সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন,, এমন প্রধানমন্ত্রীই চায় জনগণ কক্সবাজারে রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু সিলেটে আসল মোড়কের আড়ালে চলছিল নকল সিগারেটের বাণিজ্য,পুড়ানো হল ৩ লাখ টাকার সিগারেট নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সিলেট মহানগর বিএনপির জরুরি নির্দেশনা সুধীজনদের মিলনমেলাজমকালো আয়োজনে কালবেলারপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নগরবাসীকে সিসিকপ্রশাসকের দুর্গাপূজারশুভেচ্ছা জ্ঞাপন সিলেটের জৈন্তাপুর থানা পুলিশের অভিযানে ভারতীয় মদ,ফেনসিডিল,ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ শারদীয় দুর্গাপূজা -২০২৬ উপলক্ষে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি সিলেট মহানগরে চার স্তরের নিরাপত্তা, সদর উপজেলায় ১৩০ মণ্ডপে ৮৩৪ আনসার সদস্য মোতায়েন

সিলেটে হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলেসহ যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষক আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণা করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ কবির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দন্ড-প্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তিলকপুর (গুমরগুল) গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৬০), তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া (২২) ও কামরান মিয়া (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শুধু আশিক মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ এমরান মিয়া ও তার ভাই কামরান মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামীদের সাথে একই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব (৪০) ও তার সহোদর মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে জায়গা-জমি ও মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুর রবের পক্ষের রেকর্ডভুক্ত দখলী ডোবা রকম ভূমিতে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুস সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ করার জন্য পাম্প মেশিন স্থাপন করছিলেন। ওইদিন সকাল ৯ টার দিকে আসামী আশিক মিয়া, তার ছেলে এমরান ও কামরানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে রামদা, সুলফি, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ রব ও আঃ কুদ্দুসকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশিক মিয়া, এমরান মিয়া ও কামরান মিয়াসহ তার লোকজন আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় আসামীরা রামদা, সুলফি ও ছুরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসকে গুরুতর আহত করেন। তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার তিনদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার দিকে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৭ (২১-০২-২০১৮)। দায়রা-২৮৬/২০২১।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিশ্বনাথ থানার এসআই মোঃ সফিকুল ইসলাম ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ৫৪) দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর থেকে আদালত এ মামলার চার্জগঠন (অভিযোগগঠন) করে বিচার কার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আসামী আশিক মিয়া তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া ও কামরানকে পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার দ-াদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুছ ছাত্তার ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম মামলাটি পরিচালনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলেসহ যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষক আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণা করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ কবির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দন্ড-প্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তিলকপুর (গুমরগুল) গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৬০), তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া (২২) ও কামরান মিয়া (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শুধু আশিক মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ এমরান মিয়া ও তার ভাই কামরান মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামীদের সাথে একই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব (৪০) ও তার সহোদর মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে জায়গা-জমি ও মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুর রবের পক্ষের রেকর্ডভুক্ত দখলী ডোবা রকম ভূমিতে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুস সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ করার জন্য পাম্প মেশিন স্থাপন করছিলেন। ওইদিন সকাল ৯ টার দিকে আসামী আশিক মিয়া, তার ছেলে এমরান ও কামরানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে রামদা, সুলফি, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ রব ও আঃ কুদ্দুসকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশিক মিয়া, এমরান মিয়া ও কামরান মিয়াসহ তার লোকজন আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় আসামীরা রামদা, সুলফি ও ছুরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসকে গুরুতর আহত করেন। তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার তিনদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার দিকে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৭ (২১-০২-২০১৮)। দায়রা-২৮৬/২০২১।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিশ্বনাথ থানার এসআই মোঃ সফিকুল ইসলাম ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ৫৪) দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর থেকে আদালত এ মামলার চার্জগঠন (অভিযোগগঠন) করে বিচার কার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আসামী আশিক মিয়া তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া ও কামরানকে পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার দ-াদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুছ ছাত্তার ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম মামলাটি পরিচালনা করেন।