ছাত্রদের কঠোর হয়ে দমন করতে চাই না, সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে-কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবিদক :
কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ছাত্রদের কঠোর হয়ে দমন করতে চাই না। কলেজের সমস্যা শিক্ষকসহ অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। এজন্য কারো রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই। আজ ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
যারা আন্দোলন করছে তারা আমারই ভাই, কার উপরে কঠোর হব উল্লেখ করে উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। রাস্তা ব্লক না করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে দাবি জানানোর আহ্বান করেন তিনি। হাওরের কৃষি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি পণ্যে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন কি না সেটা দেখার বিষয়। কোন মধ্যস্বত্তভোগী যাতে সুবিধা নিতে না পারে সে বিষয়ে সবার কড়া নজরদারীর কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, সুনামগঞ্জ জেলার প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার আ. ফ. ম. আনোয়ার হোসেন খান, সুনামগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমন দোজ্জা, কবি নজরুল সরকারি কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

মাটিয়ান হাওর পরিদর্শন শেষে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ রক্ষা করেই বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, হাওরের বোরো ধান রক্ষায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষে হবে। আজ ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর পরিদর্শনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
‘হাওরে যেভাবে পলিথিন দেখলাম, এসব বিষয়ে আমরা একটি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি। হাওরের পরিবেশ-প্রকৃতি কীভাবে ঠিক থাকবে, তা নিয়ে আমরা একটি পরিকল্পনা করছি।’ উল্লেখ করে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, সে সঙ্গে ফসল রক্ষা বাঁধের বরাদ্দের নামে অহেতুক কোন প্রকল্প নেওয়া হবে না, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। এক কথায় পরিবেশ রক্ষা করেই বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
পাশাপাশি টাঙ্গুয়ার হাওরে টুরিজম কার্যক্রম চলবে, তবে তা নিয়ন্ত্রিত এবং পর্যাপ্ত নজরদারির মধ্যে থাকবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, হাওরাঞ্চলের লাখো লাখো মানুষ বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে বড় ধরনের বন্যা আসার আগে কৃষকরা সোনালি ধান ঘরে তুলতে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব নাজমুল আহসান, জেলা প্রশাসক ড. মো. ইলিয়াছ মিয়া, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে তিনি টাঙ্গুয়ার হাওরের বাঁধসহ বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন।
এ বছর ১৩৪ হাওরের বোরো ধান রক্ষায় ১৭০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সকল পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে- কৃষি উপদেষ্টা।
কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সকল পতিত জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। উপদেষ্টা আজ সিলেট আঞ্চলিক কৃষি অফিসারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সিলেট অঞ্চলের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার সাথে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, কৃষিতে প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে কৃষকের লাভ, কৃষির উন্নতি ও ফলন বাড়ানোর বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে সকলকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। উপদেষ্টা বলেন,জনসংখ্যা বাড়ছে, কৃষি জমি কমছে। তারপরও ১৮ কোটি লোককে খাওয়াতে পারছেন। এ কৃতিত্ব কৃষক, কৃষিবিদ, গবেষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সবার। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অনেক কাজ করেছে। তাই ধানের উৎপাদন বেড়েছে।এখন ধান উৎপাদনে ১২০ দিন লাগে। এসময় কিভাবে ১০০ দিনে আনা যায় সেই জাত উদ্ভাবনের কাজ করার জন্য ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটকে নির্দেশনা দেন।
উপদেষ্টা বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার যত কমানো যায়। ভূ-পৃষ্ঠের উপরের (সারফেস) পানি ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণে ঘাসজাত আগাছার কারনে চাষ ব্যহত হচ্ছে। এ সমস্যা দূরীকরণে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করার ক্ষেত্রে যেন কোন দূর্নীতি না হয়।
উপদেষ্টা বলেন, কৃষিতে প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে কৃষকের লাভ, কৃষির উন্নতি ও ফলন বাড়ানোর বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। উপদেষ্টা এ বিষয়ে সকলকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। সার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আপাতত সারের কোন সংকট নাই। বীজেরও সংকট হবে না। কৃষক যাতে পরামর্শ, সার, বীজ ও পানি ঠিকমতো পায়। সারের ব্যবহার পরিমিত পরিমাণে করতে হবে। জৈব সার ব্যবহার বাড়াতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাজারে কৃষি পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে মনিটরিং করতে হবে। কৃষি বিষয়ক সকল পরিসংখ্যান যেন নির্ভরযোগ্য ও সঠিক হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
উপদেষ্টা বলেন, কৃষি জমি কোন ভাবেই কমানো যাবে না। কৃষি বিষয়ক যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি উপদেষ্টা বলেন, এবার আমনের ফলন বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় আমন উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা আশা করছি বোরো ফলন ভালো হবে। দেশে চালের সংকট হবে না।
এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বিভাগীয় কমিশনার সিলেটসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
























