ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চলছে ম্যানুয়ালি, বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে ওলামা দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সিলেটে হাসপাতালে হাম আক্রান্তে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১০১ উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে মাঠে সিসিক প্রশাসক – আব্দুল কাইয়ুম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে সিলেট শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ সিলেটে ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিক সিলেটে হাম-রুবেলা টিকাদানের উদ্যোগ আপাতত নেয়া হচ্ছে না, তবে সবধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে- সিসিক সিলেট বিভাগের তিন জেলায় নদীর উপর ৬টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে কালনী নদী। দিন দিন এই নদীটি ভয়ানক রুপ ধারন করছে। শাল্লা উপজেলা, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে হাজারো মানুষ।

প্রতিদিন ভাঙনের ফলে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে সর্বনাশা কালনীর গর্ভে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর, গ্রাম শাল্লা ও ফয়েজুল্লাহপুর এলাকায় পাউবো’র জরুরী ফান্ড থেকে নদী রক্ষা রোধ প্রকল্পের আওতায় লোক দেখানো কাজ করা হলেও কোনো উপকারে আসেনি। জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা এসব এলাকায় ভাঙ্গনের প্রকটতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যার ফলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে শাল্লা উপজেলার সাউধেরশ্রী গ্রামের পাশে নতুন করে ভয়ানক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙ্গনে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ফসলী জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থার আশ্বাস মিলেনি।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ১যুগের ও বেশি সময় ধরে কালনী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শাল্লা উপজেলার নদীর তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের ৮-১০ টি গ্রাম। শাল্লা উপজেলার মার্কুলি, টুকচানপুর, ফয়েজুল্লাপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর, ভেড়াডহর, মেদা মুসাপুর ও গ্রাম শাল্লায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। রক্ষা পায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ ও শ্মশান। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে আছে আরো অসংখ্য বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এব্যাপারে সাউধেরশ্রী গ্রামের আশিষ সরকার জানান, কালনী নদীর ভাঙ্গনে গ্রামের একমাত্র পাঁকা রাস্তাটি বিলীন হয়ে গ্রামের দিকে চলে আসছে। এছাড়াও ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে যেকোনো সময় ফসলী জমিগুলো নদীর করাল গ্রাসে চলে যাবে। তাই এসব রক্ষায় জরুরীভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবী জানাই বর্তমান সরকারের কাছে। একই মন্তব্য করেন ফয়জুল্লাপুর, প্রতাপপুর, ভেড়াডহর সহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষজন।

শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ওবায়দুল হক সিলেটভিউ-কে জানান, কালনী নদীর সাউধেরশ্রী এলাকার বাঁধের নিকট ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। মুলত এই এলাকাটি হবিগঞ্জের পাশে থাকায় হবিগঞ্জ জেলা থেকে বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ হবে। আমরা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ঠেকাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ- কালনী নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব শতাধিক পরিবার, আতঙ্কে অসংখ্য মানুষ

আপডেট সময় : ০২:১৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে কালনী নদী। দিন দিন এই নদীটি ভয়ানক রুপ ধারন করছে। শাল্লা উপজেলা, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে হাজারো মানুষ।

প্রতিদিন ভাঙনের ফলে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে সর্বনাশা কালনীর গর্ভে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর, গ্রাম শাল্লা ও ফয়েজুল্লাহপুর এলাকায় পাউবো’র জরুরী ফান্ড থেকে নদী রক্ষা রোধ প্রকল্পের আওতায় লোক দেখানো কাজ করা হলেও কোনো উপকারে আসেনি। জিও ব্যাগের প্রতিরক্ষা এসব এলাকায় ভাঙ্গনের প্রকটতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। যার ফলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে শাল্লা উপজেলার সাউধেরশ্রী গ্রামের পাশে নতুন করে ভয়ানক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এই ভাঙ্গনে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ফসলী জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থার আশ্বাস মিলেনি।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ১যুগের ও বেশি সময় ধরে কালনী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শাল্লা উপজেলার নদীর তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের ৮-১০ টি গ্রাম। শাল্লা উপজেলার মার্কুলি, টুকচানপুর, ফয়েজুল্লাপুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর, ভেড়াডহর, মেদা মুসাপুর ও গ্রাম শাল্লায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। রক্ষা পায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ ও শ্মশান। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে আছে আরো অসংখ্য বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এব্যাপারে সাউধেরশ্রী গ্রামের আশিষ সরকার জানান, কালনী নদীর ভাঙ্গনে গ্রামের একমাত্র পাঁকা রাস্তাটি বিলীন হয়ে গ্রামের দিকে চলে আসছে। এছাড়াও ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে যেকোনো সময় ফসলী জমিগুলো নদীর করাল গ্রাসে চলে যাবে। তাই এসব রক্ষায় জরুরীভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবী জানাই বর্তমান সরকারের কাছে। একই মন্তব্য করেন ফয়জুল্লাপুর, প্রতাপপুর, ভেড়াডহর সহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষজন।

শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী ওবায়দুল হক সিলেটভিউ-কে জানান, কালনী নদীর সাউধেরশ্রী এলাকার বাঁধের নিকট ভয়াবহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। মুলত এই এলাকাটি হবিগঞ্জের পাশে থাকায় হবিগঞ্জ জেলা থেকে বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ হবে। আমরা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ঠেকাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।