সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ সিলেটে স্বামী উপপরিচালক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্ত্রী! জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাধবপুর ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৩ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সিলেটে কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, আহত ২

দাম্পত্য জীবনকে মধুর করতে যেভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে দাম্পত্যজীবন। এ সম্পর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো— একে অপরের সম্মান, পরস্পরকে মর্যাদা দেওয়া এবং প্রশংসা করা। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রতি তার গুণাবলি প্রকাশ, ভালোবাসার কথা জানানো এবং প্রশংসা করা, যা একজন স্বামীর সচেতনতার পরিচয় বহন করে থাকে।

ইসলাম এ মানবিক সৌন্দর্যকে উৎসাহিত করেছে। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই এর অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তার জীবনচরিত অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই— তিনি কেবল স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা-ই নয়, বরং তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। তার স্ত্রীদের বর্ণিত হাদিস থেকে এ কথা বারবারই উঠে এসেছে।

হজরত খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতবার প্রশংসা করেছেন যে, হজরত আয়েশার (রা.) মতো একজন গুণবতী স্ত্রীও কখনো কখনো ইর্ষান্বিত হতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) স্ত্রীদের মাঝে খাদিজার (রা.) চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি অধিক ইর্ষা করিনি। কারণ নবী (সা.) প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫২২৯)

এ ছাড়া হজরত আয়েশার (রা.) প্রশংসা করেও চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করে বলেছেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন— পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও ইমরানের কন্যা মরিয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হননি।

তবে আয়েশার মর্যাদা সব নারীর ওপর এমন যে, সারিদের (তৎকালীন জনপ্রিয় বিশেষ খাবার) মর্যাদা সব প্রকার খাদ্যের ওপর। (সহিহ বুখারি: ৩৪১১)। এ হাদিসে নবীজি যে চমৎকার রূপকে স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ইবাদত ও চরিত্রের গভীর স্বীকৃতি।

স্ত্রীর প্রশংসা কেবল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নবী কারিম (সা.) সুন্নত। স্বামী যখন স্ত্রীর প্রশংসা করে, তখন তা দাম্পত্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে, অন্তরজুড়ে নিয়ে আসে বিশ্বাস, প্রশান্তি  আর ভালোবাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দাম্পত্য জীবনকে মধুর করতে যেভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবেন

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে দাম্পত্যজীবন। এ সম্পর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো— একে অপরের সম্মান, পরস্পরকে মর্যাদা দেওয়া এবং প্রশংসা করা। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রতি তার গুণাবলি প্রকাশ, ভালোবাসার কথা জানানো এবং প্রশংসা করা, যা একজন স্বামীর সচেতনতার পরিচয় বহন করে থাকে।

ইসলাম এ মানবিক সৌন্দর্যকে উৎসাহিত করেছে। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই এর অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তার জীবনচরিত অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই— তিনি কেবল স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা-ই নয়, বরং তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। তার স্ত্রীদের বর্ণিত হাদিস থেকে এ কথা বারবারই উঠে এসেছে।

হজরত খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতবার প্রশংসা করেছেন যে, হজরত আয়েশার (রা.) মতো একজন গুণবতী স্ত্রীও কখনো কখনো ইর্ষান্বিত হতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) স্ত্রীদের মাঝে খাদিজার (রা.) চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি অধিক ইর্ষা করিনি। কারণ নবী (সা.) প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫২২৯)

এ ছাড়া হজরত আয়েশার (রা.) প্রশংসা করেও চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করে বলেছেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন— পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও ইমরানের কন্যা মরিয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হননি।

তবে আয়েশার মর্যাদা সব নারীর ওপর এমন যে, সারিদের (তৎকালীন জনপ্রিয় বিশেষ খাবার) মর্যাদা সব প্রকার খাদ্যের ওপর। (সহিহ বুখারি: ৩৪১১)। এ হাদিসে নবীজি যে চমৎকার রূপকে স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ইবাদত ও চরিত্রের গভীর স্বীকৃতি।

স্ত্রীর প্রশংসা কেবল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নবী কারিম (সা.) সুন্নত। স্বামী যখন স্ত্রীর প্রশংসা করে, তখন তা দাম্পত্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে, অন্তরজুড়ে নিয়ে আসে বিশ্বাস, প্রশান্তি  আর ভালোবাসা।