সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৭ হাজার কেজি ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ সিলেটে দুই বেকারিতে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটে অনিয়ম-অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, ৫৩৬ মামলায় জরিমানা ২৪ লাখ সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু

মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে ইনায়ার প্রাণ কেড়ে নেন বাবা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫ ৪০৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে দেড় মাসের কন্যাশিশুকে জবাই করে খুন ও বাবাকে অর্ধেক গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর দাবি- মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে বাবা আতিকুর রহমান মেয়ে ইনায়া রহমানকে জবাই করে নিজেও গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

শিশুর মা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের এমন কারণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি’র মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 

নিহত শিশু ইনায়া রহমান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আতিকুর রহমানের মেয়ে। আতিকুর রহমান স্ত্রী ঝুমা বেগম ও মেয়েকে নিয়ে সিলেট মহানগরীর ইসলামপুরে কোরেশি ভিলার পেছনে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি সিএনজি অটোরিকশাচালক। বর্তমানে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

বাবা-মায়ের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাসার বাথরুমে নিয়ে শিশু ইনায়াকে গলাকেটে খুন করে তার বাবা আতিকুর রহমান। জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রচণ্ড মাথাব্যথার কারণে তার মাথায় কাজ করছিল না। মাথায় কি হয়েছিল তিনি বুঝতে পারেননি। মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে তিনি শিশুকন্যাকে জবাই করে খুন করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

নিহত শিশুর মা ঝুমা বেগম জানান, দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন, তার স্বামী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর তার নিজের গলা কাটছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার দুপুরে খাবার খেয়ে স্ত্রী ও দুইমাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আতিকুর রহমান। বিকেল ৫টার দিকে শোরচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে ঘরের ভেতর শিশু ইনায়ার গলাকাটা লাশ ও রক্তাক্ত অবস্থায় আতিকুর রহমানকে দেখতে পান। পরে আতিকুর রহমানকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতে তার গলায় অস্ত্রোপচার হয়। 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আতিকুর রহমান এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে ইনায়ার প্রাণ কেড়ে নেন বাবা

আপডেট সময় : ০২:১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে দেড় মাসের কন্যাশিশুকে জবাই করে খুন ও বাবাকে অর্ধেক গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) এর দাবি- মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে বাবা আতিকুর রহমান মেয়ে ইনায়া রহমানকে জবাই করে নিজেও গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

শিশুর মা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের এমন কারণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি’র মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 

নিহত শিশু ইনায়া রহমান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আতিকুর রহমানের মেয়ে। আতিকুর রহমান স্ত্রী ঝুমা বেগম ও মেয়েকে নিয়ে সিলেট মহানগরীর ইসলামপুরে কোরেশি ভিলার পেছনে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পেশায় তিনি সিএনজি অটোরিকশাচালক। বর্তমানে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

বাবা-মায়ের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাসার বাথরুমে নিয়ে শিশু ইনায়াকে গলাকেটে খুন করে তার বাবা আতিকুর রহমান। জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রচণ্ড মাথাব্যথার কারণে তার মাথায় কাজ করছিল না। মাথায় কি হয়েছিল তিনি বুঝতে পারেননি। মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে তিনি শিশুকন্যাকে জবাই করে খুন করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

নিহত শিশুর মা ঝুমা বেগম জানান, দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন, তার স্বামী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর তার নিজের গলা কাটছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার দুপুরে খাবার খেয়ে স্ত্রী ও দুইমাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আতিকুর রহমান। বিকেল ৫টার দিকে শোরচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে ঘরের ভেতর শিশু ইনায়ার গলাকাটা লাশ ও রক্তাক্ত অবস্থায় আতিকুর রহমানকে দেখতে পান। পরে আতিকুর রহমানকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতে তার গলায় অস্ত্রোপচার হয়। 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আতিকুর রহমান এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।