সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৭ হাজার কেজি ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ সিলেটে দুই বেকারিতে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটে অনিয়ম-অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, ৫৩৬ মামলায় জরিমানা ২৪ লাখ সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু

স্বেচ্ছায় ফেরত ৬ লাখ ঘনফুট পাথর- এবার প্রশাসনের পালা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে লুট হওয়া সাদা পাথর উদ্ধারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের দেওয়া তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। আলটিমেটামের শেষ দিন মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় সাড়ে ছয় লাখ ঘনফুট পাথর ফেরত দিয়েছেন। হুশিয়ারীর সময় শেষ এবার শুরু অভিযান। 

একইসঙ্গে প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আরও ১৯ লাখ ঘনফুট পাথর। সবমিলিয়ে লুট হওয়া পাথরের মধ্যে ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১১ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আজকের পর যাদের কাছে লুটের পাথর পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সকাল থেকেই এ অভিযান শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‌২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ লাখ ঘনফুট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হতে সময় লাগতে পারে আরও সপ্তাহখানেক। 

ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, ‘এই কাজে প্রতিদিন ৫০০ শ্রমিক, ৪০০ নৌকা আর ৩০০’র বেশি ট্রাক কাজ করছে। সব পাথর প্রতিস্থাপন করা গেলে সাদা পাথরের সৌন্দর্য অনেকটাই ফিরে আসবে। তবে প্রাকৃতিকভাবে যেমন ছিল, তেমনটা হুবহু ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কত পাথর লুট হয়েছে—এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এটি সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমার ধারণা, অন্তত ৩০ শতাংশ লুট হওয়া পাথর আর উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এগুলো হয় ভেঙে ফেলা হয়েছে, নয়তো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লুটের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও আমরা সতর্ক আছি।

ডিসি আরও বলেন, ‘অপরাধীদের নাম এখনই প্রকাশ করা হলে তারা পালিয়ে যেতে পারে। তাই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসবেই।

এদিকে জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন এরইমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির কাজও চলছে। মঙ্গলবার সাদা পাথর পরিদর্শন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি।

তাছাড়া পাথর লু*টপাটের ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্তে নেমেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় এ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সিআইডির (ঢাকা) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বেচ্ছায় ফেরত ৬ লাখ ঘনফুট পাথর- এবার প্রশাসনের পালা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে লুট হওয়া সাদা পাথর উদ্ধারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের দেওয়া তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। আলটিমেটামের শেষ দিন মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় সাড়ে ছয় লাখ ঘনফুট পাথর ফেরত দিয়েছেন। হুশিয়ারীর সময় শেষ এবার শুরু অভিযান। 

একইসঙ্গে প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আরও ১৯ লাখ ঘনফুট পাথর। সবমিলিয়ে লুট হওয়া পাথরের মধ্যে ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১১ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আজকের পর যাদের কাছে লুটের পাথর পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সকাল থেকেই এ অভিযান শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‌২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১১ লাখ ঘনফুট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হতে সময় লাগতে পারে আরও সপ্তাহখানেক। 

ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, ‘এই কাজে প্রতিদিন ৫০০ শ্রমিক, ৪০০ নৌকা আর ৩০০’র বেশি ট্রাক কাজ করছে। সব পাথর প্রতিস্থাপন করা গেলে সাদা পাথরের সৌন্দর্য অনেকটাই ফিরে আসবে। তবে প্রাকৃতিকভাবে যেমন ছিল, তেমনটা হুবহু ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কত পাথর লুট হয়েছে—এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এটি সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আমার ধারণা, অন্তত ৩০ শতাংশ লুট হওয়া পাথর আর উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। এগুলো হয় ভেঙে ফেলা হয়েছে, নয়তো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লুটের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও আমরা সতর্ক আছি।

ডিসি আরও বলেন, ‘অপরাধীদের নাম এখনই প্রকাশ করা হলে তারা পালিয়ে যেতে পারে। তাই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসবেই।

এদিকে জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন এরইমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির কাজও চলছে। মঙ্গলবার সাদা পাথর পরিদর্শন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি।

তাছাড়া পাথর লু*টপাটের ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তদন্তে নেমেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় এ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সিআইডির (ঢাকা) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।