সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ এবং ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দু’আ মাহফিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় মডেল-বিভাগীয় কমিশনার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজা ‘সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে উঠবে আধুনিক সিলেট’ – বাণিজ্যমন্ত্রী ত্রিতরঙ্গের বাদল সাঁঝের বর্ণাঢ্য আয়োজন ‘শ্রাবনের মেঘগুলো’ সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সিলেটি সিলেট আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৫১ জন

সিলেট কিশোর গ্যাং’র বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক গ্যাং সদস্যরা। চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এবার হার্ডলাইনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ছিনতাইরোধে রাতভর নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হচ্ছে।

ছিনতাই ও মাদকের আস্তানাগুলোতেও চালানো হচ্ছে বিশেষ অভিযান। গত কয়েক দিনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বিভিন্ন অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে আটক করেছে।

এসএমপি’র মিডিয়া বিভাগ জানায়, শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে বন্দরবাজারস্থ রঙমহল টাওয়ারের পাশের একটি ড্রেনের ভেতর একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ড্রেনের ভেতর থেকে তাদেরকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে চারটি ছোরাসহ ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের সবাই কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, ওই চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করে ড্রেনের ভেতর লুকিয়ে থাকত। আবার ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও করত ড্রেনে বসে। ড্রেনের ভেতর থেকে আটককৃত কিশোর গ্যাং সদস্যরা হলো- মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার দাসপাড়ার মৃত আবদুস ছাত্তারের ছেলে ইমন আহমদ (১৮), একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে রুবেল (২১), শ্রীমঙ্গল থানার শাপলাবাগের মালেক মিয়ার ছেলে ইমন (১৮), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বীরগাঁও’র লাল মিয়ার ছেলে শাহান আহমদ (১৮), সিলেট শহরতলীর বাইশটিলার মৃত আসুল আলমের ছেলে ইয়াসিন (১৮), শহরের জল্লারপাড়ের লিয়াকতের ছেলে শওকত মিয়া (৩০) ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার গোপালপুরের আসাদ মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমদ (১৮)। 

এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শহরের বন্দরবাজার ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। 

একই দিন নগরের কাস্টঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের আরেক সদস্য আবদুর রহিমকে (১৯) আটক করে পুলিশ। সে পেশাদার ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবদুর রহিম সুনামগঞ্জের ছাতক থানার টুকেরগাঁও’র লিয়াকত আলীর ছেলে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাগবাড়িস্থ পিডিবি অফিসের গেট থেকে একটি কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। 

আটককৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আশকুড়ি বীরগাঁও’র পারভেজের ছেলে সাদি ইসলাম সানি (১৮), একই জেলার মধ্যনগর থানার চামারদানি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে আবুল মোড়ল, তাহিরপুর থানার মাহমুদপুরের রিপন তালুকদারের ছেলে রিফাত তালুকদার (১৮), একই থানার রামসিমপুরের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জনি আহম্মেদ (১৯) ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার শরিফউদ্দিন রোডের জিয়াউর রহমানের ছেলে নাহিদ আহমেদ রনি (১৮)। 

আটককৃত এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা বাগবাড়ি, কানিশাইল ও ঘাসিটুলা এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই দিন নগরের বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘বুলেট মামুন কিশোরগ্যাং’ এর তিন সদস্যকে আটক করে। 

এদিকে, গেল কয়েকদিনে নগরে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাতে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করছে। চিহ্নিত ক্রাইমস্পটগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এসএমপির মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করে সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পোষাকির পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট কিশোর গ্যাং’র বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক গ্যাং সদস্যরা। চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এবার হার্ডলাইনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ছিনতাইরোধে রাতভর নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হচ্ছে।

ছিনতাই ও মাদকের আস্তানাগুলোতেও চালানো হচ্ছে বিশেষ অভিযান। গত কয়েক দিনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বিভিন্ন অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে আটক করেছে।

এসএমপি’র মিডিয়া বিভাগ জানায়, শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে বন্দরবাজারস্থ রঙমহল টাওয়ারের পাশের একটি ড্রেনের ভেতর একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ড্রেনের ভেতর থেকে তাদেরকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে চারটি ছোরাসহ ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের সবাই কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, ওই চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করে ড্রেনের ভেতর লুকিয়ে থাকত। আবার ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাও করত ড্রেনে বসে। ড্রেনের ভেতর থেকে আটককৃত কিশোর গ্যাং সদস্যরা হলো- মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার দাসপাড়ার মৃত আবদুস ছাত্তারের ছেলে ইমন আহমদ (১৮), একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে রুবেল (২১), শ্রীমঙ্গল থানার শাপলাবাগের মালেক মিয়ার ছেলে ইমন (১৮), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বীরগাঁও’র লাল মিয়ার ছেলে শাহান আহমদ (১৮), সিলেট শহরতলীর বাইশটিলার মৃত আসুল আলমের ছেলে ইয়াসিন (১৮), শহরের জল্লারপাড়ের লিয়াকতের ছেলে শওকত মিয়া (৩০) ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার গোপালপুরের আসাদ মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমদ (১৮)। 

এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শহরের বন্দরবাজার ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। 

একই দিন নগরের কাস্টঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের আরেক সদস্য আবদুর রহিমকে (১৯) আটক করে পুলিশ। সে পেশাদার ছিনতাইকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। আবদুর রহিম সুনামগঞ্জের ছাতক থানার টুকেরগাঁও’র লিয়াকত আলীর ছেলে। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর বাগবাড়িস্থ পিডিবি অফিসের গেট থেকে একটি কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। 

আটককৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আশকুড়ি বীরগাঁও’র পারভেজের ছেলে সাদি ইসলাম সানি (১৮), একই জেলার মধ্যনগর থানার চামারদানি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে আবুল মোড়ল, তাহিরপুর থানার মাহমুদপুরের রিপন তালুকদারের ছেলে রিফাত তালুকদার (১৮), একই থানার রামসিমপুরের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জনি আহম্মেদ (১৯) ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার শরিফউদ্দিন রোডের জিয়াউর রহমানের ছেলে নাহিদ আহমেদ রনি (১৮)। 

আটককৃত এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা বাগবাড়ি, কানিশাইল ও ঘাসিটুলা এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই দিন নগরের বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘বুলেট মামুন কিশোরগ্যাং’ এর তিন সদস্যকে আটক করে। 

এদিকে, গেল কয়েকদিনে নগরে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রাতে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করছে। চিহ্নিত ক্রাইমস্পটগুলোতেও নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এসএমপির মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করে সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পোষাকির পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।