সড়কের কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ কাজের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিবরণে উল্লেখিত সঠিক প্রাক্কলন নিয়মে কাজ করার জন্য নোটিশ প্রদান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নোটিশ প্রদান করা হলেও তা মানছেন না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
তবে কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর দাবী, সঠিক নিয়মে কাজ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
আর দায়িত্বরত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বলছেন, ‘সঠিক কাজ বুঝে পাবার পর করা হবে বিল পরিশোধ’।
এদিকে নিম্নমানের কাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় সড়কটি টেকসই হবেনা। বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলেই সড়কটি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানাগেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ মাটির সড়ক টেকসই করণের লক্ষ্যে এইচবিবি (হেরিং বোনবন্ড) করণ কাজের আওতায় আজমিরীগঞ্জ-পাহারপুর সড়কের বদলপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকাড়া সড়কের মুল অংশ থেকে মাটিয়াকাড়া গ্রামের এক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা ও তিন মিটার প্রস্থ সড়কটি ইট সলিং করার জন্য ৮১ লাখ ৪ হাজার ৪৫০ টাকা চুক্তি মূল্যে কাজের দায়িত্ব পায় জেলার শায়েস্তাগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মের্সাস সিফাত এন্টার প্রাইজ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সুত্রে আরো জানা যায়, প্রকল্পের অঙ্কন, নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করায় চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিবিড় রঞ্জন তালুকদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ. দা.) মো. সাদ বিন জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে প্রেরণ করা হয়৷
নোটিশে উল্লেখ্য করা হয়, ”সরেজমিনে পরিদর্শনে উক্ত প্রকল্পে বালির পরিমাণ কম থাকা, অঙ্কন, নকশা ও প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ হচ্ছে না।
তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে উক্ত নোটিশে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক অঙ্কন, নকশা, প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজের চুক্তি মোতাবেক কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়”।
কিন্তু এলাকাবাসী বলছেন, শুধু নোটিশ পাঠানো পর্যন্তই সীমাবদ্ধ সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বাস্তবে নিম্নমানের কাজ করা হলেও কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় মনগড়া ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে দেখাযায়, ইটের নিচে যে পরিমান ভিটা বালু দেওয়ার কথা সেই পরিমাণ না দিয়ে ইট সলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। একটি ইটের সঙ্গে আরেকটি ইটের বেশি দূরত্ব রাখা ও কম বালু দিয়ে সঠিকভাবে সলিং না করায় সড়কটি টেকসই হচ্ছে না। একটি ইটের সঙ্গে আরেকটি ইটের দূরত্ব নিয়ম থেকে বেশি রাখা হয়েছে। ইটের মধ্যের ফাঁকা জায়গাগুলো বালু দিয়ে পূরণ করে রাখা হয়েছে।
প্রাক্কলন অনুযায়ী বেড তৈরী করে তার মধ্যে ৪ ইঞ্চি ভিটাবালু দিয়ে তার উপর রোলার মেশিন দ্বারা রোলিং করে প্রথম গ্রেডের ইট দিয়ে প্রথম ভাজে সলিং তার পর এক ইঞ্চি ভিটাবালু দিয়ে উপরে দ্বিতীয় ভাজে সলিং করার পর এক ইঞ্চি ভিটাবালু দেয়ার কথা থাকলেও, রোলার মেশিনে রোলিং করে ফিটিং করা ছাড়াই নামে মাত্র ভিটা বালু দিয়ে ইট সলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।কোথাও করা হয়নি রোলিং ফিটিং এমনকি কাজের সাইটের আশেপাশে কোথাও রোলার মেশিন দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের সাথে আলাপকালে তারা জানান, প্রাক্কলনে বিভিন্ন খাতে মনগড়া লাখ লাখ টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। উক্ত টাকাগুলো সরকারের গচ্চা যাবে বলে তারা মনে করছেন।
মাটিয়া কাড়া গ্রামের বাসিন্দা দ্বীমান দাস বলেন, কোথাও দুই ইঞ্চি আবার কোথাও এর চেয়ে কম ভিটাবালু দিয়ে সড়কের সলিং কাজ চলছে। শুনেছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা কাজ সঠিক ভাবে করার জন্য চিঠি দিয়েছে ঠিকাদারকে কিন্তু তাতেও সঠিক ভাবে কাজ করছেন না তারা। রোলার মেশিনে বালু ফিটিংস না করেই ইট সলিংয়ের কাজ চলমান।
ভাগ্যধর দাস নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে রাস্তা আছড়ে নামে মাত্র ভিটা বালু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে । যেভাবে কাজ করা হচ্ছে বৃষ্টি শুরু হলেই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এসময় স্থানীয় অনেকের সাথে আলাপকালে তাঁরা বলেন, সঠিকভাবে কাজ করার জন্য আমরা কয়েকবার বলেছি। কিন্তু সড়কটিতে কাজ করা লোকজন আমাদের কথা শুনেননি।
সিফাত এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ব্যস্ততার কারনে আমি ঐখানে যেতে পারছি না। নোটিশ এখনও পাইনি। খোঁজ নিয়ে যেভাবে ভাল করা যায় করবো।সড়কে রোলার দিয়ে ফিটিং না করে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, সব সড়কে রোলিং করতে হয়না, নতুন সড়ক হলে সেটা করা হয়। তবে আমি চেষ্টা করবো ভাল করে কাজ করার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অদিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. সাদ বিন জাহাঙ্গীর বলেন, কাজ চলমান রয়েছে। আমরা ইউএনও মহোদয়সহ ভিজিট করেছি। নোটিশ দেবার পর কাজ ঠিকই চলছে। সলিংয়ের কাজ শেষে সড়কের উভয় পাশে ৭০ হাজার ঘনফুট মাটি ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, কাজ শেষ হলে মাটি ফেলা হবে এবং পানি দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিবিড় রঞ্জন তালুকদারের দাপ্তরিক মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও উনি কল রিসিভ না করায় উনার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

























