সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

অবৈধ বালু উত্তোলন, দখল এবং দূষণের ফলে – নবীগঞ্জের কুশিয়ারা ও শাখা বরাক নদী অস্তিত্ব সংকটে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬০ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলায় দখল দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কুশিয়ারা ও শাখা বরাক নদী।নবীগঞ্জ উপজেলার অংশে বালু উত্তোলনে সরকারি কোনো অনুমতি না থাকলেও টানা অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে কুশিয়ারা নদীর উভয়তীরে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

অন্য দিকে শাখা বরাকের মায়াবি বুকে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে শহরের সকল ময়লা-আর্বজনা। একদিকে নদীতে তৈরি হচ্ছে ভাগাড় অন্যদিকে এই ভাগাড়ে আগুন দেয়ায় ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভোগছেন শহরবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী কসবা, দুর্গাপুর, পাহাড়পুর, পারকুল, শেরপুর বাজারের নিকটবর্তী স্থানসহ কয়েকটি জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু।

উত্তোলনকৃত বালু চড়াদামে ট্রাক প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে ৬৫০০ থেকে ৮৫০০ হাজার টাকা দরে। সম্প্রতি জানা গেছে- নতুন করে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজার মেশিন ও পাইপ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন নামে ৪-৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালীদের তত্ত্ববধানে কুশিয়ারা নদীর নবীগঞ্জ উপজেলার অংশ থেকে দিন-দুপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদেরা। অন্য দিকে এক সময়ের উত্তাল স্রোতের বরাক নদী কালেরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপথ ফিরে পেতে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেও যেন সুফল মিলছেনা এলাকাবাসীর। রাঘব বোয়ালদেও দখলে রয়েছে বরাক নদীর চরাঞ্চল। দখল ও দূষণের ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলো বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের 

সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সড়কগুলো অকালেই ভেঙ্গে পড়ে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগও রয়েছে। যদিও চলতি বছরে পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীগঞ্জ শেরপুর সড়কের ১নং ব্রিজের নিচ দিয়ে যে খালটি শিবপাশা ঠাকুর পাড়ার ভেতর প্রবাহিত হয়ে নোয়াপাড়া-শাখা বরাক নদীতে মিলিত হয়েছে। এই স্থানের অনেকটাই এখন দখলদারদের কবলে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রায় শত কোটি টাকার ডিসির খতিয়ানভুক্ত খাস ভূমি দখল নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শাখা বরাক নদীটি কালের আবর্তে দখলদারদের কবলে পড়ে একটি নালায় পরিণত হয়েছে। এসব যেন দেখার কেউই নেই। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন। শহরের সেই পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। ২০২০ সালের ২ মার্চ নবীগঞ্জের শাখা বরাক নদী সচল ও প্রবাহমান রাখতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষনা দেয়।

তৎকালিন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের নির্দেশে নবীগঞ্জ উপজেলার শাখা বরাক নদী থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। করা হয় অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন। নবীগঞ্জের শাখা বরাক নদীর ১০১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয়। আশার আলো জ্বলে নবীগঞ্জবাসীর মনে। আনন্দের জোয়ার দেখা যায় প্রকৃতি প্রেমিদের মাঝে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান নবীগঞ্জবাসী। অনেকেই মনে করেছিলেন হয়তো হারানো যৌবন ফিরে পাবে শাখা বরাক।

ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, নবীগঞ্জ ভূমি অফিস ও পৌরসভার সার্ভেয়াররা সরেজমিনে দখলদারদের নাম তালিকাভূক্ত করে বিভিন্ন বাসা-মার্কেটে লাল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করেন। পরে প্রশাসন অভিযান করে বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। কিন্তু করোনা সংক্রমন বাড়ায় অভিযান শুরুর কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত নদী সচল ও প্রবাহমান রাখতে আর কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে শাখা বরাক নদীতে ফেলা হচ্ছে শহরের সকল ময়লা-আবর্জনা। বর্তমানে ডাক বাংলোর সামনে, সবজি বাজারের পেছনে, নোয়াপাড়া পয়েন্টে, শিবপাশা ব্রিজের নিকটে ও হাসপাতাল সংলগ্ন শাখা বরাকে ফেলা হচ্ছে এসব ময়লা। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে রোগব্যাধি। কিন্তু নাকওলা জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কারো নাকেই যেন এই পচা গন্ধ লাগছে না। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ তারা দামী গাড়ি দিয়ে দাপিয়ে বেড়ান তাই গাড়ির ভেতর দিয়ে গন্ধ তাদের নাকে পৌঁছায় না।

রিভার উইনসের প্রতিষ্ঠা সদস্য কীর্তিনারায়ন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফয়জুর রব পনি বলেন, ‘আমাদের নবীগঞ্জ শহরের প্রাণ, শহরের অস্তিত্ব শাখা বরাক নদী বছরের পর বছর ধরে চলা দূষণ আর দখলে আজ বিলিন প্রায়। কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে দূষিত হচ্ছে, এই দূষিত হওয়ার পেছনে যে প্রতিষ্ঠানকে সবাই দায়ী করছে, সেটা হচ্ছে আমাদের পৌর প্রশাসন। তারা পৌর শহরের ময়লা সংগ্রহ করে তা এই নদীর উপরে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে। বর্তমানে আমাদের সহজ সরল দাবী নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যে ময়লা ফেলে ভাগাড় করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার করতে হবে। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পৌরসভার মেয়র মহোদয় এর প্রতি আকুল আবেদন জানাই, আপনারা দয়া করে এই নদীকে আর অত্যাচার করবেন না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেন- কুশিয়ারা নদী থেকে তোলা হচ্ছে অবৈধ বালু অন্যদিকে শাখা বরাক নদী করা হয়েছে দখল, বরাকে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সরব প্রতিবাদ করে আসলেও প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হুমকির মুখে পড়েছে। অতিদ্রুত কুশিয়ারা নদীর বালু উত্তোলন বন্ধে ও শাখা বরাক নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ শাখা বরাক নদী থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেয়ার জোরদাবী জানাচ্ছি। আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দিলাওয়ার হোসেন বলেন, কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য দাবি জানাচ্ছি। আর না হয় এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাশ জানান, কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নবীগঞ্জের কোথাও অনুমতি নেই। কোনভাবেই কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। বালু উত্তোলন করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অবৈধ বালু উত্তোলন, দখল এবং দূষণের ফলে – নবীগঞ্জের কুশিয়ারা ও শাখা বরাক নদী অস্তিত্ব সংকটে

আপডেট সময় : ০৫:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

নবীগঞ্জ উপজেলায় দখল দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কুশিয়ারা ও শাখা বরাক নদী।নবীগঞ্জ উপজেলার অংশে বালু উত্তোলনে সরকারি কোনো অনুমতি না থাকলেও টানা অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে রয়েছে কুশিয়ারা নদীর উভয়তীরে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

অন্য দিকে শাখা বরাকের মায়াবি বুকে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে শহরের সকল ময়লা-আর্বজনা। একদিকে নদীতে তৈরি হচ্ছে ভাগাড় অন্যদিকে এই ভাগাড়ে আগুন দেয়ায় ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষ শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভোগছেন শহরবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী কসবা, দুর্গাপুর, পাহাড়পুর, পারকুল, শেরপুর বাজারের নিকটবর্তী স্থানসহ কয়েকটি জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু।

উত্তোলনকৃত বালু চড়াদামে ট্রাক প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে ৬৫০০ থেকে ৮৫০০ হাজার টাকা দরে। সম্প্রতি জানা গেছে- নতুন করে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজার মেশিন ও পাইপ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন নামে ৪-৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারি কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালীদের তত্ত্ববধানে কুশিয়ারা নদীর নবীগঞ্জ উপজেলার অংশ থেকে দিন-দুপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদেরা। অন্য দিকে এক সময়ের উত্তাল স্রোতের বরাক নদী কালেরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপথ ফিরে পেতে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেও যেন সুফল মিলছেনা এলাকাবাসীর। রাঘব বোয়ালদেও দখলে রয়েছে বরাক নদীর চরাঞ্চল। দখল ও দূষণের ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলো বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের 

সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সড়কগুলো অকালেই ভেঙ্গে পড়ে। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগও রয়েছে। যদিও চলতি বছরে পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীগঞ্জ শেরপুর সড়কের ১নং ব্রিজের নিচ দিয়ে যে খালটি শিবপাশা ঠাকুর পাড়ার ভেতর প্রবাহিত হয়ে নোয়াপাড়া-শাখা বরাক নদীতে মিলিত হয়েছে। এই স্থানের অনেকটাই এখন দখলদারদের কবলে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রায় শত কোটি টাকার ডিসির খতিয়ানভুক্ত খাস ভূমি দখল নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী শাখা বরাক নদীটি কালের আবর্তে দখলদারদের কবলে পড়ে একটি নালায় পরিণত হয়েছে। এসব যেন দেখার কেউই নেই। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন। শহরের সেই পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। ২০২০ সালের ২ মার্চ নবীগঞ্জের শাখা বরাক নদী সচল ও প্রবাহমান রাখতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষনা দেয়।

তৎকালিন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের নির্দেশে নবীগঞ্জ উপজেলার শাখা বরাক নদী থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। করা হয় অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন। নবীগঞ্জের শাখা বরাক নদীর ১০১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয়। আশার আলো জ্বলে নবীগঞ্জবাসীর মনে। আনন্দের জোয়ার দেখা যায় প্রকৃতি প্রেমিদের মাঝে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান নবীগঞ্জবাসী। অনেকেই মনে করেছিলেন হয়তো হারানো যৌবন ফিরে পাবে শাখা বরাক।

ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, নবীগঞ্জ ভূমি অফিস ও পৌরসভার সার্ভেয়াররা সরেজমিনে দখলদারদের নাম তালিকাভূক্ত করে বিভিন্ন বাসা-মার্কেটে লাল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করেন। পরে প্রশাসন অভিযান করে বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। কিন্তু করোনা সংক্রমন বাড়ায় অভিযান শুরুর কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত নদী সচল ও প্রবাহমান রাখতে আর কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে শাখা বরাক নদীতে ফেলা হচ্ছে শহরের সকল ময়লা-আবর্জনা। বর্তমানে ডাক বাংলোর সামনে, সবজি বাজারের পেছনে, নোয়াপাড়া পয়েন্টে, শিবপাশা ব্রিজের নিকটে ও হাসপাতাল সংলগ্ন শাখা বরাকে ফেলা হচ্ছে এসব ময়লা। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে রোগব্যাধি। কিন্তু নাকওলা জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কারো নাকেই যেন এই পচা গন্ধ লাগছে না। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ তারা দামী গাড়ি দিয়ে দাপিয়ে বেড়ান তাই গাড়ির ভেতর দিয়ে গন্ধ তাদের নাকে পৌঁছায় না।

রিভার উইনসের প্রতিষ্ঠা সদস্য কীর্তিনারায়ন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফয়জুর রব পনি বলেন, ‘আমাদের নবীগঞ্জ শহরের প্রাণ, শহরের অস্তিত্ব শাখা বরাক নদী বছরের পর বছর ধরে চলা দূষণ আর দখলে আজ বিলিন প্রায়। কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে দূষিত হচ্ছে, এই দূষিত হওয়ার পেছনে যে প্রতিষ্ঠানকে সবাই দায়ী করছে, সেটা হচ্ছে আমাদের পৌর প্রশাসন। তারা পৌর শহরের ময়লা সংগ্রহ করে তা এই নদীর উপরে ময়লার ভাগাড় বানিয়েছে। বর্তমানে আমাদের সহজ সরল দাবী নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যে ময়লা ফেলে ভাগাড় করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার করতে হবে। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পৌরসভার মেয়র মহোদয় এর প্রতি আকুল আবেদন জানাই, আপনারা দয়া করে এই নদীকে আর অত্যাচার করবেন না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল সোহেল বলেন- কুশিয়ারা নদী থেকে তোলা হচ্ছে অবৈধ বালু অন্যদিকে শাখা বরাক নদী করা হয়েছে দখল, বরাকে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সরব প্রতিবাদ করে আসলেও প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হুমকির মুখে পড়েছে। অতিদ্রুত কুশিয়ারা নদীর বালু উত্তোলন বন্ধে ও শাখা বরাক নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ শাখা বরাক নদী থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেয়ার জোরদাবী জানাচ্ছি। আউশকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দিলাওয়ার হোসেন বলেন, কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য দাবি জানাচ্ছি। আর না হয় এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাশ জানান, কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নবীগঞ্জের কোথাও অনুমতি নেই। কোনভাবেই কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। বালু উত্তোলন করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।