সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ জুন ২০২৯-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সিলেট কারাগার পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব – মনজুর মোর্শেদ স্ব স্ব ধর্ম পালনে কোনো বাধা নেই,, এটাই বাংলাদেশ- কয়েস লোদী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে সিলেটে মাজারের ডেগে চিঠি সিলেট সীমান্তে ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেটে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করায় যুবক আটক সিলেট হযরত শাহজালাল (রা:)র,, দানবাক্স চতুর্থবারের মতো গণনা, দানবাক্সে৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি

সিলেটের রায়নগরে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের শাস্তির দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান।

এই হত্যাকান্ডের ৫ দিন পর সোমবার সকালে রায়নগরের ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

সকালে মিতালি আবাসিক এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানান নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার।

একইসাথে আব্দুস সাত্তার- সুরাইয়া বেগম দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি ও সংবাদ অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি।

এছাড়া পরিবারের নিহত তিনজনের আত্মার শান্তির জন্য সবার দোয়া, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও দ্রুত সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই মামলায় নিরপরাধ কেউ যদি হয়রারি শিকার না হয়, একইসঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ যেনো পার পেয়ে না যায়।

তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানাবো। নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কোন প্রশ্নের উত্তর দেন নি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিহত আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্য কখনো চাপা পড়বে না একসময় প্রকাশিত হবেই৷

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর এলাকায় মিতালী ১১১ নম্বর বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৫) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন। এই দম্পতির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন।

ঘটনার দিন বেলা ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও প্রয়াত নূর মিয়া ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা স্বীকার করেন জানিয়ে পুলিশ জানায়, ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে প্রেমের জেরে তিনজনকে বাবুল হত্যা করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

যদিও নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পুলিশের এমন দাবি অস্বীকার করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের তিনদিন পর শুক্রবার রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এজহারে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরেই তার বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের রায়নগরে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের শাস্তির দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৫১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতির সন্তানরা সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান।

এই হত্যাকান্ডের ৫ দিন পর সোমবার সকালে রায়নগরের ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

সকালে মিতালি আবাসিক এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানান নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার।

একইসাথে আব্দুস সাত্তার- সুরাইয়া বেগম দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি ও সংবাদ অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি।

এছাড়া পরিবারের নিহত তিনজনের আত্মার শান্তির জন্য সবার দোয়া, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও দ্রুত সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই মামলায় নিরপরাধ কেউ যদি হয়রারি শিকার না হয়, একইসঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ যেনো পার পেয়ে না যায়।

তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানাবো। নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে কোন প্রশ্নের উত্তর দেন নি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিহত আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্য কখনো চাপা পড়বে না একসময় প্রকাশিত হবেই৷

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর এলাকায় মিতালী ১১১ নম্বর বাসার মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৫) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি রায়নগরে নিজের বাসায়ই থাকতেন। এই দম্পতির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন।

ঘটনার দিন বেলা ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও প্রয়াত নূর মিয়া ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা স্বীকার করেন জানিয়ে পুলিশ জানায়, ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে প্রেমের জেরে তিনজনকে বাবুল হত্যা করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

যদিও নিহত দম্পতির পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পুলিশের এমন দাবি অস্বীকার করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডের তিনদিন পর শুক্রবার রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এজহারে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরেই তার বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।