সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান বঙ্গবন্ধুর ৫১ তম শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সিলেট শাহজালাল (রহ.) মাজারের তৃতীয় দফায় দানবাক্স খুলে টাকা গণনা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন গ্যাসের তীব্র সংকট : লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সিলেটের সাবেক দুই ওসি বাধ্যতামূলক অবসরে সিলেটে ময়লার স্তুপে পাওয়া খণ্ডিত পায়ের পাতা নিয়ে আতঙ্ক সিলেট চেম্বার অবকমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ও মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাসহ নিজ বাসায় তিন খুন

বন্দরবাজারে রিকশা মেকার হত্যার দায়ে ৩ যুবকের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় রিকশা-বাই সাইকেল মেকার আবুল কালাম হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো: শাহাদৎ হোসেন প্রামাণিক এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের স্পেশাল পিপি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার বয়রা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র বর্তমানে নগরীর কানিশাইল এলাকার বাবুল মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ঝাড়ু মিয়া (২১), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার সবুজ মিয়ার পুত্র জাকির (২৫) ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার পাঁচপীর গ্রামের আতর মিয়ার পুত্র লাল মিয়া ওরফে লালু (২৮)। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর রাত ৮ টার দিকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের সন্ধ্যাবাজার এলাকায় রিকশা-বাই সাইকেল মেরামতকারী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার রাণীগঞ্জ এলাকার গন্তরপুর গ্রামের মৃত ইছবর আলীর পুত্র বর্তমানে নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম এর কাছে ৫শ’ টাকা চাঁদা দাবি করে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা। পরে আবুল কালাম ভয়ে তাদেরকে ১০০ টাকা দেন। বাকী ৪০০ টাকা এক ঘণ্টা পর নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। এর আধা ঘণ্টা যেতে না যেতে আবার সন্ত্রাসীরা তার কাছে বাকী ৪’শ টাকা নিতে যায়। টাকা দিতে না পারায় ওইদিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সন্ধ্যাবাজার ফুটপাত এলাকায় সন্ত্রাসীরা আবুল কালামকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আবুল কালামকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ২৯ নভেম্বর সকাল ৭টার দিকে আবুল কালাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহত আবুল কালামের স্ত্রী সমলা খাতুন বেদেনা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১২৪ (২৯-০১১-২০০৭)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৯ মে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সাইদ উদ্দিন ২ আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তী সময় ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় ৩ আসামীকে অভিযুক্ত করে কোতোয়ালি থানার এসআই রকিবুজ্জামান (অভিযোগপত্র নং-৯৭) সম্পূরক একটি চার্জশিট দাখিল করেন এবং ২০১২ সালের ২৯ মার্চ চার্জগঠন করে পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর বিচারকার্য শুরু হয়।দীর্ঘ শুনানী ও ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার আদালত আসামী ঝাড়– মিয়া, জাকির ও লাল মিয়া উরফে লালুকে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত সকল আসামীকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেওয়া হয় বলে জানান স্পেশাল পিপি।মামলাটিতে স্টেট ডিফেন্স ছিলেন এডভোকেট ঝর্ণা বেগম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বন্দরবাজারে রিকশা মেকার হত্যার দায়ে ৩ যুবকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার:দীর্ঘ ১৪ বছর পর সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় রিকশা-বাই সাইকেল মেকার আবুল কালাম হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো: শাহাদৎ হোসেন প্রামাণিক এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের স্পেশাল পিপি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার বয়রা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র বর্তমানে নগরীর কানিশাইল এলাকার বাবুল মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ঝাড়ু মিয়া (২১), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার সবুজ মিয়ার পুত্র জাকির (২৫) ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার পাঁচপীর গ্রামের আতর মিয়ার পুত্র লাল মিয়া ওরফে লালু (২৮)। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর রাত ৮ টার দিকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের সন্ধ্যাবাজার এলাকায় রিকশা-বাই সাইকেল মেরামতকারী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার রাণীগঞ্জ এলাকার গন্তরপুর গ্রামের মৃত ইছবর আলীর পুত্র বর্তমানে নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম এর কাছে ৫শ’ টাকা চাঁদা দাবি করে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা। পরে আবুল কালাম ভয়ে তাদেরকে ১০০ টাকা দেন। বাকী ৪০০ টাকা এক ঘণ্টা পর নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। এর আধা ঘণ্টা যেতে না যেতে আবার সন্ত্রাসীরা তার কাছে বাকী ৪’শ টাকা নিতে যায়। টাকা দিতে না পারায় ওইদিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সন্ধ্যাবাজার ফুটপাত এলাকায় সন্ত্রাসীরা আবুল কালামকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আবুল কালামকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ২৯ নভেম্বর সকাল ৭টার দিকে আবুল কালাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহত আবুল কালামের স্ত্রী সমলা খাতুন বেদেনা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১২৪ (২৯-০১১-২০০৭)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৯ মে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সাইদ উদ্দিন ২ আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তী সময় ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় ৩ আসামীকে অভিযুক্ত করে কোতোয়ালি থানার এসআই রকিবুজ্জামান (অভিযোগপত্র নং-৯৭) সম্পূরক একটি চার্জশিট দাখিল করেন এবং ২০১২ সালের ২৯ মার্চ চার্জগঠন করে পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর বিচারকার্য শুরু হয়।দীর্ঘ শুনানী ও ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার আদালত আসামী ঝাড়– মিয়া, জাকির ও লাল মিয়া উরফে লালুকে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত সকল আসামীকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড দেওয়া হয় বলে জানান স্পেশাল পিপি।মামলাটিতে স্টেট ডিফেন্স ছিলেন এডভোকেট ঝর্ণা বেগম।