মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব- এম এ মালিক এমপি
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি :
রমজান মাস উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) দুপুর ১২টায় দক্ষিণ সুরমা এলাকায় নিজ বাসভবনে পারিবারিক দাতব্য সংস্থা আনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় তিনি বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও গরিব মানুষের কল্যাণে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ত্রাণ বিতরণ, ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এম এ মালিক জানান, গত এক থেকে দুই মাসে এলাকায় প্রায় ৩১টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। আরও ১২ থেকে ১৪টি টিউবওয়েলের কাজ আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এসব উদ্যোগের ফলে বহু পরিবার নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, ব্রিটিশভিত্তিক পারিবারিক দাতব্য সংস্থা আনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের অর্থায়নে পরিচালিত এই ট্রাস্ট স্বচ্ছ হিসাবের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করে থাকে। ট্রাস্ট থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, গরিব মেয়েদের বিয়ে, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণ এবং প্রতি রমজানে দুই থেকে তিন হাজার মানুষের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এমপি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক কার্যক্রম আড়ালে পরিচালিত হলেও বর্তমানে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড উন্মুক্তভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি জানান, জালালপুর-বালাগঞ্জ সড়ক ডাবল লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি তিন উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বালাগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার সংযোগকারী একটি সেতুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দ্রুত যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি ফেরি সার্ভিসও চালু করা হয়েছে, যা দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করবে।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি বলেন, বন্ধ থাকা হেলথ কমপ্লেক্সগুলো চালু করা, শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোজার পর থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে এম এ মালিক জানান, তিন উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং মেয়েদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়নভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন, সেই সম্মান রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
আনোয়ার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।















