সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১১৫, প্রাণহানী ২ হবিগঞ্জে থানায় আটকের ২১ ঘন্টা পর মুক্তি পেল আলোচিত সেই’ মাহদি সিলেট উপশহর থেকে বিদেশী নকল টাকাসহ আ*ট*ক ২ সিলেটের রায়নগরে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের শাস্তির দাবি সিলেট বেকারি ফ্যাক্টরি ও মসলা গুড়াকরণ মিলে প্রশাসনের অভিযানে দুটি মামলায় ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড সিলেট ভারতে পাচারকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা— সিলেটে বদলি গণপূর্তের ১৩ প্রকৌশলী

সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১১৫, প্রাণহানী ২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :                              

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১১৫ জন। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ১৮ আগস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৯৮৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে ৪৫ জন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৪৫ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১০ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ১২ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং ৩ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে হবিগঞ্জের তাসমিন নামে ৬ মাস ৮ দিনের এক শিশু ও বিশ্বনাথের ৯ মাস বয়সী আরেক শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল ও অন্যান্য তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর হিসাবেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৮, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের—সিলেটে ৪, মৌলভীবাজারে ১ এবং সুনামগঞ্জে ১ জন। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে।

নতুন আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা সিলেট বিভাগের হাম পরিস্থিতি যে এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে একদিনে ১১৫ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং একই সময়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী ভর্তি রয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১১৫, প্রাণহানী ২

আপডেট সময় : ১২:০৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :                              

সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১১৫ জন। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ১৮ আগস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৯৮৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে ৪৫ জন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৪৫ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১০ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ১২ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং ৩ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৫ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে হবিগঞ্জের তাসমিন নামে ৬ মাস ৮ দিনের এক শিশু ও বিশ্বনাথের ৯ মাস বয়সী আরেক শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল ও অন্যান্য তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর হিসাবেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৪৮, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১২ এবং সুনামগঞ্জে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের—সিলেটে ৪, মৌলভীবাজারে ১ এবং সুনামগঞ্জে ১ জন। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে।

নতুন আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা সিলেট বিভাগের হাম পরিস্থিতি যে এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে একদিনে ১১৫ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং একই সময়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী ভর্তি রয়েছেন সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে।