সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সিলেট ওসমানীনগরে শক্তিশালী ভ্রাম্যমাণ আদালত সত্ত্বেও বেপরোয়া মাটি ব্যবসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

ওসমানীনগর প্রতিনিধি :

ওসমানীনগর উপজেলায় গত কয়েক দিনের  ভ্রাম্যমাণ আদালতের শক্তিশালী ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া হয়ে দিন-রাত ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম থামছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। উমরপুর, সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও উছমানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাত-দিন চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে করে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি বুরুঙ্গা ইউনিয়নের খয়েরপুর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। গত ৭ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) জব্দ করেন। এ সময় মাটির ব্যবসায়ী শফর আলী নামের এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তবে প্রশাসনের এই অভিযানের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি অবৈধ মাটি কাটা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।

স্থানীয় কৃষক সোনাফর আলী বলেন, ‘ফসলি জমি থেকে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, এতে কয়েক বছরের মধ্যে জমিগুলো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আমরা কৃষকরা এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

আরেক কৃষক জামাল মিয়া বলেন, “দিন-রাত ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পাশের জমিও ভেঙে যাচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবার আগের মতো শুরু হয়ে যায়।”

কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক কৃষিজমি ইতোমধ্যে গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে করে বোরোসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা স্থায়ীভাবে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানাই।’

এদিকে জানা গেছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে মাটির ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। গ্রামীণ বিভিন্ন সড়কে সরকারি উন্নয়ন কাজের অজুহাতে বিভিন্ন জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক আবেদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধ করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট ওসমানীনগরে শক্তিশালী ভ্রাম্যমাণ আদালত সত্ত্বেও বেপরোয়া মাটি ব্যবসা

আপডেট সময় : ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ওসমানীনগর প্রতিনিধি :

ওসমানীনগর উপজেলায় গত কয়েক দিনের  ভ্রাম্যমাণ আদালতের শক্তিশালী ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া হয়ে দিন-রাত ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম থামছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। উমরপুর, সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর ও উছমানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাত-দিন চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এতে করে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি বুরুঙ্গা ইউনিয়নের খয়েরপুর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। গত ৭ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) জব্দ করেন। এ সময় মাটির ব্যবসায়ী শফর আলী নামের এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তবে প্রশাসনের এই অভিযানের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি অবৈধ মাটি কাটা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।

স্থানীয় কৃষক সোনাফর আলী বলেন, ‘ফসলি জমি থেকে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, এতে কয়েক বছরের মধ্যে জমিগুলো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আমরা কৃষকরা এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি।’

আরেক কৃষক জামাল মিয়া বলেন, “দিন-রাত ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পাশের জমিও ভেঙে যাচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবার আগের মতো শুরু হয়ে যায়।”

কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক কৃষিজমি ইতোমধ্যে গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে করে বোরোসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা স্থায়ীভাবে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানাই।’

এদিকে জানা গেছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে মাটির ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। গ্রামীণ বিভিন্ন সড়কে সরকারি উন্নয়ন কাজের অজুহাতে বিভিন্ন জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক আবেদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধ করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।