সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

মৌলভীবাজারে সাংবাদিকের মা ম লা য় দশ সাংবাদিক আসামি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদীও সাংবাদিক। সাংবাদিকের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন এক সাংবাদিক। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে পরিবার ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিকরা। এ উপজেলায় ১০ সাংবাদিকসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন আরটিভির মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী ভাস্কর হোম। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০  সালের ১১ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) বিতরণ করা হয়। তারেক জিয়ার পিপিই বিতরণ করায় একই মাসের ২১ তারিখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ইদ্রিস আলীকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। পরে সভা ডেকে প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি এম ইদ্রিস আলীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এরপর ইদ্রিস আলীকে শ্রীমঙ্গলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গত চার বছর ইদ্রিস আলীকে হত্যাচেষ্টা, মানহানি করার সময় এ ঘটনায় মামলার আসামিরা জড়িত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আসামি হওয়া সাংবাদিকেরা হলেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, সহসভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক দীপংকর ভট্টাচার্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মামুন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য সনেট দেব চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদুর রহমান, সহসভাপতি ও আরটিভির সাংবাদিক চৌধুরী ভাস্কর হোম, সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার প্রতিনিধি হৃদয় দাশ শুভ এবং দৈনিক বাংলার সাংবাদিক এস কে দাশ সুমন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংবাদিক নেতা বলেন, গ্রেপ্তাফতার আতঙ্কে মামলার নাম উল্লেখ হওয়া সাংবাদিকসহ অন্যান্য অনেক সাংবাদিক গা ঢাকা দিয়েছেন। মামলার বাদী ইদ্রিস আলী বলেন, সে সময়ে আমার ওপরে অনেক অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোনো বিচার পাইনি। এখন যেহেতু বিচারব্যবস্থা ঠিক হয়েছে, তাই আমি মামলা করেছি।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ইদ্রিস আলীর মামলা রেকর্ড করেছি। এই ঘটনায় একজন আটক হয়েছে। বাকিরা পলাতক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মৌলভীবাজারে সাংবাদিকের মা ম লা য় দশ সাংবাদিক আসামি

আপডেট সময় : ০২:২৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদীও সাংবাদিক। সাংবাদিকের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারও হয়েছেন এক সাংবাদিক। এ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে পরিবার ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিকরা। এ উপজেলায় ১০ সাংবাদিকসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন আরটিভির মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী ভাস্কর হোম। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২০  সালের ১১ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট) বিতরণ করা হয়। তারেক জিয়ার পিপিই বিতরণ করায় একই মাসের ২১ তারিখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ইদ্রিস আলীকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। পরে সভা ডেকে প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি এম ইদ্রিস আলীকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এরপর ইদ্রিস আলীকে শ্রীমঙ্গলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গত চার বছর ইদ্রিস আলীকে হত্যাচেষ্টা, মানহানি করার সময় এ ঘটনায় মামলার আসামিরা জড়িত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আসামি হওয়া সাংবাদিকেরা হলেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, সহসভাপতি ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক দীপংকর ভট্টাচার্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মামুন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য সনেট দেব চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদুর রহমান, সহসভাপতি ও আরটিভির সাংবাদিক চৌধুরী ভাস্কর হোম, সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার প্রতিনিধি হৃদয় দাশ শুভ এবং দৈনিক বাংলার সাংবাদিক এস কে দাশ সুমন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংবাদিক নেতা বলেন, গ্রেপ্তাফতার আতঙ্কে মামলার নাম উল্লেখ হওয়া সাংবাদিকসহ অন্যান্য অনেক সাংবাদিক গা ঢাকা দিয়েছেন। মামলার বাদী ইদ্রিস আলী বলেন, সে সময়ে আমার ওপরে অনেক অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় আমি কোনো বিচার পাইনি। এখন যেহেতু বিচারব্যবস্থা ঠিক হয়েছে, তাই আমি মামলা করেছি।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ইদ্রিস আলীর মামলা রেকর্ড করেছি। এই ঘটনায় একজন আটক হয়েছে। বাকিরা পলাতক।