সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে দুর্নীতি, ভাঙনের শঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জে ভেঙে যাওয়া খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাঁধের অক্ষত অংশের গোড়া থেকে মাটি কেটে ভাঙা অংশে নিয়ে ফেলায় ফের ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বর্ষায় বাঁধের ৭৮ মিটার ভেঙে যাওয়া স্থানে দুইদিকে স্লোপসহ ৯০ মিটার এবং নদীর ভিতরে ও বাইরে আরও ১২৫ মিটার ঢালু জায়গায় মাটি ফেলার কথা। এতে মোট ১৭ হাজার ২৮২ ঘনমিটার মাটি প্রয়োজন এবং এতে ব্যয় ধরা আছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

ব্যয়ের টাকা নেওয়া হবে উপজেলা প্রশাসনের কাবিটা প্রকল্প থেকে। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজের তত্ত্বাবধান করবে। পিআইসির শর্ত অনুযায়ী ৬ হাজার ৫২০ ঘনমিটার মাটি বাঁধের ক্ষতি হয় না— নদীর এমন দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি এনে এক্সকেভেটর দিয়ে ফেলার কথা। এজন্য প্রতি ঘনমিটার ১৫৬ টাকা হিসেবে ব্যয় ধরা হয় ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার ৭৬২ ঘনমিটার মাটি ৪৪১ টাকা দরে ট্রাকে করে অন্যত্র থেকে আনার কথা। এর ব্যয় আরও ২৬ লাখ টাকা।

দেখা যায়, পিআইসির শর্ত অমান্য করে ভেঙে যাওয়া স্থানের কাছেই নদীর অভ্যন্তরে অক্ষত বাঁধের ৭০ মিটারের কাছাকাছি স্থান থেকে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাঁধের কাছেই অন্তত ১৫ ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। চিত্র এমন দাঁড়িয়েছে— এক স্থানে বাঁধের গোড়ায় মাটি কেটে গভীর গর্তে পরিণত করে অপর স্থানের গর্ত মেরামত করা হচ্ছে।

সেখানে ১টি এক্সকেভেটর ও ৩টি ট্রাক্টর দ্বারা ৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তারা এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তোলে অদূরেই ভাঙা স্থানে নিয়ে ফেলছেন। কর্মরতরা জানান, বাইরে থেকে ট্রাকে করে কোনো মাটি আনা হবে না। নদীর ভিতর থেকেই ট্রাক্টর দিয়ে প্রয়োজনীয় সব মাটি ভাঙা বাঁধে ফেলা হবে। অথচ এক্সকেভেটর দিয়ে নেওয়া মাটি প্রতি ঘনমিটার ১৫৬ টাকা আর ট্রাক দিয়ে আনা মাটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৪৪১ টাকা  হিসাবে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সকল মাটি নদীর ভেতর থেকে নিয়ে বাঁধে ফেলা হলে প্রাক্কলিত ব্যয়ের অর্ধেকই অপ্রয়োজনীয়। উল্টো একটি স্থান মেরামত করতে গিয়ে বাঁধের অপর স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ করা হচ্ছে। বর্ষায় নতুন করে সেখানে ভাঙন তৈরি হতে পারে।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর, কাদের হোসেন ও আবুল হাসান জানান, বর্ষায় হবিগঞ্জ শহর রক্ষার উদ্দেশ্যে জালালাবাদে নদীর বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছিল। এজন্য প্রায় ৭ মাস ধরে বাঁধের উপরে নির্মিত সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন আবার এক স্থানে গর্ত করেই অপর স্থানের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। কিন্তু এমনভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে যে এর ফলে অক্ষত বাঁধের স্থানে বর্ষায় ভাঙন দেখা দিতে পারে।

এদিকে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নদীতে ভারী যানবাহন নামিয়ে নদীর অবকাঠামো বিনষ্ট করা যাবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা এমন কাজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সংগঠনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদীর বাঁধের নিকট গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয়। নদীতে নামানো এক্সকেভেটর তুলে নেওয়া উচিৎ।

পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবো এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল আজম বলেন, কাজটা মূলত স্থানীয় উপকারভোগীদের নিয়ে গঠিত পিআইসি করছে। বাঁধের গোড়ার এত কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কথা নয়। তারা যদি এমনটি করে থাকেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মে মাসের বন্যায় খোয়াই নদীতে পানি বেড়ে হবিগঞ্জ শহর তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তখন জালালাবাদের দিকে নদীর প্রায় ২০ ফুট বাঁধ কেটে দেওয়া হয় নদী থেকে পানি বের করে চাপ কমানোর জন্য।

বাঁধ ভেঙে দেওয়ার পরদিনই হবিগঞ্জ শহর অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত হয়, কিন্তু বন্যা মোকাবিলার সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বাঁধের ভাঙা স্থানটি মেরামত করা হয়নি। এ কারণে বাঁধের ভাঙা জায়গা বাড়তে বাড়তে ২৫৬ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাঁধের উপর নির্মিত পাকা সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে দুর্নীতি, ভাঙনের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জে ভেঙে যাওয়া খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাঁধের অক্ষত অংশের গোড়া থেকে মাটি কেটে ভাঙা অংশে নিয়ে ফেলায় ফের ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় এ চিত্র দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বর্ষায় বাঁধের ৭৮ মিটার ভেঙে যাওয়া স্থানে দুইদিকে স্লোপসহ ৯০ মিটার এবং নদীর ভিতরে ও বাইরে আরও ১২৫ মিটার ঢালু জায়গায় মাটি ফেলার কথা। এতে মোট ১৭ হাজার ২৮২ ঘনমিটার মাটি প্রয়োজন এবং এতে ব্যয় ধরা আছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা।

ব্যয়ের টাকা নেওয়া হবে উপজেলা প্রশাসনের কাবিটা প্রকল্প থেকে। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজের তত্ত্বাবধান করবে। পিআইসির শর্ত অনুযায়ী ৬ হাজার ৫২০ ঘনমিটার মাটি বাঁধের ক্ষতি হয় না— নদীর এমন দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি এনে এক্সকেভেটর দিয়ে ফেলার কথা। এজন্য প্রতি ঘনমিটার ১৫৬ টাকা হিসেবে ব্যয় ধরা হয় ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার ৭৬২ ঘনমিটার মাটি ৪৪১ টাকা দরে ট্রাকে করে অন্যত্র থেকে আনার কথা। এর ব্যয় আরও ২৬ লাখ টাকা।

দেখা যায়, পিআইসির শর্ত অমান্য করে ভেঙে যাওয়া স্থানের কাছেই নদীর অভ্যন্তরে অক্ষত বাঁধের ৭০ মিটারের কাছাকাছি স্থান থেকে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাঁধের কাছেই অন্তত ১৫ ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। চিত্র এমন দাঁড়িয়েছে— এক স্থানে বাঁধের গোড়ায় মাটি কেটে গভীর গর্তে পরিণত করে অপর স্থানের গর্ত মেরামত করা হচ্ছে।

সেখানে ১টি এক্সকেভেটর ও ৩টি ট্রাক্টর দ্বারা ৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তারা এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে তোলে অদূরেই ভাঙা স্থানে নিয়ে ফেলছেন। কর্মরতরা জানান, বাইরে থেকে ট্রাকে করে কোনো মাটি আনা হবে না। নদীর ভিতর থেকেই ট্রাক্টর দিয়ে প্রয়োজনীয় সব মাটি ভাঙা বাঁধে ফেলা হবে। অথচ এক্সকেভেটর দিয়ে নেওয়া মাটি প্রতি ঘনমিটার ১৫৬ টাকা আর ট্রাক দিয়ে আনা মাটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৪৪১ টাকা  হিসাবে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সকল মাটি নদীর ভেতর থেকে নিয়ে বাঁধে ফেলা হলে প্রাক্কলিত ব্যয়ের অর্ধেকই অপ্রয়োজনীয়। উল্টো একটি স্থান মেরামত করতে গিয়ে বাঁধের অপর স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ করা হচ্ছে। বর্ষায় নতুন করে সেখানে ভাঙন তৈরি হতে পারে।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলী আকবর, কাদের হোসেন ও আবুল হাসান জানান, বর্ষায় হবিগঞ্জ শহর রক্ষার উদ্দেশ্যে জালালাবাদে নদীর বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছিল। এজন্য প্রায় ৭ মাস ধরে বাঁধের উপরে নির্মিত সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন আবার এক স্থানে গর্ত করেই অপর স্থানের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। কিন্তু এমনভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে যে এর ফলে অক্ষত বাঁধের স্থানে বর্ষায় ভাঙন দেখা দিতে পারে।

এদিকে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নদীতে ভারী যানবাহন নামিয়ে নদীর অবকাঠামো বিনষ্ট করা যাবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা এমন কাজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সংগঠনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদীর বাঁধের নিকট গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয়। নদীতে নামানো এক্সকেভেটর তুলে নেওয়া উচিৎ।

পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবো এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল আজম বলেন, কাজটা মূলত স্থানীয় উপকারভোগীদের নিয়ে গঠিত পিআইসি করছে। বাঁধের গোড়ার এত কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কথা নয়। তারা যদি এমনটি করে থাকেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মে মাসের বন্যায় খোয়াই নদীতে পানি বেড়ে হবিগঞ্জ শহর তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তখন জালালাবাদের দিকে নদীর প্রায় ২০ ফুট বাঁধ কেটে দেওয়া হয় নদী থেকে পানি বের করে চাপ কমানোর জন্য।

বাঁধ ভেঙে দেওয়ার পরদিনই হবিগঞ্জ শহর অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত হয়, কিন্তু বন্যা মোকাবিলার সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বাঁধের ভাঙা স্থানটি মেরামত করা হয়নি। এ কারণে বাঁধের ভাঙা জায়গা বাড়তে বাড়তে ২৫৬ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাঁধের উপর নির্মিত পাকা সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ আছে।