সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ১৪২ বার পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি :

বাহুবল উপজেলা সদর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) প্রয়োগ করা হলেও তা ৩-৪ দিন আগেই দেওয়া হয়। এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাইম কোড সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে সড়কের কোথাও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রাইম কোড না দিয়ে এবং পড়ে থাকা ময়লার আবর্জনার উপরই দীর্ঘ অংশ জুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাইম কোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। পরিস্থিতি যে কোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন বলেন, “ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া মানে কাজ না করে টাকা নষ্ট করা। এভাবে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।” এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাধনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির ঘাটতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, “প্রাইম কোড দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল বা বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।


সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি না হলে এ প্রকল্প দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় কে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখতেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

আপডেট সময় : ০৫:১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাহুবল প্রতিনিধি :

বাহুবল উপজেলা সদর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে দায়সারা কাজ, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির চরম ঘাটতিতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে পিচ ঢালার পূর্বে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোড (স্থানীয়ভাবে ‘ভিটামিন’) প্রয়োগ করা হলেও তা ৩-৪ দিন আগেই দেওয়া হয়। এর মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাইম কোড সম্পূর্ণ ধুয়ে গেছে। ফলে সড়কের কোথাও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় প্রাইম কোড না দিয়ে এবং পড়ে থাকা ময়লার আবর্জনার উপরই দীর্ঘ অংশ জুড়ে পিচ ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাইম কোড ছাড়া পিচ ঢাললে তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর নতুন সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু শুরুতেই এমন অনিয়ম দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তারা। পরিস্থিতি যে কোনো সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জুবাঈদ আহমদ বলেন, “আমরা কয়েকদিন ধরে বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে কাজ হলে এই রাস্তা কয়েক মাসও টিকবে না।”
আরেক বাসিন্দা নুরুদ্দীন বলেন, “ভিটামিন ছাড়া পিচ দেওয়া মানে কাজ না করে টাকা নষ্ট করা। এভাবে কাজ করার চেয়ে না করাই ভালো।” এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাধনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি, যা তদারকির ঘাটতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এলজিইডির সার্ভেয়ার উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন, “প্রাইম কোড দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল বা বৃষ্টির কারণে তা উঠে গেলে পুনরায় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় প্রাইম কোড দিয়ে পিচ করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভোগান্তির পর পাওয়া এই সড়কটি যদি শুরুতেই অনিয়মের শিকার হয়, তবে তা সরকারের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়াবে।


সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি না হলে এ প্রকল্প দুর্নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় কে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখতেছি।