সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৭ হাজার কেজি ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ সিলেটে দুই বেকারিতে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটে অনিয়ম-অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, ৫৩৬ মামলায় জরিমানা ২৪ লাখ সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু

শতবর্ষী ঐতিহ্য শিব চতুর্দশী উপলক্ষে শিববাড়ী মন্দিরে বিশাল অনুষ্ঠানমালা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

শ্রীশ্রী সর্ব্বানন্দ ভৈরব গ্রীবা মহাপীঠরক্ষী কর্তৃক পরিচালিত শিববাড়ী মন্দির, গোটাটিকর, জৈনপুর, সিলেটে এই বছরও আয়োজন করা হচ্ছে শিব চতুর্দশী তিথি উদ্‌যাপন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হবে ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা (১৫ ফেব্রুয়ারি) রবিবার বিকেল ৫:১৮ মিনিটে এবং চলবে পরদিন ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা (১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) সন্ধ্যা ৬:০২ পর্যন্ত।

১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বিকাল ৪টায় শিব চতুর্দশী মেলার শুভ সূচনা।

সন্ধ্যা ৫:২০ – বিশেষ পূজা, মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ ও অঞ্জলী প্রদান।

রাত ৮:০০ – সংগীতময় ভাগবত কীর্তন। পাঠক: ভক্তিকিঙ্কর দামোদর মহারাজ, শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর দেবালয়, পুসাইনগর, কুলাউড়া।

রাত ১১:০০ – শিব সংগীত ও হরিনাম সংকীর্তন। পরিবেশনায়: শ্রীহরি সংঘ ও স্থানীয় গৌরভক্তবৃন্দ।

রাত ১২:০০ – অনুকল্প প্রসাদ বিতরণ।

১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার

ভোর থেকে সন্ধ্যা ৬:০২ – মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ, পূজা, অঞ্জলী প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ।

পীঠ ও পীঠরক্ষীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব

শিববাড়ী মন্দির, জৈনপুর গ্রামের অবস্থান, শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবাপীঠের এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত। পুরাণকাহিনী অনুযায়ী, প্রজাপতি দক্ষের যজ্ঞে নিমন্ত্রণ না পাওয়া কারণে সতী স্বয়ং দেহত্যাগ করেন। মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব করেন। তাণ্ডবের ফলে সৃষ্টির সুরক্ষা জন্য বিষ্ণু দেবতা সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করেন।

বাংলাদেশের মধ্যে সিলেটে দুটি সতীপীঠের অবস্থান আছে। সিলেট শহরের কেন্দ্র থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে জৈনপুর গ্রামে সতীর গ্রীবা বা ঘাড়ের অংশ পতিত হয়ে দেবী মহালক্ষ্মী নামে পূজিত হন। একই স্থানের সুউচ্চ টিলার উপর অবস্থানরত ভৈরব সর্ব্বানন্দকে পীঠরক্ষী হিসেবে পূজিত করা হয়।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১২৮৬ বঙ্গাব্দে ব্রহ্মানন্দগিরি নামক সন্ন্যাসী ও তার সঙ্গীরা স্বপ্নের মাধ্যমে শিবটিলায় অবস্থানরত ভৈরবকে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে স্থানীয়দের উৎসাহে এখানে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলা বসে।

সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সুজিত দাস সকল শিবভক্তদের উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিক নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন:

“সত্য সুন্দরের শ্রীচরণে প্রণতি জানাতে সকল ভক্তদের আমাদের পবিত্র শিববাড়ী মন্দিরে উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ রইল। আপনারা উপস্থিত থাকলে অনুষ্ঠান আরও পূর্ণতা পাবে।”

সাধারণ সম্পাদক পিনাক কর বলেন:

“শিব চতুর্দশী তিথি উপলক্ষে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করেছি। মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ, কীর্তন, হরিনাম এবং প্রসাদ বিতরণে আপনার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ববহ। আসুন, শিবপ্রীতি ও ভক্তির সাথে এই মহোৎসব উদযাপন করি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শতবর্ষী ঐতিহ্য শিব চতুর্দশী উপলক্ষে শিববাড়ী মন্দিরে বিশাল অনুষ্ঠানমালা

আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

শ্রীশ্রী সর্ব্বানন্দ ভৈরব গ্রীবা মহাপীঠরক্ষী কর্তৃক পরিচালিত শিববাড়ী মন্দির, গোটাটিকর, জৈনপুর, সিলেটে এই বছরও আয়োজন করা হচ্ছে শিব চতুর্দশী তিথি উদ্‌যাপন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হবে ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা (১৫ ফেব্রুয়ারি) রবিবার বিকেল ৫:১৮ মিনিটে এবং চলবে পরদিন ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা (১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) সন্ধ্যা ৬:০২ পর্যন্ত।

১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার বিকাল ৪টায় শিব চতুর্দশী মেলার শুভ সূচনা।

সন্ধ্যা ৫:২০ – বিশেষ পূজা, মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ ও অঞ্জলী প্রদান।

রাত ৮:০০ – সংগীতময় ভাগবত কীর্তন। পাঠক: ভক্তিকিঙ্কর দামোদর মহারাজ, শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর দেবালয়, পুসাইনগর, কুলাউড়া।

রাত ১১:০০ – শিব সংগীত ও হরিনাম সংকীর্তন। পরিবেশনায়: শ্রীহরি সংঘ ও স্থানীয় গৌরভক্তবৃন্দ।

রাত ১২:০০ – অনুকল্প প্রসাদ বিতরণ।

১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার

ভোর থেকে সন্ধ্যা ৬:০২ – মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ, পূজা, অঞ্জলী প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ।

পীঠ ও পীঠরক্ষীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব

শিববাড়ী মন্দির, জৈনপুর গ্রামের অবস্থান, শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবাপীঠের এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত। পুরাণকাহিনী অনুযায়ী, প্রজাপতি দক্ষের যজ্ঞে নিমন্ত্রণ না পাওয়া কারণে সতী স্বয়ং দেহত্যাগ করেন। মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব করেন। তাণ্ডবের ফলে সৃষ্টির সুরক্ষা জন্য বিষ্ণু দেবতা সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করেন।

বাংলাদেশের মধ্যে সিলেটে দুটি সতীপীঠের অবস্থান আছে। সিলেট শহরের কেন্দ্র থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে জৈনপুর গ্রামে সতীর গ্রীবা বা ঘাড়ের অংশ পতিত হয়ে দেবী মহালক্ষ্মী নামে পূজিত হন। একই স্থানের সুউচ্চ টিলার উপর অবস্থানরত ভৈরব সর্ব্বানন্দকে পীঠরক্ষী হিসেবে পূজিত করা হয়।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১২৮৬ বঙ্গাব্দে ব্রহ্মানন্দগিরি নামক সন্ন্যাসী ও তার সঙ্গীরা স্বপ্নের মাধ্যমে শিবটিলায় অবস্থানরত ভৈরবকে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে স্থানীয়দের উৎসাহে এখানে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলা বসে।

সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সুজিত দাস সকল শিবভক্তদের উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিক নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন:

“সত্য সুন্দরের শ্রীচরণে প্রণতি জানাতে সকল ভক্তদের আমাদের পবিত্র শিববাড়ী মন্দিরে উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ রইল। আপনারা উপস্থিত থাকলে অনুষ্ঠান আরও পূর্ণতা পাবে।”

সাধারণ সম্পাদক পিনাক কর বলেন:

“শিব চতুর্দশী তিথি উপলক্ষে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করেছি। মহাদেবের স্নান-স্তোত্র পাঠ, কীর্তন, হরিনাম এবং প্রসাদ বিতরণে আপনার উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ববহ। আসুন, শিবপ্রীতি ও ভক্তির সাথে এই মহোৎসব উদযাপন করি।”