সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলা ॥ ১ বছরে স্বাক্ষী দিয়েছেন ১ জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

আজ কলঙ্কের ২৭ জানুয়ারী। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ২০ বছর পূর্ণ হলো। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা এ হত্যাকান্ডের বিচার এখনও আলোর মুখ দেখছেনা। সাক্ষি না আসা, আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে। বিগত ১ বছরে মাত্র ১জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মনে।

২০০৫ সালের এই দিনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। বৈদ্যের বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপিসহ প্রায় ৫০ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। কয়েক দফা তদন্ত শেষে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় ৯ বছর পূর্বে। কিন্তু নানা কারণে বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে নিহতদের স্বজনদের মাঝে।

গ্রেনেড হামলায় নিহত আবুল হোসেন, সিদ্দিক আলী ও আব্দুর রহিমের স্ত্রী সন্তানরা বলেন, ২০ বছর ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায়। তবে আদৌ বিচার হবে কি না এ নিয়ে তারা হতাশা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, আমাদের খবর কেউ রাখে না। ২৭ জানুয়ারী আসলে সাংবাদিকরা আসে আমাদের দুঃখের কথা জানার জন্য। পরে আর কেউ খোজখবর নেয় না। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি এডঃ মোঃ আবুল হোসেন জানান, মামলার ১৭১ জন স্বাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫১ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, স্বাক্ষী না আসায় বিচার কাজ এগুচ্ছে না।

তৎকালীন পিপি এড: সরওয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন ২০২৪ সনের জানুয়ারী পর্যন্ত ৫০ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমান পিপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিগত ১ বছরে মাত্র ১ জন আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষী প্রদান করেছেন। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

নিহত শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আজ আমার বাবার ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী। আমরা ২০ বছর অপেক্ষা করছি বিচারের জন্য। এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ আমলে সুষ্টু তদন্ত হয়নি। কার আওয়ামীলীগের অনেকেই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। তা আমরা জানতে পেরেছি। বিভিন্ন কারণে এরা আমার বাবার উপর ক্ষেপেছিল। এরা সবাই শেখ হাসিনার প্রিয় লোক। সেই জন্য এত দিনে এ ঘটনার সুষ্টু তদন্ত হয়নি, সুষ্টু বিচার হয়নি। একটা অসমাপ্ত তদন্তের ভিত্তিতে সুষ্টু বিচার হতে পারে না। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে বিচার হবে। আমাদের মতো হাজার পরিবার রয়েছে যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে কিন্তু কোন বিচার পায়নি। আমরা সেই বিচারের অপেক্ষায় রইলাম। এ জন্য তিনি সকরের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলা ॥ ১ বছরে স্বাক্ষী দিয়েছেন ১ জন

আপডেট সময় : ০১:১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

আজ কলঙ্কের ২৭ জানুয়ারী। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ২০ বছর পূর্ণ হলো। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা এ হত্যাকান্ডের বিচার এখনও আলোর মুখ দেখছেনা। সাক্ষি না আসা, আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ঠিকমতো আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে। বিগত ১ বছরে মাত্র ১জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মনে।

২০০৫ সালের এই দিনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। বৈদ্যের বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপিসহ প্রায় ৫০ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। কয়েক দফা তদন্ত শেষে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় ৯ বছর পূর্বে। কিন্তু নানা কারণে বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে নিহতদের স্বজনদের মাঝে।

গ্রেনেড হামলায় নিহত আবুল হোসেন, সিদ্দিক আলী ও আব্দুর রহিমের স্ত্রী সন্তানরা বলেন, ২০ বছর ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায়। তবে আদৌ বিচার হবে কি না এ নিয়ে তারা হতাশা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, আমাদের খবর কেউ রাখে না। ২৭ জানুয়ারী আসলে সাংবাদিকরা আসে আমাদের দুঃখের কথা জানার জন্য। পরে আর কেউ খোজখবর নেয় না। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী পিপি এডঃ মোঃ আবুল হোসেন জানান, মামলার ১৭১ জন স্বাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫১ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, স্বাক্ষী না আসায় বিচার কাজ এগুচ্ছে না।

তৎকালীন পিপি এড: সরওয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন ২০২৪ সনের জানুয়ারী পর্যন্ত ৫০ জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করা হয়েছিল। বর্তমান পিপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিগত ১ বছরে মাত্র ১ জন আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষী প্রদান করেছেন। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

নিহত শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আজ আমার বাবার ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী। আমরা ২০ বছর অপেক্ষা করছি বিচারের জন্য। এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ আমলে সুষ্টু তদন্ত হয়নি। কার আওয়ামীলীগের অনেকেই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। তা আমরা জানতে পেরেছি। বিভিন্ন কারণে এরা আমার বাবার উপর ক্ষেপেছিল। এরা সবাই শেখ হাসিনার প্রিয় লোক। সেই জন্য এত দিনে এ ঘটনার সুষ্টু তদন্ত হয়নি, সুষ্টু বিচার হয়নি। একটা অসমাপ্ত তদন্তের ভিত্তিতে সুষ্টু বিচার হতে পারে না। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে বিচার হবে। আমাদের মতো হাজার পরিবার রয়েছে যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে কিন্তু কোন বিচার পায়নি। আমরা সেই বিচারের অপেক্ষায় রইলাম। এ জন্য তিনি সকরের সহযোগিতা কামনা করেন।