সেনাবাহিনীকে প্রতিপক্ষ না ভাবার অনুরোধ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় আজ রোববার বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক জিএম সাহাব উদ্দিনছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ
সেনাবাহিনীকে প্রতিপক্ষ না ভাবার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। আজ রোববার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাব উদ্দিন (আজম) নেতা-কর্মীদের প্রতি এ অনুরোধ জানান।
ওই জরুরি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেতা–কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের কাজ করতে সহায়তা করতে হবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এরপর কোনো নেতা বা কর্মী যদি বিশৃঙ্খলা করেন, তাহলে জেলা আওয়ামী লীগ তাঁর দায়দায়িত্ব নেবে না। তিনি জানান, অন্যান্য বছর যেভাবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়, এ বছরও শোক দিবস সেভাবেই পালন করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জরুরি সভায় আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জরুরি সভায় আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ‘গোপলগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সব স্তরের নেতা–কর্মীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল-মিটিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিছিল বা মিটিংয়ে কোনো দেশি অস্ত্র, লাঠিসোঁটা প্রদর্শন করা যাবে না। গত কয়েক দিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু শনিবার কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবে মুজিব আদর্শের সৈনিকদের কাছে আমাদের কাম্য নয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের শত্রু নয়। তাদের প্রতি কোনোপ্রকার শক্তি প্রদর্শন করা যাবে না। গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব প্রকার অঘটনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এ রকম কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় জেলা আওয়ামী লীগ নেবে না। যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, আমরা তাকে দুষ্কৃতকারী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হাতে তুলে দেব।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আপনারা জেনে খুশি হবেন যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভালো আছেন। আমাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনোরকম বিশৃঙ্খলা না করতে শেখ হাসিনা সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাব উদ্দিন আজম বিজ্ঞপ্তিটি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সভা করে প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক।
গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে মিছিল

সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দেশত্যাগে বাধ্য করা’র প্রতিবাদে করা বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে হামলা করে সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় এক সেনাসদস্যের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মিছিল করা হয়।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচ সেনাসদস্যসহ সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে দুই সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁরা হলেন চ্যানেল ২৪-এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি বাদল সাহা ও মাছরাঙার টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাবেত আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেলা তিনটার দিকে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচিতে সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ও জালালাবাদ ইউনিয়ন এবং কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বেলা তিনটার দিকে ওই তিন ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়। তাঁরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশের গাড়ি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জে কর্মরত সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তাঁরা। পরে বিক্ষোভকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেনাসদস্যদের মারধর শুরু করলে সেনাসদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীদের হামলায় সেনাসদস্যরা দৌড়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় এক সেনাসদস্যের কাছ থেকে একটি অস্ত্র নিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনার পর ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেন। পরে অস্ত্রটি গোপীনাথপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে জমা দেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তাঁরা অস্ত্রটি নিতে অস্বীকৃতি জানালে গোপীনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান লাচ্চু শরীফের কাছে জমা দেওয়া হয়।
লাচ্চু শরীফ সাংবাদিদেরকে বলেন, বিক্ষোভকারীরা তাঁর কাছে অস্ত্রটি জমা দিয়ে যান। তিনি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীকে অস্ত্রের বিষয়টি জানিয়েছেন। তাঁরা অস্ত্র নিতে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তার আগপর্যন্ত অস্ত্রটি তাঁর (লাচ্চু) কাছে রাখতে বলেছেন। জানতে চাইলে গোপালগঞ্জে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর মেজর আতিকুর রহমান রোসাদ মুঠোফোনে বলেন, এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।




















