সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ সিলেট নগরীতে সড়ক ও জনপথ সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে- এমপি মুক্তাদির জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে- ডা. শফিকুর রহমান সিলেটে বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি হোটেলকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটের সেফওয়ে সিলগালা, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোক সতর্কবার্তা সিলেট র‌্যাবের অভিযানে পুলিশের টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার চীন রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ সিলেট মহানগরীর বাদামবাগিচা এলাকা পরিদর্শনে (সিসিক)কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটে নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ সারোয়ার

তেল ছাড়াই ১২০ কিমি. গেল রতনের ‘বাইক’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

‘ব্যাটারি বাইক’ নিয়ে যাত্রার জন্য প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার রতন মহন্ত

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। যখন এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের রতন মহন্ত দেখাচ্ছেন ভিন্ন আশার আলো। কোনো পেট্রোল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল ছুটছে ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব।

রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক রতন আগে ছিলেন সাইকেল মিস্ত্রি। বর্তমানে কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে।

২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও মোটরসাইকেলটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে রতন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন-বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন!

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করেন রতন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সঙ্গে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তর করেন বৈদ্যুতিক যানে।

রতনের এই উদ্ভাবনে সাশ্রয়ের হিসাবটাও অবিশ্বাস্য। যেখানে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেলচালিত বাইকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে রতনের খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ভোগান্তি নেই, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ঝামেলা।

রতন বলেন, শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে-এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি। এখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে। রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ জানান, রতনের এই বাইক বর্তমান সংকটকালীন সময়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ রতন অনায়াসে চলাফেরা করছেন। খরচও নামমাত্র। আমি নিজেও এখন আমার বাইকটিতে ব্যাটারি বসানোর কথা ভাবছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তেল ছাড়াই ১২০ কিমি. গেল রতনের ‘বাইক’

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

‘ব্যাটারি বাইক’ নিয়ে যাত্রার জন্য প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার রতন মহন্ত

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। যখন এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের রতন মহন্ত দেখাচ্ছেন ভিন্ন আশার আলো। কোনো পেট্রোল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল ছুটছে ১২০ কিলোমিটার দূরত্ব।

রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক রতন আগে ছিলেন সাইকেল মিস্ত্রি। বর্তমানে কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে।

২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও মোটরসাইকেলটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে রতন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন-বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন!

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করেন রতন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সঙ্গে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তর করেন বৈদ্যুতিক যানে।

রতনের এই উদ্ভাবনে সাশ্রয়ের হিসাবটাও অবিশ্বাস্য। যেখানে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেলচালিত বাইকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে রতনের খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ভোগান্তি নেই, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ঝামেলা।

রতন বলেন, শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে-এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি। এখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে। রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ জানান, রতনের এই বাইক বর্তমান সংকটকালীন সময়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ রতন অনায়াসে চলাফেরা করছেন। খরচও নামমাত্র। আমি নিজেও এখন আমার বাইকটিতে ব্যাটারি বসানোর কথা ভাবছি।