সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

বানিয়াচংয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনে- ড্রেজার মেশিন জব্দ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

বানিয়াচং প্রতিনিধি :

বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী থেকে নৌকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌ ফাঁড়ি পুলিশ।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বানিয়াচং ক্যাম্পের একদল সদস্য ও মার্কুলি বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে কুশিয়ারা নদী থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কুলি বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন তালুকদার। তিনি জানান- ড্রেজার মেশিনটি বর্তমানে তাদের জিম্মায় রয়েছে। জানা গেছে- দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগে দৌলতপুর ইউনিয়নের হিলাল নগর ও তেলঘরি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় গেল কয়েক মাস যাবত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করে আসছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চক্রটি প্রথমে নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বসানো ড্রেজার মেশিন দিয়ে একটি বড় স্টিলের নৌকা বোঝাই করে বালু ও মাটি দিয়ে। পরে তা অন্যত্র সরিয়ে ফের একইভাবে তেলা হয় বালু মাটি।

এভাবে প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ঘনফুট বালু-মাটি উত্তোলন করে আসছিল চক্রটি। ভোক্তভূগী এলাকাবাসি জানান- ওই এলাকায় কোন বৈধ বালু মহাল নেই। অথচ গোষ্ঠিগত প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করে আসছিল। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। আবার যদি কেউ কথা বলেও তা হলে তাদেরকে হামলার হুমকি দেয়া হয়। যে কারণে দিনের পর দিন বালু তোলায় নদী পাড়ের ফসলি জমি ও এলাকার রাস্তা ঘাট এখন হুমকির মুখে রয়েছে। তারা বলেন- নদীতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি বালু উত্তোলন করা হয়। যা নদীর তলদেশ থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় এতটাই বড় গর্তের সৃষ্টি করছে যে কোন সময় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে। আর এতে করে বিলীন হতে পারে শত শত রে ফসলি ও শাকসবজির জমি।

এদিকে- অবৈধভাবে বালু তোলার ঘটনা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আলীম এর আমলী আদালত-৪ এ মামলাটি দায়ের হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিকে নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর ফারুকসহ অজ্ঞাতদের। বালু তোলায় ওমর ফারুকের সহযোগিতা হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য মনির মিয়া, ইউপি সদস্য দবির মিয়া, বিএনপি নেতা হেদায়ত উল্লাহ, ইউপি সদস্য রমজান আলী, মাছু মিয়া, মইন উদ্দিন, সোহাগ চৌধুরী, শেখ নাছিম ও নুরুল হুদাসহ এলাকার আরো বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে, অভিযানকালে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। একই সাথে তারা বালু তোলার ঘটনার মূল নায়কদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান প্রশাসনের প্রতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বানিয়াচংয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনে- ড্রেজার মেশিন জব্দ

আপডেট সময় : ০১:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

বানিয়াচং প্রতিনিধি :

বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী থেকে নৌকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌ ফাঁড়ি পুলিশ।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বানিয়াচং ক্যাম্পের একদল সদস্য ও মার্কুলি বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে কুশিয়ারা নদী থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কুলি বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নিরঞ্জন তালুকদার। তিনি জানান- ড্রেজার মেশিনটি বর্তমানে তাদের জিম্মায় রয়েছে। জানা গেছে- দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগে দৌলতপুর ইউনিয়নের হিলাল নগর ও তেলঘরি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় গেল কয়েক মাস যাবত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করে আসছে একটি প্রভাবশালী চক্র। চক্রটি প্রথমে নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বসানো ড্রেজার মেশিন দিয়ে একটি বড় স্টিলের নৌকা বোঝাই করে বালু ও মাটি দিয়ে। পরে তা অন্যত্র সরিয়ে ফের একইভাবে তেলা হয় বালু মাটি।

এভাবে প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ঘনফুট বালু-মাটি উত্তোলন করে আসছিল চক্রটি। ভোক্তভূগী এলাকাবাসি জানান- ওই এলাকায় কোন বৈধ বালু মহাল নেই। অথচ গোষ্ঠিগত প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করে আসছিল। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। আবার যদি কেউ কথা বলেও তা হলে তাদেরকে হামলার হুমকি দেয়া হয়। যে কারণে দিনের পর দিন বালু তোলায় নদী পাড়ের ফসলি জমি ও এলাকার রাস্তা ঘাট এখন হুমকির মুখে রয়েছে। তারা বলেন- নদীতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি বালু উত্তোলন করা হয়। যা নদীর তলদেশ থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকায় এতটাই বড় গর্তের সৃষ্টি করছে যে কোন সময় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে। আর এতে করে বিলীন হতে পারে শত শত রে ফসলি ও শাকসবজির জমি।

এদিকে- অবৈধভাবে বালু তোলার ঘটনা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আলীম এর আমলী আদালত-৪ এ মামলাটি দায়ের হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবিকে নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয় দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর ফারুকসহ অজ্ঞাতদের। বালু তোলায় ওমর ফারুকের সহযোগিতা হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য মনির মিয়া, ইউপি সদস্য দবির মিয়া, বিএনপি নেতা হেদায়ত উল্লাহ, ইউপি সদস্য রমজান আলী, মাছু মিয়া, মইন উদ্দিন, সোহাগ চৌধুরী, শেখ নাছিম ও নুরুল হুদাসহ এলাকার আরো বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে, অভিযানকালে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। একই সাথে তারা বালু তোলার ঘটনার মূল নায়কদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান প্রশাসনের প্রতি।