সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ সিলেটে স্বামী উপপরিচালক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্ত্রী! জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাধবপুর ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৩ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সিলেটে কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, আহত ২

সিলেটে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :                              

ফেসবুকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। আর সেই ভালোবাসার টানেই প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধাই হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাঁদের সম্পর্কে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিনের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নূর উদ্দিন। তাঁর জীবনসঙ্গী হয়েছেন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা।

জানা যায়, নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তবে তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে বসবাস করছেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিজার সঙ্গে পরিচয় হয় চীনের তরুণ উদ্যোক্তা ওয়্যাং সুলিনের। প্রথমে সাধারণ কথোপকথনের মাধ্যমে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানান।

দুই পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচয় ও মতবিনিময় শেষে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় মো. নূর উদ্দিন। এরপর আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার রাবেয়া মঞ্জিলে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বাড়িতে চলছে আয়োজন। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে নিমন্ত্রণপত্র। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়েকে ঘিরে এলাকাজুড়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হয়। পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্যও যাচাই করা হয়। সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :                              

ফেসবুকে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। আর সেই ভালোবাসার টানেই প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধাই হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাঁদের সম্পর্কে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিনের নতুন নাম রাখা হয়েছে মো. নূর উদ্দিন। তাঁর জীবনসঙ্গী হয়েছেন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার তরুণী নাজমিন আক্তার লিজা।

জানা যায়, নাজমিন আক্তার লিজা (২০) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তবে তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে বসবাস করছেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিজার সঙ্গে পরিচয় হয় চীনের তরুণ উদ্যোক্তা ওয়্যাং সুলিনের। প্রথমে সাধারণ কথোপকথনের মাধ্যমে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানান।

দুই পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। ঢাকায় পৌঁছানোর পর লিজার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিচয় ও মতবিনিময় শেষে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় মো. নূর উদ্দিন। এরপর আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোহনগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার রাবেয়া মঞ্জিলে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বাড়িতে চলছে আয়োজন। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে নিমন্ত্রণপত্র। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়েকে ঘিরে এলাকাজুড়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই সতর্ক ছিল কনের পরিবার। লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হয়। পাশাপাশি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে ওয়্যাং সুলিনের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্যও যাচাই করা হয়। সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।