সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো ভারত নিরাপদ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- সিলেটে গৃহায়ণ মন্ত্রী সিলেটে পরকীয়া’ নিয়ে কথার জেরে ব্যবসায়ী খুন সিলেটের জকিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ আলোর দিশারী হয়ে এসেছিলেনহযরত মুহাম্মদ (সা.) আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক সিলেটের বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ হবিগঞ্জ সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল (ডিবি) কর্তৃক টাকা ও মোবাইল উদ্ধার সিলেট মঙ্গলবার আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী– সিলেট ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৯ মেয়েদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর উদ্যোগ

সরকার পতনের পর সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৩২ জনের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই মারা গেছেন গত মঙ্গলবার। কেউ কেউ মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

গত সোমবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ২৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এর আগে কোটা আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সংঘাতে ৩২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। গত ২৩ দিনে সারা দেশে মোট ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন।

ঢাকার সাভারে সোমবারের সংঘাতে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল। আর আগের দিন মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে বন্দীরা পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে ছয়জন মারা যান। সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

মেহেরপুরের গাংনীতে আনন্দমিছিল নিয়ে বাড়িতে হামলার সময় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামে ঘটে। নিহত নাহারুল ইসলাম বাওট গ্রামের কামরুল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে মেন্দিপুর গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেফায়েত উল্লাহ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জহিরুল্লাহ (৫০)। তিনি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের সাহু মিয়ার ছেলে।

সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। এর মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। নিহত ছয় পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই সুজন চন্দ্র দে (৪২), সহকারী এএসআই ফিরোজ হোসেন (৪২) ও কনস্টেবল রেজাউল করিমের (৪৮) লাশ আনা হয় যাত্রাবাড়ী থেকে। তাঁদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আনা হয় এসআই খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৪৯) ও কনস্টেবল শহিদুল আলমের (৪৮) লাশ। আশুলিয়া থেকে আনা হয় এএসআই রাজু আহমেদের (৩০) লাশ। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী থেকে আনসার সদস্য আবু জাফরের (৪৩) গুলিবিদ্ধ লাশ আনা হয়। এর বাইরে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে পারভেজ মিয়ার (৩০) গুলিবিদ্ধ লাশ, সাভার থেকে পোশাক কর্মী সুমন ইসলামের (৩০) লাশ এবং উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আবু হাসনাতের (২৪) লাশ আনা হয়।

ঢাকার সাভারে গত সোমবার আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও তিনজনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হলো ৩৪। সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে ২০৯ জন বন্দী পালিয়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে এই বন্দী পালানো ঠেকাতে গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন জঙ্গি রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরকার পতনের পর সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৩২ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই মারা গেছেন গত মঙ্গলবার। কেউ কেউ মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

গত সোমবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ২৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এর আগে কোটা আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সংঘাতে ৩২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। গত ২৩ দিনে সারা দেশে মোট ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন।

ঢাকার সাভারে সোমবারের সংঘাতে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল। আর আগের দিন মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে বন্দীরা পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে ছয়জন মারা যান। সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

মেহেরপুরের গাংনীতে আনন্দমিছিল নিয়ে বাড়িতে হামলার সময় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামে ঘটে। নিহত নাহারুল ইসলাম বাওট গ্রামের কামরুল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে মেন্দিপুর গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেফায়েত উল্লাহ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জহিরুল্লাহ (৫০)। তিনি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের সাহু মিয়ার ছেলে।

সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। এর মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। নিহত ছয় পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই সুজন চন্দ্র দে (৪২), সহকারী এএসআই ফিরোজ হোসেন (৪২) ও কনস্টেবল রেজাউল করিমের (৪৮) লাশ আনা হয় যাত্রাবাড়ী থেকে। তাঁদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আনা হয় এসআই খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৪৯) ও কনস্টেবল শহিদুল আলমের (৪৮) লাশ। আশুলিয়া থেকে আনা হয় এএসআই রাজু আহমেদের (৩০) লাশ। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী থেকে আনসার সদস্য আবু জাফরের (৪৩) গুলিবিদ্ধ লাশ আনা হয়। এর বাইরে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে পারভেজ মিয়ার (৩০) গুলিবিদ্ধ লাশ, সাভার থেকে পোশাক কর্মী সুমন ইসলামের (৩০) লাশ এবং উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আবু হাসনাতের (২৪) লাশ আনা হয়।

ঢাকার সাভারে গত সোমবার আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও তিনজনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হলো ৩৪। সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে ২০৯ জন বন্দী পালিয়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে এই বন্দী পালানো ঠেকাতে গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন জঙ্গি রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।