ্লবী সরকার হয়ে থাকেন তাহলে সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপোষ নেই। ইসকনের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে হলে দ্রুত এদের গ্রেফতার করতে হবে। ইসকনকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাশকে কলঙ্কযুক্ত করতে হবে। অন্যথায় এদের ছাত্র সমাজ মোকাবেলা করবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিরশির বলেন, ‘আমরা সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে, কিন্তু ভারতের প্রেসক্রিপশনে যদি এই সম্প্রীতি ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হয় তাহলে এদেশের আপামর জনতা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভচট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত ও দেশে জঙ্গি কার্যক্রম করার দায়ে হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠন ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ক্যম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদিক্ষণ করে ভিক্টোরিয়া পার্ক হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারের সামনে একত্রিত হয়। এ-সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভারতের দালালি চলবে না চলবেনা’, ‘এই বাংলায় হবে না, ইসকনের ঠিকানা’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ইসকনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই মরলো কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খুনিদের বিচার, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাইয়ের হত্যা কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিচার চাই বিচার করো, ইসকনের বিচার করো’, ‘জঙ্গীবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ, ইসকন ইসকন’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ মাসুদ বলেন, আমাদের দেশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চারিদিক থেকে পতিত স্বৈরাচারের দোসরেরা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো ধর্মীয় দাঙ্গা আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রামে ইসকনের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ‘ইসকন দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। গত কয়েক দিন তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমরা দেখছি কোনোভাবেই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।’

গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ইসকনের সদস্যরা আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা যদি নিরাপদে না থাকেন, তাহলে কোথায় তাঁরা নিরাপদে থাকবেন।

শাকিল আরও বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, ইসকনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনষ্ট করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চলছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছে।

দলটি এই হত্যার বিচার দাবির পাশাপাশি দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ছাত্র–জনতা দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন দলটির নেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটেসহ বিভিন্ন স্থানে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

রাতে শাবি শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার :

ইসকন কর্তৃক চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)  বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০ টায় শাহপরাণ হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোল চত্বর প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করেন তারা। এসময় ‘ইসকন তুই জঙ্গি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী’ সারা বাংলায় খবর দে, ইসকনের কবর দে’ ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন একজন আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করার মাধ্যমে তারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভুমিকায় আবিষ্ট হয়েছে। কিছুদিন আগেও ইসকন সদস্যরা সন্ত্রাসী কায়দায় একজন পুলিশ সদস্যের উপর এসিড নিক্ষেপ করেছে।’ তারা আরো বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি ইসকন নেতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার তোষামোদি করে তাদেরকে পুনর্বাসন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ অনতিবিলম্বে আজকে রাতের মধ্যে হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদার বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিই বিপ্লবী সরকার হয়ে থাকেন তাহলে সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপোষ নেই। ইসকনের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে হলে দ্রুত এদের গ্রেফতার করতে হবে। ইসকনকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাশকে কলঙ্কযুক্ত করতে হবে। অন্যথায় এদের ছাত্র সমাজ মোকাবেলা করবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন শিরশির বলেন, ‘আমরা সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে, কিন্তু ভারতের প্রেসক্রিপশনে যদি এই সম্প্রীতি ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হয় তাহলে এদেশের আপামর জনতা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভচট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত ও দেশে জঙ্গি কার্যক্রম করার দায়ে হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠন ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ক্যম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদিক্ষণ করে ভিক্টোরিয়া পার্ক হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারের সামনে একত্রিত হয়। এ-সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভারতের দালালি চলবে না চলবেনা’, ‘এই বাংলায় হবে না, ইসকনের ঠিকানা’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ইসকনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই মরলো কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খুনিদের বিচার, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাইয়ের হত্যা কেনো, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিচার চাই বিচার করো, ইসকনের বিচার করো’, ‘জঙ্গীবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ, ইসকন ইসকন’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ মাসুদ বলেন, আমাদের দেশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চারিদিক থেকে পতিত স্বৈরাচারের দোসরেরা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো ধর্মীয় দাঙ্গা আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে তারা ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রামে ইসকনের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ‘ইসকন দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। গত কয়েক দিন তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমরা দেখছি কোনোভাবেই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।’

গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ইসকনের সদস্যরা আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায় ছিল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা যদি নিরাপদে না থাকেন, তাহলে কোথায় তাঁরা নিরাপদে থাকবেন।

শাকিল আরও বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, ইসকনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনষ্ট করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চলছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছে।

দলটি এই হত্যার বিচার দাবির পাশাপাশি দেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ছাত্র–জনতা দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন দলটির নেতারা।