সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি :

বাহুবল উপজেলা সদর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) প্রয়োগ করা হলেও তা ৩-৪ দিন আগেই দেওয়া হয়। এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাইম কোড সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে সড়কের কোথাও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রাইম কোড না দিয়ে এবং পড়ে থাকা ময়লার আবর্জনার উপরই দীর্ঘ অংশ জুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাইম কোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। পরিস্থিতি যে কোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন বলেন, “ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া মানে কাজ না করে টাকা নষ্ট করা। এভাবে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।” এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাধনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির ঘাটতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, “প্রাইম কোড দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল বা বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।


সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি না হলে এ প্রকল্প দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় কে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখতেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

আপডেট সময় : ০৫:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাহুবল প্রতিনিধি :

বাহুবল উপজেলা সদর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) প্রয়োগ করা হলেও তা ৩-৪ দিন আগেই দেওয়া হয়। এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাইম কোড সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে সড়কের কোথাও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রাইম কোড না দিয়ে এবং পড়ে থাকা ময়লার আবর্জনার উপরই দীর্ঘ অংশ জুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাইম কোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। পরিস্থিতি যে কোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন বলেন, “ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া মানে কাজ না করে টাকা নষ্ট করা। এভাবে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।” এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাধনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির ঘাটতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, “প্রাইম কোড দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল বা বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।


সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি না হলে এ প্রকল্প দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় কে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখতেছি।