সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বালুচর-ইকোপার্ক সড়ক সিলেটে আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী শাবিতে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক শ্রমিক আন্দোলনের ছবি তুললেই হামলা, কারণ কী? ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ সিলেটে আরও একজনের প্রাণ হানি পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রে প্তা রি পরোয়ানা

কেন বৃষ্টিতে লাল হয়ে ওঠে ইরানের হরমুজ দ্বীপের উপকূল?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মেঘ ভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি যেন রং বদলে ফেলে। ইরানের দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টি নামলেই মাটি ছুঁয়ে পানি রূপ নেয় টকটকে লালে—আর সেই লাল স্রোত গড়িয়ে গিয়ে মিশে যায় পারস্য সাগরে। দূর থেকে মনে হয়, যেন সাগরজুড়ে রক্তের আভা।

প্রথম দেখায় অলৌকিক মনে হলেও, এই রহস্যময় দৃশ্যের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে হরমুজ দ্বীপের বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও তার অনন্য ‘গোলাক’ মাটি।

হরমুজের মাটিতে লোহা বা আয়রন অক্সাইডের পরিমাণ অত্যধিক বেশি। বৃষ্টির পানি এই লোহার সঙ্গে মিশে লাল রং ধারণ করে। আরেকটু ব্যাখ্যা করে বললে, লোহা পানির সঙ্গে মেশার পর আলোর স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো শোষণ করে নেয়। আর লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত করে। ফলে আমরা পানি লাল দেখি।

হরমুজ দ্বীপটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এখানে বৃষ্টি সাধারণত বেশ কম হয়। শুধু শীতকাল ও বসন্তের শুরুতে বৃষ্টির দেখা মেলে। পর্যটকেরা অনেকেই এই বৃষ্টিকে ‘ব্লাড রেইন’ বা ‘রক্তবৃষ্টি’ বলে থাকেন। তবে বৃষ্টির পানি কিন্তু মাটিতে পড়ার আগপর্যন্ত স্বাভাবিক রঙেই থাকে।

হরমুজের মাটি শিল্পকারখানায় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কাজেও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের কারণে দ্বীপের মাটিতে লাল ছাড়াও হলুদ, কমলা ও বিভিন্ন রঙের ছাপ দেখা যায়। এর জন্য হরমুজের আরেকটি নাম রয়েছে—‘রংধনু দ্বীপ’। এই দ্বীপের সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে প্রতিবছর সেখানে ছুটে যান বহু পর্যটক।

মঙ্গলবারের ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নানা মন্তব্য করেছেন মানুষ। একজন লিখেছেন, ‘এমন রঙের কারণেই হয়তো লোহিত সাগর নামের ধারণাটা এসেছিল।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আশা করি, কোনো বিরল খনিজের জন্য এমনটা হয়নি। না হয় আবার সুন্দর এই দ্বীপে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়ে যাবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কেন বৃষ্টিতে লাল হয়ে ওঠে ইরানের হরমুজ দ্বীপের উপকূল?

আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মেঘ ভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতি যেন রং বদলে ফেলে। ইরানের দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপে বৃষ্টি নামলেই মাটি ছুঁয়ে পানি রূপ নেয় টকটকে লালে—আর সেই লাল স্রোত গড়িয়ে গিয়ে মিশে যায় পারস্য সাগরে। দূর থেকে মনে হয়, যেন সাগরজুড়ে রক্তের আভা।

প্রথম দেখায় অলৌকিক মনে হলেও, এই রহস্যময় দৃশ্যের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে হরমুজ দ্বীপের বিশেষ ভূপ্রকৃতি ও তার অনন্য ‘গোলাক’ মাটি।

হরমুজের মাটিতে লোহা বা আয়রন অক্সাইডের পরিমাণ অত্যধিক বেশি। বৃষ্টির পানি এই লোহার সঙ্গে মিশে লাল রং ধারণ করে। আরেকটু ব্যাখ্যা করে বললে, লোহা পানির সঙ্গে মেশার পর আলোর স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলো শোষণ করে নেয়। আর লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রতিফলিত করে। ফলে আমরা পানি লাল দেখি।

হরমুজ দ্বীপটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এখানে বৃষ্টি সাধারণত বেশ কম হয়। শুধু শীতকাল ও বসন্তের শুরুতে বৃষ্টির দেখা মেলে। পর্যটকেরা অনেকেই এই বৃষ্টিকে ‘ব্লাড রেইন’ বা ‘রক্তবৃষ্টি’ বলে থাকেন। তবে বৃষ্টির পানি কিন্তু মাটিতে পড়ার আগপর্যন্ত স্বাভাবিক রঙেই থাকে।

হরমুজের মাটি শিল্পকারখানায় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কাজেও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিকের কারণে দ্বীপের মাটিতে লাল ছাড়াও হলুদ, কমলা ও বিভিন্ন রঙের ছাপ দেখা যায়। এর জন্য হরমুজের আরেকটি নাম রয়েছে—‘রংধনু দ্বীপ’। এই দ্বীপের সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে প্রতিবছর সেখানে ছুটে যান বহু পর্যটক।

মঙ্গলবারের ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নানা মন্তব্য করেছেন মানুষ। একজন লিখেছেন, ‘এমন রঙের কারণেই হয়তো লোহিত সাগর নামের ধারণাটা এসেছিল।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আশা করি, কোনো বিরল খনিজের জন্য এমনটা হয়নি। না হয় আবার সুন্দর এই দ্বীপে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়ে যাবে।’