সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

নবীগঞ্জ অইনগাঁও সড়কের বেহাল দশা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে অন্যতম নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম (আইনগাওঁ) সড়ক। প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশজুড়ে এ সড়কের বেহাল দশা।

অধিকাংশই রাস্তাই খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোটবড় নানা দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী, যাত্রীসাধারণসহ পরিবহণ চালকদের। সড়কটির সংস্কার কাজে ২০১৯ইং সালে সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এটি কোনো কাজে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত টেকসই পূণঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাথে নবীগঞ্জ শহরের একমাত্র বাইপাস সড়ক নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রামের এই সড়কটি। এ উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়নের অগণিত মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন এ সড়ক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়কটি। এই সড়ক দিয়ে শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজসহ অসংখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে চলাচল করতে হয়। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, ব্যাটারী ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস প্রতিনিয়ত চলাচল করলেও অনেক যানবাহন ইতোমধ্যেই কমে গেছে। রাস্তার করুন দশা দেখে অনেকই তাদের অটোরিক্সা বিক্রি করে বিকল্প কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুটছেন।

ফলে যানবাহনের উপর নির্ভরশীল কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাস্তাটি সংস্কার কাজে নানা অনিয়ম হওয়ায় বর্তমানে কোথাও কোথাও পাকার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর, শিবপাশাসহ সড়কজুড়ে কার্পেটিং ওঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একেকটা গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তার খানা-খন্দে বৃষ্টি হলেই পানি ভরে যাবে। কাঁদামাটি-পানি অতিক্রম করে যানবাহন চলাচল করতে হয়। লাখো মানুষকে নানা প্রতিকূলতা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে এ সড়কে। ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি ওই সড়ক দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে একজন গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রাস্তায়ই ডেলিভারি হয় ওই প্রসুতি মা’য়ের।
এলাকাবাসী বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থা, একদিন নবীগঞ্জ গেলে বাড়িতে এসে ব্যাথার ওষুধ খেতে হয়। দ্রুত সংস্কার নয় পুণঃনির্মাণ করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে। বর্তমানে এই সড়কটি হয়ে উঠেছে লাখো মানুষের কান্না’র কারণ।

ইউসিবি স্টকের সেলস এসোসিয়েট মোশারফ আলী মিঠু বলেন, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে ওই সড়ক হয়ে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়ক সাগরে পরিণত হয়। মানুষের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান শিশু বলেন, সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য মরণ ফাদঁ হয়ে দাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ৩ বছর ধরে উপজেলা আইনশৃংখলা ও উন্নয়ন সভায় একাধিকবার দাবী উত্থাপন করেছি। কিন্তু কোন কাজই হয়নি। আজ এই সড়কটি লাখো মানুষের কান্নায় পরিণত হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ে মধ্যে উক্ত রাস্তাটি পূণঃনির্মাণের দাবী জানান। অন্যতায় এলাকাবাসীকে নিয়ে ব্যাপক আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
সড়কটি পুণঃনির্মাণের দাবী ৯ ডিসেম্বর লাল সবুজ কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে বিশাল মানববন্ধন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নবীগঞ্জ অইনগাঁও সড়কের বেহাল দশা

আপডেট সময় : ০২:১৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের মধ্যে অন্যতম নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম (আইনগাওঁ) সড়ক। প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশজুড়ে এ সড়কের বেহাল দশা।

অধিকাংশই রাস্তাই খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোটবড় নানা দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথচারী, যাত্রীসাধারণসহ পরিবহণ চালকদের। সড়কটির সংস্কার কাজে ২০১৯ইং সালে সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এটি কোনো কাজে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত টেকসই পূণঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাথে নবীগঞ্জ শহরের একমাত্র বাইপাস সড়ক নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রামের এই সড়কটি। এ উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়নের অগণিত মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন এ সড়ক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়কটি। এই সড়ক দিয়ে শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদ্রাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজসহ অসংখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে চলাচল করতে হয়। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, ব্যাটারী ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস প্রতিনিয়ত চলাচল করলেও অনেক যানবাহন ইতোমধ্যেই কমে গেছে। রাস্তার করুন দশা দেখে অনেকই তাদের অটোরিক্সা বিক্রি করে বিকল্প কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুটছেন।

ফলে যানবাহনের উপর নির্ভরশীল কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাস্তাটি সংস্কার কাজে নানা অনিয়ম হওয়ায় বর্তমানে কোথাও কোথাও পাকার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদ্রাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর, শিবপাশাসহ সড়কজুড়ে কার্পেটিং ওঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একেকটা গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তার খানা-খন্দে বৃষ্টি হলেই পানি ভরে যাবে। কাঁদামাটি-পানি অতিক্রম করে যানবাহন চলাচল করতে হয়। লাখো মানুষকে নানা প্রতিকূলতা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে এ সড়কে। ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি ওই সড়ক দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে একজন গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রাস্তায়ই ডেলিভারি হয় ওই প্রসুতি মা’য়ের।
এলাকাবাসী বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থা, একদিন নবীগঞ্জ গেলে বাড়িতে এসে ব্যাথার ওষুধ খেতে হয়। দ্রুত সংস্কার নয় পুণঃনির্মাণ করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে। বর্তমানে এই সড়কটি হয়ে উঠেছে লাখো মানুষের কান্না’র কারণ।

ইউসিবি স্টকের সেলস এসোসিয়েট মোশারফ আলী মিঠু বলেন, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে ওই সড়ক হয়ে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়ক সাগরে পরিণত হয়। মানুষের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান শিশু বলেন, সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য মরণ ফাদঁ হয়ে দাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ৩ বছর ধরে উপজেলা আইনশৃংখলা ও উন্নয়ন সভায় একাধিকবার দাবী উত্থাপন করেছি। কিন্তু কোন কাজই হয়নি। আজ এই সড়কটি লাখো মানুষের কান্নায় পরিণত হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ে মধ্যে উক্ত রাস্তাটি পূণঃনির্মাণের দাবী জানান। অন্যতায় এলাকাবাসীকে নিয়ে ব্যাপক আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
সড়কটি পুণঃনির্মাণের দাবী ৯ ডিসেম্বর লাল সবুজ কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে বিশাল মানববন্ধন করা হয়।