ইরানে ভোটগ্রহণ শুরু, ভোট দিলেন সর্বোচ্চ নেতা
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
ইরানে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
ভোটগ্রহণের প্রথম প্রহরেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি হুসেইনিয়ায় ভোট দেন সর্বোচ্চ নেতা।
এদিন সকাল ৮টায় যে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, স্বাভাবিক নিয়মে ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে এ সময়ের পরও ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি থাকা সাপেক্ষে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো যাবে।
এছাড়া ভোটগ্রহণের পর যেহেতু ব্যালটগুলো ম্যানুয়ালি গণনা করা হয়, তাই চূড়ান্ত ফলাফল আগামী দুই দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ফলাফলের প্রাথমিক প্রবণতা বা প্রাথমিক পরিসংখ্যান শিগগিরই সামনে আসতে পারে।
নিজের ভোট ব্যালট বাক্সে ফেলার পর সর্বোচ্চ নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন একটি আনন্দের দিন। কারণ, এদিন জনগণ আগামী কয়েক বছরের জন্য তাদের সরকার প্রধানকে নির্বাচন করবেন। ইরানের শক্তিমত্তা ও সম্মান এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে।
এ সময় তিনি সর্বস্তরের জনগণকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে তাদের রায় প্রদানের আহ্বান জানান। খামেনি বলেন, আমি আশা করব ইরানি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবেন। ভোটপ্রদান এমন একটি কাজ যার জন্য কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না, কিন্তু এর মাধ্যমে অনেক সুফল পাওয়া যায়। যে কাজে খরচ নেই কিন্তু অনেক সুফল তা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
শুক্রবারের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে মূলত চার প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন, মাসুদ পেজেশকিয়ান, মোস্তফা পুরমোহাম্মাদি, সাইদ জলিলি এবং মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।
যদিও নির্বাচনের ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই, তবে ভোটের ফলাফলটি সাড়ে তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ৮৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন যে চার প্রার্থী

আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসির আকস্মিক মৃত্যুর কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটিতে। তবে শেষ মুহূর্তে বুধবার ছয় প্রার্থীর দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
একজন হলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজিজাদেহ হাশেমি এবং আরেকজন রাজধানী তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি। অবশেষে চূড়ান্তভাবে এবারের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াইয়ে করছেন চার প্রার্থী। এপি, আলজাজিরা।
মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ
ইরানের পরিচিত রক্ষণশীল নেতা মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ (৬২)। ২০২০ সাল থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারণায় ঘালিবাফ সব থেকে বেশি এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তিনিই ইরানকে সংকট থেকে বাঁচাতে পারেন বলেও ধারণা করছেন অনেকেই।
সাঈদ জালিলি
৫৮ বছরের সাঈদ জালিলি একজন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তার।
মাসুদ পেজেশকিয়ান
এবারের প্রার্থীদের মধ্যে পেজেশকিয়ানই সবচেয়ে বয়স্ক এবং একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী। তিনি একজন হার্ট সার্জনও। পেজেশকিয়ান বরাবর ইরানের বর্তমান শাসকদের সমালোচনা করে এসেছেন।
মোস্তফা পুরমোহাম্মদি
৬৪ বছর বয়সি মোস্তফা পুরমোহাম্মদি এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা একমাত্র শিয়া ধর্মীয় নেতা। পুরমোহাম্মদি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।
এদিকে নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজিজাদেহ হাশেমি। বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন হাশেমি। এর পরই নির্বাচন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আরেক নেতা তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি।
এরই মধ্যে, নির্বাচন শুরু হতে না হতেই সর্বোচ্চ নেতা খামেনির অনুগত প্রার্থীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট দৌড়ে খামেনির ঘনিষ্ঠরাই এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির ঘনিষ্ঠ কেউ একজনই এই নির্বাচনে জয় পাবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৮০ জন প্রার্থীর নিবন্ধিত ফরম থেকে খামেনির অনুগত প্রার্থীদের অনুমোদন করেছে গার্ডিয়ান কাউন্সিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী

বুধবার এক প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন। তার নাম আমির–হোসেইন গাজিজাদেহ হাশেমি। জানা গেছে, ৫৩ বছর বয়সি চরম রক্ষণশীল একজন নেতা তিনি। চিকিৎসক গাজিজাদেহ হাশেমি রাইসি সরকারের একজন কট্টর সমর্থক।
ইরানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় গত মাসে ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি বাছাইয়ে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ পদে বাকী পাঁচ প্রার্থীর চারজনই রক্ষণশীল, একজন সংস্কারপন্থী। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেই:
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
৬২ বছর বয়সি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইরানের একজন পরিচিত রক্ষণশীল নেতা। ২০২০ সাল থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ইরানের উত্তর–পূর্বের নগরী মাশহাদের কাছে ১৯৬১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন গালিবাফ। রাজধানী তেহরানের মেয়রের দায়িত্ব পালনসহ তিনি সরকারি নানা পদে ছিলেন।
এর আগে ২০০৫, ২০১৩ ও ২০১৭ সালেও গালিবাফ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। তবে শেষবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি রাইসিকে সমর্থন দেন।
রাজনীতিতে আসার আগে গালিবাফ ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁকে রেভল্যুশনারি গার্ডের বিমানবাহিনীর প্রধান করেছিলেন। আর ২০০০ সালে পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বাঘের গালিবাফের নাম ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
সাঈদ জালিলি
আরও একজন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী ৫৮ বছরের সাঈদ জালিলি। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি।
জালিলি ঘোর পশ্চিমাবিরোধী। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন জালিলি। খামেনি তাকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিলেন।
জালিলি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি পা হারান।
২০১৩ সালে জালিলি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। ২০১৭ সালে রাইসিকে সমর্থন দিয়ে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
মাসুদ পেজেশকিয়ান
এবারের প্রার্থীদের মধ্যে পেজেশকিয়ানই সবচেয়ে বয়স্ক এবং একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী। ১৯৫৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া পেজেশকিয়ান একজন হার্ট সার্জন। ২০০৮ সাল থেকে টানা উত্তর–পশ্চিমের নগরী তাবরিজ থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বরাবর ইরানের বর্তমান শাসকদের সমালোচনা করে এসেছেন। ইরানের সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
যে বছর (২০২১ সাল) রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, সে বছর পেজেশকিয়ান অন্য সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন।
২০২২ সালে তেহরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল সে সময় রাইসি সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পেজেশকিয়ান।
মোস্তফা পুরমোহাম্মদি
৬৪ বছর বয়সি মোস্তফা পুরমোহাম্মদি এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা একমাত্র ধর্মীয় নেতা। রক্ষণশীল ও অভিজ্ঞ এ রাজনীতিক ১৯৫৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর কুমনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
পুরমোহাম্মদি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।
কট্টর রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন পুরমোহাম্মদি। আবার মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলে বিচারমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
আলিরেজা জাকানি
৫৮ বছর বয়সি আলিরেজা জাকানি কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিক। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে তেহরানের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
১৯৬৫ সালের ২ এপ্রিল রাজধানী তেহরানে জন্ম নেওয়া জাকানি ইরাক-ইরান যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি রাইসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে ২০১৩ ও ২০১৭ সালে এ পদে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন তিনি।
জাকানি চার দফায় আইনসভার সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে তিনবার তেহরান ও একবার কুম থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন।




























