সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ এবং ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দু’আ মাহফিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় মডেল-বিভাগীয় কমিশনার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজা ‘সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে উঠবে আধুনিক সিলেট’ – বাণিজ্যমন্ত্রী ত্রিতরঙ্গের বাদল সাঁঝের বর্ণাঢ্য আয়োজন ‘শ্রাবনের মেঘগুলো’ সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সিলেটি সিলেট আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৫১ জন

বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বোনা সেই দিন- আজ অমর একুশ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

আজ অমর একুশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তারপর বাংলা রাষ্ট্রভাষা হয়েইছিল,পরবর্তীতে জাতীসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে দিনটিকে স্বীকৃতি দেয় হয়।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হয়ে আসছে।

একুশের প্রথম প্রহরেই জেলা-উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ছুটে আসেন শহীদ মিনারে। 

এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে। এ দিকে দিবসের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকা নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো লক্ষণীয়।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছিল। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। রাত ১২টা ১মিনিট থেকে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ।

আজ একুশের প্রথম প্রহর থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউলসহ নাম না জানা ভাষা সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে পুরো জাতি।

এই দাবিতে একসময় ১৯৪৮ সালজুড়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম হয় যা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে।

গৌরবের এই দিনটির পটভূমি অবশ্য শুরু হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই। আর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, এই সিলেট থেকেই প্রথম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে দাবি জানানো হয় মাসিক আল-ইসলাহ পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে।

সিলেটের দুই মন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির. প্রশাসনের সর্বস্থরের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সচেতন বিভিন্ন মহল শহীদ মিনারের বেদীতে ফুলের স্থবক রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শনিবার সারাদিন।

একটা সময় একুশে ফেব্রুয়ারিতে সিলেট মহানগরীরতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন থাকতো। রবীন্দ্র সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বাউল গান- ইত্যাদিতে মেতে থাকতেন সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমীরা। এখন মবতন্ত্র নেই। দেশে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্টিত হয়েছে। একুশের হাত ধরে তার ইতিবাচক হাওয়ায় সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও জেগে উঠবে- এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের। জেগে উঠুক সিলেটসহ সারাদেশের সাংস্কৃতিক অংঙ্গন।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৮টায় প্রভাতফেরি আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি এসে মিলিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলন স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বোনা সেই দিন- আজ অমর একুশ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আপডেট সময় : ০৯:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

আজ অমর একুশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তারপর বাংলা রাষ্ট্রভাষা হয়েইছিল,পরবর্তীতে জাতীসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে দিনটিকে স্বীকৃতি দেয় হয়।রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হয়ে আসছে।

একুশের প্রথম প্রহরেই জেলা-উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ছুটে আসেন শহীদ মিনারে। 

এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাজিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসুচীর আয়োজন করেছে। এ দিকে দিবসের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকা নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিলো লক্ষণীয়।

মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছিল। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। রাত ১২টা ১মিনিট থেকে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ।

আজ একুশের প্রথম প্রহর থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউলসহ নাম না জানা ভাষা সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে পুরো জাতি।

এই দাবিতে একসময় ১৯৪৮ সালজুড়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম হয় যা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে।

গৌরবের এই দিনটির পটভূমি অবশ্য শুরু হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই। আর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, এই সিলেট থেকেই প্রথম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে দাবি জানানো হয় মাসিক আল-ইসলাহ পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে।

সিলেটের দুই মন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির. প্রশাসনের সর্বস্থরের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সচেতন বিভিন্ন মহল শহীদ মিনারের বেদীতে ফুলের স্থবক রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শনিবার সারাদিন।

একটা সময় একুশে ফেব্রুয়ারিতে সিলেট মহানগরীরতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন থাকতো। রবীন্দ্র সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বাউল গান- ইত্যাদিতে মেতে থাকতেন সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমীরা। এখন মবতন্ত্র নেই। দেশে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্টিত হয়েছে। একুশের হাত ধরে তার ইতিবাচক হাওয়ায় সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও জেগে উঠবে- এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের। জেগে উঠুক সিলেটসহ সারাদেশের সাংস্কৃতিক অংঙ্গন।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৮টায় প্রভাতফেরি আয়োজন করেছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি এসে মিলিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।