সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে জৈন্তাপুরে পাহাড় ও টিলা কর্তনে- পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগ, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি সিলেটে মাজারে গান গাইতে এসে বাউলশিল্পী পেহলি ভৈরবী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ওসমানীনগর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯, পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ এবং ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দু’আ মাহফিল পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় মডেল-বিভাগীয় কমিশনার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজা ‘সমন্বিত উদ্যোগেই গড়ে উঠবে আধুনিক সিলেট’ – বাণিজ্যমন্ত্রী ত্রিতরঙ্গের বাদল সাঁঝের বর্ণাঢ্য আয়োজন ‘শ্রাবনের মেঘগুলো’

সিলেটে জৈন্তাপুরে পাহাড় ও টিলা কর্তনে- পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগ, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :

সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (দলইপাড়া) গ্রামে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির পাহাড় ও টিলা জোরপূর্বক কেটে পরিবেশের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র ফারুক আহমদ, কামাল আহমদ ও নাজিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রবাসী সেলিম আহমদ বলেন, ‘আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। বাড়িতে শুধু আমাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে টিলা খেকোরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করছে। আমরা প্রবাসী হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে টিলা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং টিলা কর্তনের আলামত ও অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় টিলা কাটার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সিলেটের পাহাড় ও টিলাগুলো ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন কৌশলে চলছে টিলা কাটা। কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো দিনের বেলায় যন্ত্রপাতি আড়াল করে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ, জমি সমতলকরণ এবং মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত টিলা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।

সিলেটে গত কয়েকদশক থেকেই চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এর ফলে গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে। টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে টিলা ধ্বংস বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে টিলা রক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে জৈন্তাপুরে পাহাড় ও টিলা কর্তনে- পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগ, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :

সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (দলইপাড়া) গ্রামে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির পাহাড় ও টিলা জোরপূর্বক কেটে পরিবেশের ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের পুত্র ফারুক আহমদ, কামাল আহমদ ও নাজিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি বসতভিটার নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রবাসী সেলিম আহমদ বলেন, ‘আমরা দুই ভাই প্রবাসে থাকি। বাড়িতে শুধু আমাদের অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। এই সুযোগে টিলা খেকোরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের টিলা কেটে বসতভিটাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করছে। আমরা প্রবাসী হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে টিলা কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং টিলা কর্তনের আলামত ও অভিযুক্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় টিলা কাটার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সিলেটের পাহাড় ও টিলাগুলো ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন কৌশলে চলছে টিলা কাটা। কখনো রাতের আঁধারে, আবার কখনো দিনের বেলায় যন্ত্রপাতি আড়াল করে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ, জমি সমতলকরণ এবং মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত টিলা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।

সিলেটে গত কয়েকদশক থেকেই চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এর ফলে গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে। টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে টিলা ধ্বংস বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে টিলা রক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।