সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট ভারতীয় পণ্য ও গ্রেফতার দুই সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ৮৪ সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় হামে ১ শিশুর মৃত্যু হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধ ভাঙন, ফসলি জমি প্লাবিত সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসকঐতিহ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়া গোগালী ছড়া বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত সিলেট ভারতীয় মসলার চালান উদ্ধার সিলেটের পীরমহল্লা থেকে অস্ত্রসহ আটক ১ সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১, ভর্তি ৪৩

যুবলীগ নেতা পুলিশের হাত থেকে মাদককারবারিকে ছিনিয়ে নিলেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

 ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক : অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরের জাজিরায় মাদককারবারি ধরতে এসে বড় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির হামলার শিকার হয়েছেন জাজিরা থানার চার পুলিশ সদস্য। এ সময় পুলিশের হাত থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান ওই যুবলীগ নেতা।বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের সূর্যমণি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় এএসআই বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা থানার এএসআই বেলাল ও তার সঙ্গে থাকা তিন পুলিশ সদস্য জোহান, সবুজ ও ফারুক মিলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। তারা সূর্যমণি বাজারের বালুর মাঠের পেছনের নদীর পাড় থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ স্থানীয় আরিফ (২৮) ও কথিত যুবলীগ নেতা সাগর মাদবরের বড়ভাই সবুজ মাদবরকে (৩২) আটক করেন। 
বড় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাগরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় মাদককারবারি ও জুয়াড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডাকাত ডাকাত বলে পুলিশকে মারধর করে।এ সময় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে গাঁজাসহ আটক করা আরিফ ও সবুজকে ছিনিয়ে নিয়ে যান সাগর। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের কিল-ঘুসি মারতে থাকে সবুজ ও সাগরসহ তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা। ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।বিষয়টি জানতে পেরে জাজিরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুজন হকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় কথিত ওই যুবলীগ নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে যান।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এএসআই বেলাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নের মধ্যে ফোরকান মাদবর প্রভাবশালী লোক। সাগর ও সবুজ ফোরকান মাদবের ছোটভাই কুদ্দুস মাদবরের ছেলে। ফোরকানের ভাতিজা হওয়ায় স্থানীয় কেউই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। গত দুদিন আগে জাজিরা থানার এএসআই বেলাল গাঁজা আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাগরের ভাই সবুজকে তাড়া করেন। ওই সময় কৌশলে নদী পাড় হয়ে পালিয়ে যায় সবুজ। ঘটনার পর থেকেই এএসআই বেলালের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সবুজসহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা।

সর্বশেষ বুধবার সন্ধ্যায় বেলালকে পেয়েই তার ওপর চড়াও হন সবুজ ও সাগরসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা। তবে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলালকে চিনে ফেলায় তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।স্থানীয় সালাম ফকির ও লিটন কবিরাজ জানান, সাগর মাদবর কিছু মানুষকে জিম্মি করে পুলিশের ওপর হামলা করিয়েছেন। তার ভাই সবুজের নামে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত এবং ছয়মাস রিহ্যাবে ছিলেন। রিহ্যাব থেকে ফিরে পুনরায় আবার মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা শুরু করে সবুজ; কিন্তু বিপত্তি বাধে পুলিশ সদস্য বেলালকে নিয়ে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত যুবলীগ নেতা সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফোরকান মাদবরকে কল করলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।পুলিশের ওপর হামলা করে মাদককারবারি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, আমি ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুবলীগ নেতা পুলিশের হাত থেকে মাদককারবারিকে ছিনিয়ে নিলেন

আপডেট সময় : ০২:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক : অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরের জাজিরায় মাদককারবারি ধরতে এসে বড় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির হামলার শিকার হয়েছেন জাজিরা থানার চার পুলিশ সদস্য। এ সময় পুলিশের হাত থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান ওই যুবলীগ নেতা।বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের সূর্যমণি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় এএসআই বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বড় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা থানার এএসআই বেলাল ও তার সঙ্গে থাকা তিন পুলিশ সদস্য জোহান, সবুজ ও ফারুক মিলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। তারা সূর্যমণি বাজারের বালুর মাঠের পেছনের নদীর পাড় থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ স্থানীয় আরিফ (২৮) ও কথিত যুবলীগ নেতা সাগর মাদবরের বড়ভাই সবুজ মাদবরকে (৩২) আটক করেন। 
বড় গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাগরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় মাদককারবারি ও জুয়াড়ি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডাকাত ডাকাত বলে পুলিশকে মারধর করে।এ সময় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে গাঁজাসহ আটক করা আরিফ ও সবুজকে ছিনিয়ে নিয়ে যান সাগর। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের কিল-ঘুসি মারতে থাকে সবুজ ও সাগরসহ তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা। ঘটনা বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।বিষয়টি জানতে পেরে জাজিরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সুজন হকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় কথিত ওই যুবলীগ নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে যান।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এএসআই বেলাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নের মধ্যে ফোরকান মাদবর প্রভাবশালী লোক। সাগর ও সবুজ ফোরকান মাদবের ছোটভাই কুদ্দুস মাদবরের ছেলে। ফোরকানের ভাতিজা হওয়ায় স্থানীয় কেউই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। গত দুদিন আগে জাজিরা থানার এএসআই বেলাল গাঁজা আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাগরের ভাই সবুজকে তাড়া করেন। ওই সময় কৌশলে নদী পাড় হয়ে পালিয়ে যায় সবুজ। ঘটনার পর থেকেই এএসআই বেলালের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সবুজসহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা।

সর্বশেষ বুধবার সন্ধ্যায় বেলালকে পেয়েই তার ওপর চড়াও হন সবুজ ও সাগরসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা। তবে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলালকে চিনে ফেলায় তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।স্থানীয় সালাম ফকির ও লিটন কবিরাজ জানান, সাগর মাদবর কিছু মানুষকে জিম্মি করে পুলিশের ওপর হামলা করিয়েছেন। তার ভাই সবুজের নামে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি মাদকাসক্ত এবং ছয়মাস রিহ্যাবে ছিলেন। রিহ্যাব থেকে ফিরে পুনরায় আবার মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা শুরু করে সবুজ; কিন্তু বিপত্তি বাধে পুলিশ সদস্য বেলালকে নিয়ে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত যুবলীগ নেতা সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফোরকান মাদবরকে কল করলে তিনিও কল রিসিভ করেননি।পুলিশের ওপর হামলা করে মাদককারবারি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, আমি ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।