সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে জাফলং,পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রকৃতির বিনাশ- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারগানের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারে ক্লিনার আহত সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পাখি তাড়াতে গুলি, আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী অসময়ে মেলা আয়োজন করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে’- মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটে আটক ২৭ যানবাহন, মামলা ২১ সিলেট জকিগঞ্জ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ,আটক ২ সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী  কোনো চক্রান্তই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না: খন্দকার মুক্তাদির লালাখাল চা বাগানে গীতা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ সিলেট নারী হকি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে- সিসিক প্রশাসক

দাম্পত্য জীবনকে মধুর করতে যেভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে দাম্পত্যজীবন। এ সম্পর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো— একে অপরের সম্মান, পরস্পরকে মর্যাদা দেওয়া এবং প্রশংসা করা। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রতি তার গুণাবলি প্রকাশ, ভালোবাসার কথা জানানো এবং প্রশংসা করা, যা একজন স্বামীর সচেতনতার পরিচয় বহন করে থাকে।

ইসলাম এ মানবিক সৌন্দর্যকে উৎসাহিত করেছে। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই এর অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তার জীবনচরিত অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই— তিনি কেবল স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা-ই নয়, বরং তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। তার স্ত্রীদের বর্ণিত হাদিস থেকে এ কথা বারবারই উঠে এসেছে।

হজরত খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতবার প্রশংসা করেছেন যে, হজরত আয়েশার (রা.) মতো একজন গুণবতী স্ত্রীও কখনো কখনো ইর্ষান্বিত হতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) স্ত্রীদের মাঝে খাদিজার (রা.) চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি অধিক ইর্ষা করিনি। কারণ নবী (সা.) প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫২২৯)

এ ছাড়া হজরত আয়েশার (রা.) প্রশংসা করেও চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করে বলেছেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন— পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও ইমরানের কন্যা মরিয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হননি।

তবে আয়েশার মর্যাদা সব নারীর ওপর এমন যে, সারিদের (তৎকালীন জনপ্রিয় বিশেষ খাবার) মর্যাদা সব প্রকার খাদ্যের ওপর। (সহিহ বুখারি: ৩৪১১)। এ হাদিসে নবীজি যে চমৎকার রূপকে স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ইবাদত ও চরিত্রের গভীর স্বীকৃতি।

স্ত্রীর প্রশংসা কেবল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নবী কারিম (সা.) সুন্নত। স্বামী যখন স্ত্রীর প্রশংসা করে, তখন তা দাম্পত্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে, অন্তরজুড়ে নিয়ে আসে বিশ্বাস, প্রশান্তি  আর ভালোবাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দাম্পত্য জীবনকে মধুর করতে যেভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবেন

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে দাম্পত্যজীবন। এ সম্পর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো— একে অপরের সম্মান, পরস্পরকে মর্যাদা দেওয়া এবং প্রশংসা করা। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রতি তার গুণাবলি প্রকাশ, ভালোবাসার কথা জানানো এবং প্রশংসা করা, যা একজন স্বামীর সচেতনতার পরিচয় বহন করে থাকে।

ইসলাম এ মানবিক সৌন্দর্যকে উৎসাহিত করেছে। আর আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই এর অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন। তার জীবনচরিত অধ্যয়ন করলে আমরা দেখতে পাই— তিনি কেবল স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা-ই নয়, বরং তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন স্ত্রীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা। তার স্ত্রীদের বর্ণিত হাদিস থেকে এ কথা বারবারই উঠে এসেছে।

হজরত খাদিজার (রা.) মৃত্যুর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এতবার প্রশংসা করেছেন যে, হজরত আয়েশার (রা.) মতো একজন গুণবতী স্ত্রীও কখনো কখনো ইর্ষান্বিত হতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) স্ত্রীদের মাঝে খাদিজার (রা.) চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি অধিক ইর্ষা করিনি। কারণ নবী (সা.) প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। (সহিহ বুখারি: ৫২২৯)

এ ছাড়া হজরত আয়েশার (রা.) প্রশংসা করেও চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। হজরত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করে বলেছেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন— পুরুষের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করেছেন। কিন্তু নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ও ইমরানের কন্যা মরিয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হননি।

তবে আয়েশার মর্যাদা সব নারীর ওপর এমন যে, সারিদের (তৎকালীন জনপ্রিয় বিশেষ খাবার) মর্যাদা সব প্রকার খাদ্যের ওপর। (সহিহ বুখারি: ৩৪১১)। এ হাদিসে নবীজি যে চমৎকার রূপকে স্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং তার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, ইবাদত ও চরিত্রের গভীর স্বীকৃতি।

স্ত্রীর প্রশংসা কেবল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নবী কারিম (সা.) সুন্নত। স্বামী যখন স্ত্রীর প্রশংসা করে, তখন তা দাম্পত্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে, অন্তরজুড়ে নিয়ে আসে বিশ্বাস, প্রশান্তি  আর ভালোবাসা।