সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি)-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সিলেট জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় পালিত হয়েছে ‘ভিডিপি দিবস’। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে দিনভর ছিল উৎসবমুখর ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিলেট রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোঃ জিয়াউল হাসান, বিভিএমএস,পিএএমএস। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিপি’র দীর্ঘ পথচলা, বর্তমান ভূমিকা এবং আগামীর করণীয় নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।
উপমহাপরিচালক বলেন, গ্রাম ও নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের মহান লক্ষ্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে প্রায় ৬১ লক্ষ সদস্যের এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী পরিবারে। এই ঐতিহাসিক দিনে আমি ভিডিপি’র সকল সদস্য-সদস্যা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
ভিডিপি’কে গণপ্রতিরক্ষার একটি দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে। আইন প্রয়োগে সহায়তা, সামাজিক অপরাধ দমন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধারকাজ এবং জরুরি মানবিক সহায়তাসহ নানাবিধ সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তারা নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সুবর্ণ জয়ন্তীর এই আয়োজনে ভিডিপি সদস্যদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন উপমহাপরিচালক । তিনি বলেন, আধুনিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আনসার–ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় ভিডিপি সদস্যরা কৃষি, মৎস্য ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, বাহিনীর মহাপরিচালক তোমাদের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিটাক ও সহজ ডটকমের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে । এর লক্ষ্য দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং একই সঙ্গে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির পথ সুগম করা।
উপমহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন, মহাপরিচালকের হাত ধরে, বহুল প্রত্যাশিত ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১২টি জেলার ১২টি উপজেলায় চালু হয়েছে। পরিকল্পিত ও টেকসই অর্থনৈতিক সুরক্ষা কাঠামো হিসেবে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সকল ভিডিপি সদস্যকে আধুনিক ডিজিটাল ডাটাবেজ AVMIS-এর আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য সদস্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউলের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্ষম, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ভিডিপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।
ভিডিপি প্রতিষ্ঠার এই স্মরণীয় দিনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপমহাপরিচালক বলেন, অদম্য সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভিডিপিকে আরও সুশৃঙ্খল, প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী বাহিনীতে পরিণত করা যায়। তাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি গড়ে উঠবে।
দিবসটি উপলক্ষে বেলুন উড়ানো, এবং বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের এই দিনে গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ভিডিপি’র পথচলা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সিলেট জেলার জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ শাহ নেওয়াজ,সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট তানিয়া আক্তার,সহকারী পরিচালক সিলেট রেঞ্জ মোঃ মিরাজুল ইসলাম খানসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক ভিডিপি সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন।

















