সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গত ১৪ মাসে ১২টি ভূমিকম্প হয়েছে। যেগুলো ছিল মৃদু থেকে মাঝারি আকারের। ভূতত্ত্ববিদরা বলে আসছেন, ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে যে কয়েকটি অঞ্চল রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সিলেটের নামও। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে সাত বা আট মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কিন্তু কবে বা কখন সেটা হবে, এ বিষয়ে এখনো বিজ্ঞানীদের ধারণা নেই।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে দেশেও হতে পারে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। আর তেমন কোনো ঘটনা ঘটলে দেশের পরিস্থিতি কী হবে তা কল্পনাও করতে পারেন না তারা। কারণ ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ যতটুকু সক্ষমতা অর্জন করেছে, তার সিকি ভাগও নেই ভূমিকম্প মোকাবিলায়।

ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ছোট আকারের ভূমিকম্প বেড়েছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, অপ্রশস্ত সড়ক ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবেই এ ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়েছে।

সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলাও এমন ঝুঁকিতে। ভূগর্ভস্থ ফাটল বা চ্যুতি থাকার কারণে ওই কম্পন হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভেতরে ১৩টি ভূগর্ভস্থ চ্যুতি রয়েছে। তবে তার সব কটি ঢাকা থেকে বেশ দূরে। কিন্তু সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে তীব্র ভূমিকম্প হলে ঢাকায় অনেক ভবন ভেঙে পড়তে পারে।

বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের আসামে ১৮৯৭ সালে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সিলেটের একেবারেই কাছে এবং ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। ওই সময় ঢাকায় মাত্র ১০০টি পাকা দালান ছিল, অধিবাসী ছিল ৯০ হাজার। ওই ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিলসহ ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটেও হয় ক্ষয়ক্ষতি।

সুনামগঞ্জ, জাফলং অংশে ডাউকি ফল্টের পূর্বপ্রান্তেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। এসব ফল্টে ভূমিকম্প হলে সিলেট ও ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বা বিপদের মাত্রা অনেক বেশি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গত ১৪ মাসে ১২টি ভূমিকম্প হয়েছে। যেগুলো ছিল মৃদু থেকে মাঝারি আকারের। ভূতত্ত্ববিদরা বলে আসছেন, ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে যে কয়েকটি অঞ্চল রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সিলেটের নামও। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে সাত বা আট মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। কিন্তু কবে বা কখন সেটা হবে, এ বিষয়ে এখনো বিজ্ঞানীদের ধারণা নেই।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে দেশেও হতে পারে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। আর তেমন কোনো ঘটনা ঘটলে দেশের পরিস্থিতি কী হবে তা কল্পনাও করতে পারেন না তারা। কারণ ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ যতটুকু সক্ষমতা অর্জন করেছে, তার সিকি ভাগও নেই ভূমিকম্প মোকাবিলায়।

ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ছোট আকারের ভূমিকম্প বেড়েছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, অপ্রশস্ত সড়ক ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাবেই এ ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়েছে।

সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলাও এমন ঝুঁকিতে। ভূগর্ভস্থ ফাটল বা চ্যুতি থাকার কারণে ওই কম্পন হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভেতরে ১৩টি ভূগর্ভস্থ চ্যুতি রয়েছে। তবে তার সব কটি ঢাকা থেকে বেশ দূরে। কিন্তু সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে তীব্র ভূমিকম্প হলে ঢাকায় অনেক ভবন ভেঙে পড়তে পারে।

বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের আসামে ১৮৯৭ সালে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সিলেটের একেবারেই কাছে এবং ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। ওই সময় ঢাকায় মাত্র ১০০টি পাকা দালান ছিল, অধিবাসী ছিল ৯০ হাজার। ওই ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিলসহ ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটেও হয় ক্ষয়ক্ষতি।

সুনামগঞ্জ, জাফলং অংশে ডাউকি ফল্টের পূর্বপ্রান্তেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। এসব ফল্টে ভূমিকম্প হলে সিলেট ও ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বা বিপদের মাত্রা অনেক বেশি রয়েছে।