সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

জিআর কোর্টের ভূয়া জামিনে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে বেরিয়ে গেলো ৪ আসামি – আটক ১

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ কারাগার থেকে ভুয়া জামিন নামা দিয়ে বের হয়ে গেলো মাদক মামলার ৪ জন আসামি। এ নিয়ে হবিগঞ্জের আদালতপাড়ায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জিআরও এর সহযোগি একজনকে আটক করা হয়েছে। সে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। বের হয়ে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা হল, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার শিমুলগঞ্জ গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার পুত্র রুয়েল মিয়া, একই উপজেলার কিরণ মিয়ার পুত্র আলী হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাগলা গ্রামের সজলু মিয়ার পুত্র আজাদ মিয়া ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কিরগাও গ্রামের লেবু মিয়ার পুত্র সুয়েব মিয়া। জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি মাধবপুর থানার মামলা নং-১০, তাং-০৬/০১/২০২৫ইং জিআর ১০/২৫। মামলায় উল্লেখিত ৪ জনকে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া থেকে প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১২-৬৬১৮) গ্রেফতার করা হয়। তখন তাদের কাছ থেকে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মাদক কারবারিদের আইনজীবি আদালতে বেশ কয়েকবার তাদের জামিন আবেদন প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তাদেরকে জামিন দেননি। সর্বশেষ তিনি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত ২৬ জানুয়ারিও তাদের জামিন আবদেন করলে সেখানে না মঞ্জুর হয়। এদিকে হঠাৎ করে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) আসামিরা জামিনে বের হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল (৩০ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার এডভোকেট ফয়সল আদালতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন তার আসামিরা ভূয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। পরে সেখান থেকে তারা ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট ফয়সল জানান, উল্লেখিতদের ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ কোর্টে জামিন চেয়ে পাইনি। পরবর্তীতে আমি হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠাতে চাইলে তার স্বজনরা জানায়, হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠানোর কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকজন জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে। এ বিষয়টি জানার পর আমি হতভম্ব হয়ে পরি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখি ভূয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে তা কারাগারে পাঠায়। পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। অনেক আইনজীবী ও তার সহকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জিআরও এবং পেশকারের সাথে কিছু পাবলিক সহযোগি হিসেবে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরানোরও আশংকা করা হচ্ছে। জানতে চাইলে হবিগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন-বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। কে জামিন নামা দিল আবার কিভাবে সেটা কারাগারে গেল তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন- পুরো বিষয়টি জানার পর আপনাদের জানাতে পারব। তাছাড়া ঘটনার সাথে কারা জড়িত আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ জনকে আটক করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন- প্রতিদিনকার নিয়মেই আদালত থেকে আমাদের কাছে জামিন নামা আসে। সেই অনুযায়ী বন্দিরা ছাড়া পায়। তবে সেটি ভুয়া জামিন নামা ছিল এবিষয়টি আমাদের জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জিআর কোর্টের ভূয়া জামিনে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে বেরিয়ে গেলো ৪ আসামি – আটক ১

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ কারাগার থেকে ভুয়া জামিন নামা দিয়ে বের হয়ে গেলো মাদক মামলার ৪ জন আসামি। এ নিয়ে হবিগঞ্জের আদালতপাড়ায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জিআরও এর সহযোগি একজনকে আটক করা হয়েছে। সে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। বের হয়ে যাওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা হল, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার শিমুলগঞ্জ গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার পুত্র রুয়েল মিয়া, একই উপজেলার কিরণ মিয়ার পুত্র আলী হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাগলা গ্রামের সজলু মিয়ার পুত্র আজাদ মিয়া ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কিরগাও গ্রামের লেবু মিয়ার পুত্র সুয়েব মিয়া। জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি মাধবপুর থানার মামলা নং-১০, তাং-০৬/০১/২০২৫ইং জিআর ১০/২৫। মামলায় উল্লেখিত ৪ জনকে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া থেকে প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১২-৬৬১৮) গ্রেফতার করা হয়। তখন তাদের কাছ থেকে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মাদক কারবারিদের আইনজীবি আদালতে বেশ কয়েকবার তাদের জামিন আবেদন প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তাদেরকে জামিন দেননি। সর্বশেষ তিনি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত ২৬ জানুয়ারিও তাদের জামিন আবদেন করলে সেখানে না মঞ্জুর হয়। এদিকে হঠাৎ করে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) আসামিরা জামিনে বের হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল (৩০ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার এডভোকেট ফয়সল আদালতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন তার আসামিরা ভূয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। পরে সেখান থেকে তারা ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট ফয়সল জানান, উল্লেখিতদের ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ কোর্টে জামিন চেয়ে পাইনি। পরবর্তীতে আমি হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠাতে চাইলে তার স্বজনরা জানায়, হাইকোর্টে কাগজপত্র পাঠানোর কোন প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকজন জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে। এ বিষয়টি জানার পর আমি হতভম্ব হয়ে পরি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখি ভূয়া জামিন নামা তৈরী করে জিআরও অফিসের মাধ্যমে তা কারাগারে পাঠায়। পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। অনেক আইনজীবী ও তার সহকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জিআরও এবং পেশকারের সাথে কিছু পাবলিক সহযোগি হিসেবে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরানোরও আশংকা করা হচ্ছে। জানতে চাইলে হবিগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন-বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। কে জামিন নামা দিল আবার কিভাবে সেটা কারাগারে গেল তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন- পুরো বিষয়টি জানার পর আপনাদের জানাতে পারব। তাছাড়া ঘটনার সাথে কারা জড়িত আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ জনকে আটক করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন- প্রতিদিনকার নিয়মেই আদালত থেকে আমাদের কাছে জামিন নামা আসে। সেই অনুযায়ী বন্দিরা ছাড়া পায়। তবে সেটি ভুয়া জামিন নামা ছিল এবিষয়টি আমাদের জানা নেই।