‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে পীর চরমোনাই জনসাধারণের স্বার্থে ৯ দফা ঘোষণা’
- আপডেট সময় : ০১:২৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে ৯ আগষ্ট (শুক্রবার) দুপুর ২ টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে পীর সাহেব চরমোনাই তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষিত ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে সারাদেশের ন্যায় গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণসমাবেশটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মুফতি সাঈদ আহমদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএল.বি)।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “নির্যাতন নিপীড়ন আর নিষ্ঠুরতার ১৬ বছর পরে আজ দেশ স্বৈরশাসক মুক্ত হয়েছে। দেশ আবারও স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীনতা দেশের ছাত্র জনতাসহ আপামর জনসাধারণের। যাদের থেকে দেশ স্বাধীন হয়েছে তারা ছিল নিষ্ঠুর নির্দয় বর্বর। তারা দেশের সকল প্রশাসনিক কাঠামোকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষ জালিম থেকে মুক্তি পেয়েছে। জনগণ এখন প্রাণ খুলে হাসছে। প্রাণ খুলে নিশ্বাস নিচ্ছে। স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছে আল্লাহর শুকরিয়া আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই জালিম বর্বরদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। আবারো যেন দেশে কোন স্বৈরাশাসকের আবির্ভাব না হয় সেই দিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। যাদের অতীতের নির্যাতন-নিপীড়ন আর জুলুমের ইতিহাস আছে তারা যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে না পারে সেই দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। শান্তি ও মুক্তিকামী মানুষের প্রাণের রাহবর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সকল জুলুম অত্যাচার দূর করে বাংলাদেশকে একটি শান্তির জনপদ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম আমীর পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিশেষ করে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গণসমাবেশে বক্তাগণ আরো বলেন, “ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট দেশ ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক মুক্ত হয়েছে। এখন সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী দুঃশাসন দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে একেবারে ভংঙ্গুর করে দিয়েছে। ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে করেছে বিপর্যস্ত। বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাষ্ট্রের সকল অসঙ্গতি দূর করে দুর্নীতি, দুঃশাসনমুক্ত উন্নত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন এখন সময়ের দাবি। এদিকে কিছু সুযোগ সন্ধানী অসৎ লোকেরা এই অস্থিতিশীল সময়কে তাদের অসৎ ফায়দা হাসিলের সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা দেশের সম্পদ বিনষ্ট, জনগণের দোকানপাট লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে।
তাই তাদের হাত থেকে দেশের মানুষের জানমাল হেফাজত করার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল নেতা-কর্মী, সকল সহযোগী সংগঠন সহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।
গণসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা সভাপতি নজির আহমদ, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু, সিলেট মহানগর সহ-সভাপতি ডাক্তার রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, হাফিজ মাওলানা আসআদ উদ্দিন, জেলা সহ সভাপতি মাওলানা মোঃ আমির উদ্দিন, ফজলুল হক, মুহাম্মদ নুরুল আমীন, মহানগর জয়েন্ট সেক্রেটারী হাফিজ মাওলানা আব্দুস শহীদ, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী প্রভাষক বুরহান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মতিউর রহমান খান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, মহানগর সদস্য ইসহাক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ নোমান আহমদ ফাহাদ, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা সোলাইমান আহমদ শাহী, জেলা সদস্য আব্দুল করীম, ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল হক, মহানগর সভাপতি জাকির হোসেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম শামীম, নগর সভাপতি মকবুল হোসেন প্রমুখ।
























