ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটসহ সারা দেশে মোটরসাইকেলসহ যানচলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  সিলেটে নির্বাচনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাজিরা প্যারেড অনুষ্ঠিত সিলেট কানাইঘাটের ৮১টি ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় ‘হিসাববিজ্ঞান ফোরাম’ সিলেট পঞ্চম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সিলেট-১ আসন জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মুক্তাদির ছাড় দিতে নারাজ হাবিবুর নারী টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, জিরা ও বাংলাদেশি মশার কয়েল জব্দ আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান: ফখরুল নারীরা জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবেন না: শফিকুর রহমান হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভাতা আত্মসাৎ ও প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

সিলেট-১ আসন জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মুক্তাদির ছাড় দিতে নারাজ হাবিবুর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে প্রচার এখন তুঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কথার লড়াই-সব মিলিয়ে সরগরম নির্বাচনের মাঠ। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবার কার সঙ্গে কার লড়াই-সেই হিসাব-নিকাশই এখন ভোটের মাঠের প্রধান আলোচ্য। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, কার অবস্থান শক্ত, কার দুর্বল প্রচারণা, জনসমর্থন ও রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়ে প্রতিটি আসনেই চলছে টানটান উত্তেজনা। আজ থাকছে সিলেট-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র। 

সবকটি রাজনৈতিক দলের কাছেই বেশি সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) অসনের বাড়তি কদর রয়েছে। সিলেট-১ আসনকে দেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে এই আসনে যে দল জয়ী হয়, জাতীয় পর্যায়েও সেই দল সরকার গঠন করে। একে অনেকেই রাজনৈতিক মিথ বলে মনে করলেও নির্বাচনী ফলাফল বারবার এই ধারণার পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছে। 

স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত অধিকাংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিলেট-১ আসনের রায় প্রায়শই কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনে সিলেট-১ আসনেও বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই আসনেও দলটি জয় পায়। একই ধারা দেখা যায় ২০০১ সালের নির্বাচনেও। সে বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে এবং সিলেট-১ আসনেও বিএনপি জয়ী হয়। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। সেই নির্বাচনে সিলেট-১ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এই আসনে জয়ী হন। ফলে একের পর এক নির্বাচনের ফলাফল এই আসনকে একটি রাজনৈতিক ‘ব্যারোমিটার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-১ আসনের এই বৈশিষ্ট্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই আসনে নগর ও গ্রামীণ ভোটারের মিশ্রণ রয়েছে। ফলে এখানে ভোটারদের সিদ্ধান্তে শহুরে মধ্যবিত্ত, ব্যবসায়ী শ্রেণি, শ্রমজীবী মানুষ ও তরুণদের ভাবনা একসঙ্গে প্রতিফলিত হয়। 

দ্বিতীয়ত, এই আসনের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন। জাতীয় ইস্যু, সরকার গঠনের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে ভোটাররা অনেক সময় আবেগের চেয়ে বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেন। 

তৃতীয়ত, প্রবাসী ভোটারদের প্রভাবও এই আসনে উল্লেখযোগ্য। সিলেট অঞ্চলের বড় একটি অংশের পরিবার প্রবাসে বসবাস করেন। প্রবাসীদের রাজনৈতিক মতামত ও আলোচনাও স্থানীয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণেই সিলেট-১ আসনের ভোটাররা অনেক সময় ‘ক্ষমতার সম্ভাব্য দিকেই’ ঝুঁকে পড়েন। ফলে এই আসনের ফল জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, এটি কোনো সাংবিধানিক বা অটল সত্য নয়। বরং একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রবণতা মাত্র। সময়, প্রার্থী ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালে এই ধারা ভেঙেও যেতে পারে। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাই সিলেট-১ আসনের দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। এখানে কার জয় হয়, তা শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়- বরং সারাদেশের রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। 

এই কারণেই সিলেট-১ আসনের লড়াই বরাবরের মতো এবারও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রচলিত মিথ আবারও সত্যি হয়, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেয়Ñতা জানতে অপেক্ষা ভোটের দিনের। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি, জামায়েতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলসহ সহ বেশকটি রাজনৈতিক দলের ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ) ও জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে প্রচারণা ও জনসমর্থনে এখন পর্যন্ত বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি ভোটারদের। তারা বলছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্লীন ইমেজের নেতা। তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ডে সাথে যুক্ত ছিলেন। এই আসনের প্রতিটি অলি-গলি পাড়া-মহল্লায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেসময় লাখের অধিক ভোট পেয়েছেন তিনি। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার বিচারে তাকেই ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছে সাধারণ ভোটারেরা। 

অন্যদিকে জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপালের চেয়ারম্যানও তিনি। সেই সুবাদে সব শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে তাঁর উঠাবসা রয়েছে। তবে ভোটের মাঠে তিনি নতুন। প্রচারণা শুরুর পর থেকে তিনিও বসে নেই। ছুটছেন সমানতালে। দিনরাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন ও তরুণ ভোটারদের নজর এবার তাঁর দিকে, কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে শক্ত লড়াই হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 

এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্জয় কান্ত দাস (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরাও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, জনসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬ নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং হিজড়া রভাটার ১৩ জন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট-১ আসন জনপ্রিয়তায় এগিয়ে মুক্তাদির ছাড় দিতে নারাজ হাবিবুর

আপডেট সময় : ১১:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে প্রচার এখন তুঙ্গে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কথার লড়াই-সব মিলিয়ে সরগরম নির্বাচনের মাঠ। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবার কার সঙ্গে কার লড়াই-সেই হিসাব-নিকাশই এখন ভোটের মাঠের প্রধান আলোচ্য। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে, কার অবস্থান শক্ত, কার দুর্বল প্রচারণা, জনসমর্থন ও রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়ে প্রতিটি আসনেই চলছে টানটান উত্তেজনা। আজ থাকছে সিলেট-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র। 

সবকটি রাজনৈতিক দলের কাছেই বেশি সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) অসনের বাড়তি কদর রয়েছে। সিলেট-১ আসনকে দেশের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে এই আসনে যে দল জয়ী হয়, জাতীয় পর্যায়েও সেই দল সরকার গঠন করে। একে অনেকেই রাজনৈতিক মিথ বলে মনে করলেও নির্বাচনী ফলাফল বারবার এই ধারণার পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছে। 

স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত অধিকাংশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিলেট-১ আসনের রায় প্রায়শই কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনে সিলেট-১ আসনেও বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই আসনেও দলটি জয় পায়। একই ধারা দেখা যায় ২০০১ সালের নির্বাচনেও। সে বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে এবং সিলেট-১ আসনেও বিএনপি জয়ী হয়। 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। সেই নির্বাচনে সিলেট-১ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এই আসনে জয়ী হন। ফলে একের পর এক নির্বাচনের ফলাফল এই আসনকে একটি রাজনৈতিক ‘ব্যারোমিটার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-১ আসনের এই বৈশিষ্ট্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এই আসনে নগর ও গ্রামীণ ভোটারের মিশ্রণ রয়েছে। ফলে এখানে ভোটারদের সিদ্ধান্তে শহুরে মধ্যবিত্ত, ব্যবসায়ী শ্রেণি, শ্রমজীবী মানুষ ও তরুণদের ভাবনা একসঙ্গে প্রতিফলিত হয়। 

দ্বিতীয়ত, এই আসনের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন। জাতীয় ইস্যু, সরকার গঠনের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে ভোটাররা অনেক সময় আবেগের চেয়ে বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেন। 

তৃতীয়ত, প্রবাসী ভোটারদের প্রভাবও এই আসনে উল্লেখযোগ্য। সিলেট অঞ্চলের বড় একটি অংশের পরিবার প্রবাসে বসবাস করেন। প্রবাসীদের রাজনৈতিক মতামত ও আলোচনাও স্থানীয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণেই সিলেট-১ আসনের ভোটাররা অনেক সময় ‘ক্ষমতার সম্ভাব্য দিকেই’ ঝুঁকে পড়েন। ফলে এই আসনের ফল জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, এটি কোনো সাংবিধানিক বা অটল সত্য নয়। বরং একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রবণতা মাত্র। সময়, প্রার্থী ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালে এই ধারা ভেঙেও যেতে পারে। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাই সিলেট-১ আসনের দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। এখানে কার জয় হয়, তা শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়- বরং সারাদেশের রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। 

এই কারণেই সিলেট-১ আসনের লড়াই বরাবরের মতো এবারও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রচলিত মিথ আবারও সত্যি হয়, নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেয়Ñতা জানতে অপেক্ষা ভোটের দিনের। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি, জামায়েতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলসহ সহ বেশকটি রাজনৈতিক দলের ৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ) ও জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে প্রচারণা ও জনসমর্থনে এখন পর্যন্ত বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি ভোটারদের। তারা বলছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্লীন ইমেজের নেতা। তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ডে সাথে যুক্ত ছিলেন। এই আসনের প্রতিটি অলি-গলি পাড়া-মহল্লায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেসময় লাখের অধিক ভোট পেয়েছেন তিনি। সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার বিচারে তাকেই ভোটের মাঠে এগিয়ে রাখছে সাধারণ ভোটারেরা। 

অন্যদিকে জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপালের চেয়ারম্যানও তিনি। সেই সুবাদে সব শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে তাঁর উঠাবসা রয়েছে। তবে ভোটের মাঠে তিনি নতুন। প্রচারণা শুরুর পর থেকে তিনিও বসে নেই। ছুটছেন সমানতালে। দিনরাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন ও তরুণ ভোটারদের নজর এবার তাঁর দিকে, কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে শক্ত লড়াই হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 

এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্জয় কান্ত দাস (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরাও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, জনসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬ নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং হিজড়া রভাটার ১৩ জন।