সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শিশুকে যৌ’ন নি’র্যাতন ও হ’ত্যার ঘটনায় চাচা গ্রে’প্তার মাজারে আসা প্রতিবন্ধী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩ সিলেট পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৮ সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু সিলেটে ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু সিলেটে ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও দগ্ধ হয়ে এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামী খালাস প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি- জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না হবিগঞ্জে ৪ থানার ওসি বদলী নবীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযান ৪৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ চুনারুঘাটে বিজিবি’র অভিযান ভারতীয় গাঁজা ও বিয়ার উদ্ধার

সিলেটে বিরোধ মেটাতে ঈদের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিদের এলাকায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসছে। আগামী উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাতে নতুন মাত্রা পাচ্ছে। দলের এই বিরোধ মেটাতে ঈদের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র।

এছাড়াও নির্বাচন-পরবর্তী সব সাংগঠনিক বিরোধের নিষ্পত্তির পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ দেওয়া হবে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের নয়টি উপজেলায় গৃহদাহ সৃষ্টি হয়েছে।২০ মার্চ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সিলেটে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস ধরে সিলেটে জেলা আওয়ামী লীগে দলীয় ঐক্যের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। এতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে। এতে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। দলের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। 

এছাড়াও সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার।জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জে দুইজন ও সুনামগঞ্জে একজন নৌকাকে হারিয়ে জয়ও পেয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরই বেশির ভাগ স্বতন্ত্র এমপি যে কোনো প্রক্রিয়ায় দলে চালকের অবস্থান নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন গত সংসদের সাবেক এমপি কিংবা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী। ফলে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় স্পষ্ট দুই বলয়ে বিভক্ত হয়েছেন নেতাকর্মী।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বরাত দিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম একজন সদস্য সিলেটভিউকে জানান, ‘সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের বিরোধ মেটাতে সিরিজ সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হবে। এরই অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক হওয়া কথা রয়েছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা হবে।’

সিলেট বিভাগের বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ঈদুল ফিতরের পর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।এদিকে সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ হলো- সুনামগঞ্জের শাল্লা, দিরাই ও জগন্নাথপুর; সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ; হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, মাধবপুর ও চুনারুঘাট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে বিরোধ মেটাতে ঈদের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় : ০৭:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিদের এলাকায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসছে। আগামী উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাতে নতুন মাত্রা পাচ্ছে। দলের এই বিরোধ মেটাতে ঈদের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র।

এছাড়াও নির্বাচন-পরবর্তী সব সাংগঠনিক বিরোধের নিষ্পত্তির পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ দেওয়া হবে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের নয়টি উপজেলায় গৃহদাহ সৃষ্টি হয়েছে।২০ মার্চ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সিলেটে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস ধরে সিলেটে জেলা আওয়ামী লীগে দলীয় ঐক্যের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। এতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে। এতে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। দলের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। 

এছাড়াও সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত সরকার।জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জে দুইজন ও সুনামগঞ্জে একজন নৌকাকে হারিয়ে জয়ও পেয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরই বেশির ভাগ স্বতন্ত্র এমপি যে কোনো প্রক্রিয়ায় দলে চালকের অবস্থান নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছেন গত সংসদের সাবেক এমপি কিংবা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী। ফলে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় স্পষ্ট দুই বলয়ে বিভক্ত হয়েছেন নেতাকর্মী।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বরাত দিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম একজন সদস্য সিলেটভিউকে জানান, ‘সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের বিরোধ মেটাতে সিরিজ সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হবে। এরই অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক হওয়া কথা রয়েছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে সাংগঠনিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা হবে।’

সিলেট বিভাগের বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ঈদুল ফিতরের পর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।এদিকে সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ হলো- সুনামগঞ্জের শাল্লা, দিরাই ও জগন্নাথপুর; সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ; হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, মাধবপুর ও চুনারুঘাট।