ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হাইকমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ – ৩০০ আসনে বৈধ প্রার্থী ১৮৪২, বাতিল ৭২৩ নতুন বছরে এলপি গ্যাসের দামে ধাক্কা, বাড়ল ৫৩ টাকা ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত জুলাই আন্দোল‌নে নি হ ত ৮ জ‌নের পরিচয় শনাক্ত আজমিরীগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল বিক্রি চলছে অবাদে শাহ-আরেফিন টিল্লায় পাথর উত্তোলন ঠেকাতে যৌথ বাহিনীর অভিযান- সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালিত করতে হবে

যে কারণে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবন।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানোর যে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে-সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত ভবিষ্যৎ সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন বাসভবনের সন্ধানও চলছে।

জানা গেছে, ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় এবং এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কমিটিতে আছেন। 

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে ওই কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে কমিটির সদস্যরা ভবন দুটি পরিদর্শনও করেন।

সূত্র জানায়, বাসভবন দুটি একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করতে সংস্কার কাজে কেমন খরচ হতে পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পরিদর্শন কমিটির সদস্যদের মতে, এখন বাড়ি দুটি যে অবস্থায় আছে, তাতে সংস্কারের জন্য অনেক বেশি টাকা প্রয়োজন হবে না। দুটি ভবনের মধ্যে সংযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসংক্রান্ত কিছু কাজ করতে হবে। এর জন্য বেশি সময়ও লাগবে না। 

আলাদা দুটি ভবনের মধ্যে সহজ যাতায়াতের জন্য একটি দুই স্তরবিশিষ্ট করিডোর নির্মাণ, একই সঙ্গে এ-১ ও এ-২ বাসা দুটিও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাসহ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তারা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি দুটিকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য নির্ধারণ করা হলে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও ভাবতে হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নতুন বাসভবন খুঁজতে হবে। 

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাড়িতে তিনি থাকলেই শুধু হবে না, তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা কোথায় থাকবেন, সে প্রশ্নও ওঠে। তাদের জন্যও নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে। সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন ও তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের জন্য বাড়ি তৈরি করা হলে বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশার লঙ্ঘন হবে।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার জন্য ঢাকা শহরে জুতসই স্থান পাওয়া খুবই মুশকিল। কারণ এক্ষেত্রে একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই খুব ভেবে ও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংসদ ভবন এলাকা নিরাপত্তার জন্য কোনোভাবেই জুতসই হবে না। এখন সংসদ অধিবেশন নেই। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সময় দুই মাস পরপর অধিবেশন বসবে। 

সংসদ অধিবেশনের সময় সংসদ-সদস্যরা ছাড়াও তাদের নির্বাচনি এলাকার লোকজন আসেন। তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজনরাও এখানে থাকেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন। তাই সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য এই জায়গা বেছে নেওয়া ঠিক হবে না-এটা কমিটির সদস্যরাও উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এরকম একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যুগান্তরকে জানান, একাধিক বিকল্প নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

তিনি বলেন, আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সেটি ঠিক করবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন সরকার। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন। তারাও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যে কারণে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০১:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবন।

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানোর যে প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে-সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত ভবিষ্যৎ সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন বাসভবনের সন্ধানও চলছে।

জানা গেছে, ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় এবং এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কমিটিতে আছেন। 

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে ওই কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে কমিটির সদস্যরা ভবন দুটি পরিদর্শনও করেন।

সূত্র জানায়, বাসভবন দুটি একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করতে সংস্কার কাজে কেমন খরচ হতে পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পরিদর্শন কমিটির সদস্যদের মতে, এখন বাড়ি দুটি যে অবস্থায় আছে, তাতে সংস্কারের জন্য অনেক বেশি টাকা প্রয়োজন হবে না। দুটি ভবনের মধ্যে সংযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসংক্রান্ত কিছু কাজ করতে হবে। এর জন্য বেশি সময়ও লাগবে না। 

আলাদা দুটি ভবনের মধ্যে সহজ যাতায়াতের জন্য একটি দুই স্তরবিশিষ্ট করিডোর নির্মাণ, একই সঙ্গে এ-১ ও এ-২ বাসা দুটিও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাসহ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তারা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি দুটিকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য নির্ধারণ করা হলে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও ভাবতে হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নতুন বাসভবন খুঁজতে হবে। 

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাড়িতে তিনি থাকলেই শুধু হবে না, তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা কোথায় থাকবেন, সে প্রশ্নও ওঠে। তাদের জন্যও নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে। সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন ও তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের জন্য বাড়ি তৈরি করা হলে বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশার লঙ্ঘন হবে।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো সংবেদনশীল স্থাপনার জন্য ঢাকা শহরে জুতসই স্থান পাওয়া খুবই মুশকিল। কারণ এক্ষেত্রে একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই খুব ভেবে ও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংসদ ভবন এলাকা নিরাপত্তার জন্য কোনোভাবেই জুতসই হবে না। এখন সংসদ অধিবেশন নেই। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সময় দুই মাস পরপর অধিবেশন বসবে। 

সংসদ অধিবেশনের সময় সংসদ-সদস্যরা ছাড়াও তাদের নির্বাচনি এলাকার লোকজন আসেন। তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজনরাও এখানে থাকেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন। তাই সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য এই জায়গা বেছে নেওয়া ঠিক হবে না-এটা কমিটির সদস্যরাও উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এরকম একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যুগান্তরকে জানান, একাধিক বিকল্প নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। 

তিনি বলেন, আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সেটি ঠিক করবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন সরকার। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন। তারাও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।