সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে গ্যাস সংকটে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি, ক্ষোভ সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৩৪ দিনে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা সিলেট রায়নগর রাজবাড়ী মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় খুন হওয়া সাত্তার-সুরাইয়ার সন্তানসহ স্বজনদের শান্তনা দেন মন্ত্রী মুক্তাদির ও আরিফ বঙ্গবন্ধুর ৫১ তম শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সিলেট শাহজালাল (রহ.) মাজারের তৃতীয় দফায় দানবাক্স খুলে টাকা গণনা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন গ্যাসের তীব্র সংকট : লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

পাবনায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে নিলে নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকেলে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।

প্রতিনিধি পাবনা :

পাবনায় বিএনপি ও দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি করলে দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা বলেন, দলের যত বড় নেতা-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলের কোনো নেতা শক্তি প্রদর্শন করতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীকে সঙ্গে নিলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন। সেই সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড, অটোরিকশাস্ট্যান্ড, বিপণিবিতান, বালুমহালসহ যেকোনো জায়গায় চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর বিএনপি নেতা-কর্মীরা অনেক ত্যাগস্বীকার করেছেন। জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। শত শত নেতা আত্মত্যাগ করেছেন। স্বৈরাচার সরকার পতনে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। বিএনপির সেই আন্দোলনকে বেগবান করে দিয়েছেন ছাত্ররা। ছাত্র-জনতার গণজাগরণের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে।

বিএনপির এই নেতার দাবি, সরকার পতনের পরই কিছু মানুষ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন; বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিচ্ছেন; ডাকাতি–চাঁদাবাজি–লুটতরাজ করছেন। এরা কেউ বিএনপির লোক না। পাবনায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চেনে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তারা সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসী। বিএনপি তাঁদের প্রতিহত করতে কাজ করবে।

সরকার পতনের পরই কিছু মানুষ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন; বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিচ্ছেন; ডাকাতি–চাঁদাবাজি–লুটতরাজ করছেন। এরা কেউ বিএনপির লোক না। পাবনায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চেনে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তারা সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসী। বিএনপি তাঁদের প্রতিহত করতে কাজ করবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি কখনো সন্ত্রাস–নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপির ও দলের অঙ্গসংগঠনের নামে কেউ যদি সন্ত্রাস–নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের বিএনপির কিছু নেতা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মীদের কাছে ভেড়াচ্ছেন জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপির আর কোনো নেতা-কর্মীর প্রয়োজন নেই। কেউ যদি অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে নিজের শক্তি বাড়াতে চান, তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনাবাসীর উদ্দেশে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে কেউ চাঁদা দেবেন না। কোনো বা স্ট্যান্ড, অটোরিকশাস্ট্যান্ড, রিকশাস্ট্যান্ড কোথাও আর চাঁদাবাজি চলবে না। কেউ যদি চাঁদা চায়, জেলা বিএনপিকে জানাবেন। জেলা বিএনপি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া দলটির কোনো নেতা-কর্মী কাউকে হুমকি দিলে, ভয় দেখালে সেটিও জানাবেন। বিএনপি ব্যবস্থা নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার শান্তি কামনায় ইমামদের প্রতি বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানান। আজ জুমার নামাজের পর জেলা সদর এবং আগামীকাল শনিবার আট উপজেলার সব মন্দির-গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, নূর মোহাম্মদ মাসুম ও আনিসুল হক, সাবেক আহ্বায়ক আজিজুর রহমান, সদস্য আহম্মেদ মোস্তফা প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে নিলে নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৪:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পাবনা জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকেলে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।

প্রতিনিধি পাবনা :

পাবনায় বিএনপি ও দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি করলে দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলটির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা বলেন, দলের যত বড় নেতা-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলের কোনো নেতা শক্তি প্রদর্শন করতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীকে সঙ্গে নিলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন। সেই সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড, অটোরিকশাস্ট্যান্ড, বিপণিবিতান, বালুমহালসহ যেকোনো জায়গায় চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর বিএনপি নেতা-কর্মীরা অনেক ত্যাগস্বীকার করেছেন। জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। শত শত নেতা আত্মত্যাগ করেছেন। স্বৈরাচার সরকার পতনে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। বিএনপির সেই আন্দোলনকে বেগবান করে দিয়েছেন ছাত্ররা। ছাত্র-জনতার গণজাগরণের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে।

বিএনপির এই নেতার দাবি, সরকার পতনের পরই কিছু মানুষ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন; বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিচ্ছেন; ডাকাতি–চাঁদাবাজি–লুটতরাজ করছেন। এরা কেউ বিএনপির লোক না। পাবনায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চেনে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তারা সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসী। বিএনপি তাঁদের প্রতিহত করতে কাজ করবে।

সরকার পতনের পরই কিছু মানুষ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন; বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিচ্ছেন; ডাকাতি–চাঁদাবাজি–লুটতরাজ করছেন। এরা কেউ বিএনপির লোক না। পাবনায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চেনে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তারা সুবিধাবাদী ও সন্ত্রাসী। বিএনপি তাঁদের প্রতিহত করতে কাজ করবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি কখনো সন্ত্রাস–নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দেয় না। বিএনপির ও দলের অঙ্গসংগঠনের নামে কেউ যদি সন্ত্রাস–নৈরাজ্য ও চাঁদাবাজি করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের বিএনপির কিছু নেতা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মীদের কাছে ভেড়াচ্ছেন জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপির আর কোনো নেতা-কর্মীর প্রয়োজন নেই। কেউ যদি অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে নিজের শক্তি বাড়াতে চান, তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনাবাসীর উদ্দেশে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে কেউ চাঁদা দেবেন না। কোনো বা স্ট্যান্ড, অটোরিকশাস্ট্যান্ড, রিকশাস্ট্যান্ড কোথাও আর চাঁদাবাজি চলবে না। কেউ যদি চাঁদা চায়, জেলা বিএনপিকে জানাবেন। জেলা বিএনপি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া দলটির কোনো নেতা-কর্মী কাউকে হুমকি দিলে, ভয় দেখালে সেটিও জানাবেন। বিএনপি ব্যবস্থা নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় নিহত ছাত্র-জনতার আত্মার শান্তি কামনায় ইমামদের প্রতি বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানান। আজ জুমার নামাজের পর জেলা সদর এবং আগামীকাল শনিবার আট উপজেলার সব মন্দির-গির্জাসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, নূর মোহাম্মদ মাসুম ও আনিসুল হক, সাবেক আহ্বায়ক আজিজুর রহমান, সদস্য আহম্মেদ মোস্তফা প্রমুখ।