সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬ এর সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সিলেট মহানগরীর সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ডিসি সারওয়ারকে পদায়ন করল সরকার সিলেটে ভারী বর্ষণ, সুরমা ও কুশিয়ারার ১২ দশমিক ০২ মিটার উচ্চতায় পানি বাড়ছে সিলেটের দুই মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নতুন দানবাক্স স্থাপন ও পূর্বের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা সিলেটে ভারতের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও ঢলের কারণে তলিয়ে গেছে পর্যটনকেন্দ্র, সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যাহার সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা 

সিলেটের ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙার কাজ অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙার কাজ অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েক দিন ধরে স্থানীয়রা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়িটি রক্ষা ও সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিল। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে আবারও ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।

‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’সহ বিভিন্ন সংগঠন শনিবার (২৫ অক্টোবর) মিনিস্টার বাড়ির সামনে মানববন্ধন করে বাড়িটির সংরক্ষণের দাবি জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক ও স্থানীয় ইতিহাস-প্রেমীরা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছাঃ নাহিদ সুলতানা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এ বাড়িটি সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

‘মিনিস্টার বাড়ি’ প্রায় শতবর্ষী স্থাপনা, যা সিলেটের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি নির্মাণ করেছিলেন আইনজীবী ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদ। ব্রিটিশ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপনা সভার সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরে ১৯৪৭-৫৪ সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই পরিচয়ের জন্যই স্থানীয়রা বাড়িটিকে ‘মিনিস্টার বাড়ি’ নামে সম্বোধন করেন।

বাড়িটি বহু খ্যাতনামা ব্যক্তির পদধূলি স্বাক্ষী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতে ছিলেন। স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে মালিকপক্ষ বাড়িটিকে ধ্বংস না করে সংস্কার ও জাদুঘরের আকারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙার কাজ অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে

আপডেট সময় : ১২:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙার কাজ অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়েক দিন ধরে স্থানীয়রা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়িটি রক্ষা ও সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিল। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করে আবারও ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।

‘পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট’সহ বিভিন্ন সংগঠন শনিবার (২৫ অক্টোবর) মিনিস্টার বাড়ির সামনে মানববন্ধন করে বাড়িটির সংরক্ষণের দাবি জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক ও স্থানীয় ইতিহাস-প্রেমীরা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছাঃ নাহিদ সুলতানা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এ বাড়িটি সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

‘মিনিস্টার বাড়ি’ প্রায় শতবর্ষী স্থাপনা, যা সিলেটের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি নির্মাণ করেছিলেন আইনজীবী ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদ। ব্রিটিশ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপনা সভার সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরে ১৯৪৭-৫৪ সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই পরিচয়ের জন্যই স্থানীয়রা বাড়িটিকে ‘মিনিস্টার বাড়ি’ নামে সম্বোধন করেন।

বাড়িটি বহু খ্যাতনামা ব্যক্তির পদধূলি স্বাক্ষী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতে ছিলেন। স্থানীয় ইতিহাসপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে মালিকপক্ষ বাড়িটিকে ধ্বংস না করে সংস্কার ও জাদুঘরের আকারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে।