হবিগঞ্জের অজ পাড়া গ্রাম থেকে উঠে আসা সফল ব্যক্তি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী-
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
জন্ম ও শৈশব কাল :
প্রায় অর্ধশত বর্ষ পূর্বে হবিগঞ্জ মহকুমা যাহা আজকের (হবিগঞ্জ সদর উপজেলার, লুকরা ইউপি এর অর্ন্তরগত) “ফান্দ্রাইল” নামক গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম সৈয়দ পরিবার বসবাস করতেন। (বর্তমান ঠিকানাঃ- গ্রাম : ফান্দ্রাইল, ইউনিয়ন : লুকরা, ডাক : বেকিটেকা, থানা ও জেলা : হবিগঞ্জ)। সেই পরিবারে, ১৯৭২ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তার পিতা সৈয়দ কছিরুল হোসাঈন, মাতা সৈয়দা রাবেয়া খাতুন। তারা দুই পুত্র ও এক কণ্যা সন্তানের জনক জননী। তিন ভাই বোনের মধ্যে “সৈয়দ মাহবুবুর রহমান” ছোটো। তিনি পরিবার, বাড়ির ও গ্রামের অন্যান ছেলেমেয়েদের মতো। প্রথমে মক্তবের ওস্তাদজীর নিকট ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ ও পরবর্তীতে বাংলা শিক্ষার জন্য পাঠশালায় ভর্তি হন।
কৈশোর ও ছাত্র জীবন :
দেখতে দেখতে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ১১ বৎসরের কিশোর, গ্রামের পাঠশালা শেষে ১৯৮৩ সালে আষেড়া উচ্চ বদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হন। গ্রামের মেঠোপথে প্রতিদিন তাকে চার কিলোমিটার যাতায়াত করতে হত। তিনি আষেড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ষ্ট শ্রেণী পাশ করে। চলে যান তার মাতুতালয় বর্তমান লাখাই উপজেলায়। সেখানে তিনি বামৈ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে মানবিক বিভাগে মেট্রিক পরীক্ষায়, কৃতিত্বের সহিত ২য় স্থান অধিকার করেন। তখন সময়ে, সারা দেশে প্রবল বন্যা হয়েছিল। বন্যা পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সকল সময়েই, ফান্দ্রাইল গ্রাম থেকে হবিগঞ্জ মহকুমা শহরে যাতায়াতের তেমন সূ – ব্যাবস্থা ছিলনা। এক মাত্র পানি পথে নৌকা যোগে, কোর্ট ষ্টেশন ঘাট থেকে, বেকিটেকা বাজার ঘাট পর্যন্ত দির্ঘ প্রায় ০৭ কিলোমিটার, পানি পথেই আসা যাওয়া করতে হতো। ছোটোবেলা থেকেই সৈয়দ মাহবুব ছিলেন সদালাপী, পরোপকারী, ত্যাগী ও মেধাবী। গায়ের রং কালো বর্ণের হলেও মন ছিলো দুধের মতো পরিষ্কার। তিনি শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছেন। সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের পরিবার সেই সময়। খুব একটা সচ্ছল ছিলনা, তার পিতা ছিলেন গ্রাম্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। এর উপরই নির্বশীল তাদের পরিবার। পরে তিনি হবিগঞ্জের ঐতিহ্য বাহী স্বনামধন্য বিদ্যাপিট “বৃন্দাবন” সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এইচ,এস,সি পাশ করেন।
কর্ম জীবন ও বৈবাহিক অবস্থান :
১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে, সিপাহী (কনস্টেবল) পদে যোগদান করেন। চাকুরির প্রথমার্ধে সিরাজগঞ্জ জেলা ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দির্ঘ সাত বছর অতিবাহিত করেন। ১৯৯৭ সালে মায়ের নির্দেশে তিনি, পাশ্ববর্তী এলাকার উচাইল গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে মোসাম্মাৎ ফাতেমা আক্তার চৌধুরী (শিউলী)র সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনে একই পদে বদলি হয়ে আসেন। পরবর্তিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে কর্মদক্ষতা ও পারদর্শিতার কারনে। বিভিন্ন পদে পদায়িত হতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ পুলিশ (ওসি) পদে পদন্নোতি লাভ করেন। এবার সরকার বাহাদুর তাকে, পুলিশের বিশেষ বিভাগে (ডিবি শাখায়) বদলি করেন। তিনি সিলেট মহানগর ডিবিতে যোগদান করেন। ডিবিতে যোগদানের কিছুদিন পর, আবার তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন কোর্টে বদলি করাহয়। বর্তমানে তিনি সেখানে তার উপর, অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যান্ত নিষ্টার সহিত পালন করে যাচ্ছেন।
সফলতা :
* তার উপর গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের, অর্পিত সকল দায়িত্ব তিনি ইতিপূর্বে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছেন। সেই জন্য তাকে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষথেকে একাধিক সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।
* ব্যাক্তি জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক, তাদেরকে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পেরেছেন।
* তিনি তার কর্ম ক্ষেত্রে সচ্ছতার স্বীকৃতি স্বরূপ, বার বার পদন্নোতি লাভ করতে পেরেছেন।
* তিনি তার বাবার রেখে যাওয়া, অসমাপ্ত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
* মাতা সৈয়দা রাবেয়া খাতুন এর নির্দেশে, তিনি তার প্রৌ-পিতা সৈয়দ এক্রাম হোসেন ও দাদা সৈয়দ আহম্মদ হোসেনের মাজারদ্বয়,আধুনিক ভাবে সংস্কার করতে পেরেছেন।
* তিনি নিজ হাতে রচনা করেছেন, কাছিদায়ে শাহেন শাহ্ নামে একটি বৃহৎ বই।
সহযোগিতা :
আগেই বলেছিলাম যে, সৈয়দ মাহবুব একজন সদালাপী, সৎজন ব্যাক্তি ও নরম মনের অধিকারী। তার নিকট কেউ কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা চাইলে, তিনি বলতেন কোনো মানুষ কাউকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেনা। একমাত্র আল্লাহই সকল কিছুর মালিক। তবে তার মেহেরবানীর বদৌলতে ও তাহার ওয়াস্তে আমার মাধ্যমে, কিছু উপকার হয়ত তুমার হবে। এভাবে তিনি বহু সংখ্যক অসহায় গরীব দুঃখী দের মুখে হাঁসি ফুটানোর চেষ্টা করেছেন।
শখ :
পৃথিবীর সমস্ত নবী, রাছুল ও ওলি আওলিয়াগনের মাজার শরিফ ও রওজা শরিফ এবং কারবালার মাঠ,ইমাম হুসাঈনের মাথা মোবারক জেয়ারত সম্পন্ন করা। পাশাপাশি মক্কা শরিফ ও মদিনা শরীফ জেয়ারত করা। বিশেষ করে হজ্জ্ব আদায় করা। এছাড়াও আধ্যাত্মিক মহাপুরুষগণের স্বানিধ্য লাভ করা। সেই সাথে পাগল,ফকির ও দরবেশদের খাওয়ানো। বই পড়া ও ছোটো ছোটো কোমলমতি শিশুদের সংঙ্গে খোলা মাঠে খেলাধুলা করা ও আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি।

কুষ্টি বা বংশিয় সিলসিলা :
০১। হযরত আলী (আঃ) ইবনে আবু তালিব।
০২। হযরত খাতুনে জান্নাত সৈয়দাতুন নিছা বরকতুন নিছা “মা” ফাতেমা (আঃ)।
০৩। হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ইবনে আলী।
০৪। হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ) ইবনে আলী।
০৫। হযরত ইমাম জয়নাল আবেদীন (আঃ) ইবনে হুসাইন।
০৬। হযরত ইমাম বাকের (রাঃ) ইবনে জয়নাল।
০৭। হযরত ইমাম জাফর সাদিক (রাঃ) ইবনে বাকের।
০৮। হযরত ইমাম মুসা আল-খাজেম (রাঃ) ইবনে জাফর।
০৯। হযরত ইমাম আলী আল-রেজা (রাঃ) ইবনে খাজেম।
১০। হযরত ইমাম আলী আল-সুলতান(রাঃ) ইবনে রেজা।
১১। হযরত ইমাম মোহাম্মদ আলী আত-তাকী (রাঃ) ইবনে সুলতান।
১২। হযরত ইমাম মোহাম্মদ আলী আল-নাকী (রাঃ) ইবনে আত-তাকী।
১৩। হযরত ইমাম মোহাম্মদ দানীয়াল মোয়াজ (রাঃ) ইবনে আল-নাকী।
১৪। হযরত ইমাম মোহাম্মদ ফনা জুদাদ (রাঃ) ইবনে মোয়াজ।
১৫। হযরত ইমাম হাসান আল-আসকারী (রাঃ) ইবনে ফনা জুদাদ।
১৬। হযরত ইমাম আলী আল-মাহদী (রাঃ) ইবনে আল- আসকারী।
১৭। হযরত ইমাম আবুল ফজল (রাঃ) ইবনে আল-মাহদী।
১৮। হযরত ইমাম আবুল ফাত্তাহ (রাঃ) ইবনে আবুল ফজল।
১৯। হযরত ইমাম খাজা দাউদ আততায়ী (রাঃ) ইবনে ফাত্তাহ।
২০। হযরত ইমাম আল-হাসান আল আরাবি (রাঃ) ইবনে দাউদ আততায়ী।
২১। সিপাহ্ সালার সৈয়দ নাছির উদ্দীন (রহঃ) ইবনে আল আরাবি।
২২। সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন (রহঃ) ইবনে নাছির উদ্দীন।
২৩। সৈয়দ শাহ্ মুসাফির (রহঃ) ইবনে সিরাজ।
২৪। সৈয়দ শাহ্ খোদাবন্দ (রহঃ) ইবনে মুসাফির।
২৫। সৈয়দ শাহ্ ইসরাইল (রহঃ) মুলকুল উলামা ইবনে শাহ্ খোদাবন্দ।
২৬। সৈয়দ শাহ্ ইলিয়াস (রহঃ) কুতুবুল আউলিয়া ইবনে শাহ্ ইসরাইল।
২৭। সৈয়দ শাহ্ বদর (রহঃ) ইবনে শাহ্ কুতুবুল আউলিয়া।
২৮। সৈয়দ শাহ্ নূর প্রকাশ শাহ্ নূরী (রহঃ) ইবনে শাহ্ বদর।
২৯। সৈয়দ শাহ্ আনোয়ার হোসেন (রহঃ) ইবনে শাহ্ নূরী।
৩০। সৈয়দ শাহ্ আকবর হোসেন (রহঃ) ইবনে শাহ্ আনোয়ার।
৩১। সৈয়দ শাহ্ আব্রু হোসেন (রহঃ) ইবনে শাহ্ আকবর হোসেন।
৩২। শাহ্ সূফী সৈয়দ এক্রাম হোসেন (রহঃ) ইবনে শাহ্ আব্রু।
৩৩। শাহ্ সূফী সৈয়দ আহমদুল হোসাইন (রহঃ) ইবনে শাহ্ এক্রাম।
৩৪। শাহ্ সূফী সৈয়দ কছিরুল হোসাইন ইবনে শাহ্ আহমদুল হোসাইন।
৩৫। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ইবনে শাহ্ কছিরুল হোসাঈন।
চলমান ঘটনা প্রবাহ :
সৈয়দ মাহবুব এমনি একজন ব্যাক্তি, যিনি চাইলে পুলিশে চাকুরীর সুবাদে অর্থের পাহাড় গড়তে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করতে যাননি, আর তিনি তা করবেনইবা কেনো! তিনি তো আর আমাদের মতো সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেননি। জন্মগ্রহণ করেছেন আরব তথা কুলকায়নাতের সর্ব শ্রেষ্ঠ বংশে। তার ধ্মনিতে,শিরায় উপশিরায় বহিছে আওলাদে রাছুল (সাঃ) এর পবিত্র রক্ত মোবারক। সৈয়দ মাহবুব সদা হাস্যজ্বল ও বিনয়ী মনোভাবে থাকেন। তার পরি ভাষায় তিনি বলেন, আমা থেকে কেউ যেনো কেনো প্রকার দুঃখ,কষ্ট নাপায়। আমি সর্বদা সেই চেষ্টাটাই করি। তাইতো সৈয়দ মাহবুব তার এই জীবনের ক্ষুদ্র সময়ে। পেয়েছেন অনেক আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের সাক্ষাৎ। তিনি যে সকল মহান ব্যাক্তিদের শখ্যতা ও সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, নিন্মে তাহা উল্লেখ করা হলো।
০১। হযরত হিঙ্গার পুরি পীর সাহেব (মাঃজিঃ) নাম অজ্ঞাত, সিলেট জকিগঞ্জ।
০২। হযরত বিসকুটির পীর সাহেব (রহঃ) নাম অজ্ঞাত সিলেট।
০৩। হযরত গহর পুরি পীর সাহেব (রহঃ) নাম অজ্ঞাত সিলেট, বালাগঞ্জ।
০৪। হযরত ফুলতলীর পীর সাহেব (রহঃ) সিলেট জকিগঞ্জ।
০৫। হযরত রহিম শাহ্ (রহঃ), মৌলভীবাজার,শ্রীমঙ্গল।
০৬। হযরত জামাল মজনু (মাঃজিঃ) হবিগঞ্জ, বাহুবল।
০৭। হযরত আব্দুল মতিন (মাঃজিঃ) মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ।
০৮। হযরত আরিফ নূরী (মাঃজিঃ) সুরেশ্বর দরবার শরীফ।
০৯। হযরত দেওয়ান মাহবুব রাজা চৌধুরী (রহঃ) ওরফে (মৌরাজা)। হবিগঞ্জ, উমেদ নগর।
১০। শেখ মোসাম্মাৎ বিবি পারভীন মুজাররাদে মজনু (আধ্যাত্মিক সাধিকা)। মৌলভীবাজার,শ্রীমঙ্গল।
শেষ ইচ্ছা :
মৃত্যুর পূর্বে মানব কল্যাণে ও ওলি আওলিয়াগনের সেবায়, নিজ জীবনের বাকি সময় টুকু বিলীয়ে দেওয়া। সেই সাথে পাক পঞ্জাতনের গোলামী করতে করতে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমানী পতাকা কাঁধে বহন করে, ঈমানের সহিত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা।
তথ্য সংগ্রহে :
সাংবাদিক ও আর্টিস্ট ,মোঃ নূরুল আমীন খাঁন,সম্পাদক ও প্রকাশক: ভিউ নিউজ ৭১.কম,সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান: দ্যা ডেইলি বিজনেস মিরর,দ্যা ডেইলি স্টেইট,জাতীয় দৈনিক আলোর বার্তা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক: সিলেট সাংবাদিক ইউনিয়ন,রেজি:নং চট্ট: ২৭২৮।

















