সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট নগর ভবনে জাসাস নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেট মদীনা মার্কেট এলাকা পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সবার সহযোগিতায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়তে চাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ জুন ২০২৯-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সিলেট কারাগার পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব – মনজুর মোর্শেদ স্ব স্ব ধর্ম পালনে কোনো বাধা নেই,, এটাই বাংলাদেশ- কয়েস লোদী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে সিলেটে মাজারের ডেগে চিঠি সিলেট সীমান্তে ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেটে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করায় যুবক আটক সিলেট হযরত শাহজালাল (রা:)র,, দানবাক্স চতুর্থবারের মতো গণনা, দানবাক্সে৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

মৌসুমী ফল যেভাবে সর্দি, কাশির উপশম করে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

এখন বসন্তকাল। ঋতু পরিবর্তনের এ সময় ঘরে ঘরে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দেয়। বসন্তকালের আবহাওয়া যতই মিষ্টি হোক না কেন, এ সময় অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন- চিকেন পক্স, গুটিবসন্ত কিংবা সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, জ্বর ইত্যাদি।সংক্রমিত রোগকে প্রতিরোধ করতে হলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় চাই পর্যাপ্ত পরিমাণ মৌসুমি ফল ও বিভিন্ন রঙের শাকসবজি। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত মৌসুমি ফল ও নানা রঙের শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে সবার জন্য।দেশীয় মৌসুমি ফল খাওয়ার সু-অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের। রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর জন্য খেতে পারি আমরা দেশীয় মৌসুমি ফল, যেমন-পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙ্গা, বাউকুল, বরই ইত্যাদি। এছাড়া মালটা, কমলা, আনার, নাশপাতি, ড্রাগন, আঙুর ফল খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’র সব থেকে ভালো উৎস হলো লেবু।প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আমরা একটি করে লেবু বা লেবুর তৈরি কোনো খাবার যেমন-লেবুর শরবত, লেবু চা খাওয়া যেতে পারে। কিছু ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

* কমলা – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। এমনকি কমলালেবু ওজন কমাতেও সাহায্য করে।কমলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

* মালটা – মালটা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শিশু কিংবা বয়স্কদের জন্য মালটার জুস কিংবা মালটার চা হতে পারে অতুলনীয় পানীয়।

* আনার বা বেদানা – লাল রঙের এবং ছোট ছোট দানাযুক্ত এ ফলটি রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। বেদানা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিহত করে রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

* বরই বা কুল – এ সময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের বরই বা কুল দেখতে পাওয়া যায়। ছোট বাউকুল বা দেশি কুল আমরা যে বরই-ই বলি না কেন রোগ প্রতিরোধ করতে বরই বা কুলের বিকল্প মেলা কঠিন। বরইতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টি যা শরীরের ফ্রি রেডিক্যল মুক্ত করে দেহকে সুস্থ ও নিরোগ রাখতে সাহায্য করে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খেতে পারেন, আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী। মৌসুমি ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সালাদ, ভিন্ন, ভিন্ন রেসিপি করে দেওয়া যেতে পারে। চালতা কিংবা আমড়ার টক রান্না করা, আমলকীর মোরব্বা করা যেতে পারে।বাজারের ক্যামিকেলযুক্ত জ্যাম-জেলি না কিনে ঘরেই এসব মৌসুমি ফল দিয়ে মুখরোচক জ্যাম-জেলি তৈরি করে শিশুদের সকালের নাস্তায় কিংবা স্কুলের টিফিনেও দেওয়া যেতে পারে।

লেখক : ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েটিশিয়ান, উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মৌসুমী ফল যেভাবে সর্দি, কাশির উপশম করে

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

এখন বসন্তকাল। ঋতু পরিবর্তনের এ সময় ঘরে ঘরে ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দেয়। বসন্তকালের আবহাওয়া যতই মিষ্টি হোক না কেন, এ সময় অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন- চিকেন পক্স, গুটিবসন্ত কিংবা সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, জ্বর ইত্যাদি।সংক্রমিত রোগকে প্রতিরোধ করতে হলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় চাই পর্যাপ্ত পরিমাণ মৌসুমি ফল ও বিভিন্ন রঙের শাকসবজি। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত মৌসুমি ফল ও নানা রঙের শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে সবার জন্য।দেশীয় মৌসুমি ফল খাওয়ার সু-অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের। রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর জন্য খেতে পারি আমরা দেশীয় মৌসুমি ফল, যেমন-পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙ্গা, বাউকুল, বরই ইত্যাদি। এছাড়া মালটা, কমলা, আনার, নাশপাতি, ড্রাগন, আঙুর ফল খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘সি’র সব থেকে ভালো উৎস হলো লেবু।প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আমরা একটি করে লেবু বা লেবুর তৈরি কোনো খাবার যেমন-লেবুর শরবত, লেবু চা খাওয়া যেতে পারে। কিছু ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

* কমলা – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি। এমনকি কমলালেবু ওজন কমাতেও সাহায্য করে।কমলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

* মালটা – মালটা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শিশু কিংবা বয়স্কদের জন্য মালটার জুস কিংবা মালটার চা হতে পারে অতুলনীয় পানীয়।

* আনার বা বেদানা – লাল রঙের এবং ছোট ছোট দানাযুক্ত এ ফলটি রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। বেদানা রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিহত করে রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

* বরই বা কুল – এ সময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের বরই বা কুল দেখতে পাওয়া যায়। ছোট বাউকুল বা দেশি কুল আমরা যে বরই-ই বলি না কেন রোগ প্রতিরোধ করতে বরই বা কুলের বিকল্প মেলা কঠিন। বরইতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টি যা শরীরের ফ্রি রেডিক্যল মুক্ত করে দেহকে সুস্থ ও নিরোগ রাখতে সাহায্য করে। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খেতে পারেন, আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী। মৌসুমি ফল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সালাদ, ভিন্ন, ভিন্ন রেসিপি করে দেওয়া যেতে পারে। চালতা কিংবা আমড়ার টক রান্না করা, আমলকীর মোরব্বা করা যেতে পারে।বাজারের ক্যামিকেলযুক্ত জ্যাম-জেলি না কিনে ঘরেই এসব মৌসুমি ফল দিয়ে মুখরোচক জ্যাম-জেলি তৈরি করে শিশুদের সকালের নাস্তায় কিংবা স্কুলের টিফিনেও দেওয়া যেতে পারে।

লেখক : ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েটিশিয়ান, উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা