সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সিলেটের নরককুন্ডগুলোতে জমজমাট হয়ে উঠে মদ গাঁজার ইয়াবা ফেন্সিডিলের আসর-

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের নরক কুন্ডগুলো এখনো সরগরম! প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা। জমজমাট হয়ে উঠে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা আর মদ গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। রাত গভীর থেকে এখানে চলে ভোর পর্যন্ত নেশার আড্ডা।

নরক কুন্ডগুলোর কয়েকটার অবস্থান নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, কয়েকটা আবার শহরতলীর বিভিন্ন চা বাগানে। সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বন্দরবাজার এলাকা। এই বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি সংলগ্ন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সিলেটের প্রধান নরক কুন্ড হিসাবে কুখ্যাত। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে মানুষতো থাকেই। কিন্তু সেই ঘরগুলোতেই চলে মদ-গাজা আর ইয়াবা ফেন্সিডিলের জমজমাট আসর।

এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে জমতে শুরু করে কাষ্টঘরে নেশার আসর । তারপর মদের গ্লাসে চুমুকে চুমুকে জমে উঠে রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতিসহ দেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। গাজার কল্কিতে ধোঁয়া উঠে, উঠে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাগুলোও দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয় এখানে।

আতঙ্কের বিষয়, সিলেট এবং দেশের অনেক বড়বড় দাগি অপরাধীরাও পরিচয় আড়াল করে এখানে বসেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। আর এরমধ্যেই জীবন যাপন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবার পরিজন- নারী ও শিশুরা।

অতোটা জম-জমাট না হলেও সুরমার দক্ষিণপারের সুইপার কলোনিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। আর এসব কলোনিতে মদের যোগান বাইরে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটের চা বাগানগুলো থেকে। বাগানের চা শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ বিশেষ শ্রেণীর মদ উৎপদানের সাথে জড়িত- এটা প্রায় সবাই জানেন। তাদের উৎপাদিত মদ ‘বাংলা মদ’ হিসাবে পরিচিত এবং যারা মদের নেশা করেন তাদের কাছে এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে।


শুধু উৎপাদন আর বাইরে বিক্রিই নয়, কোনো কোনো বাগানেও কাষ্টঘরের মতো এমন আসর বসে। অবশ্য পরিমাণে কম হলেও কাষ্টঘরেও বাংলা মদ উৎপাদন হয় বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেই কোনকাল থেকেই সরগরম সিলেটের এই নরক কুন্ডগুলো। কালেভদে অভিযান হয়, কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনোবা যৌথ অভিযান। এতে দু’চারজন ধরাও পড়েন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনা। কাজের কাজটি হচ্ছে নিয়মিত অভিযান বা স্থায়ীভাবে মদ গাজা ইয়াবা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। সেটি আর হয়ে উঠেছে না।

এ ব্যাপারে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের আগ্রহ, এত এত মাদক বিরোধী অভিযান হয়, অথচ পুলিশের নাকের ডগায় এত বড় মাদকের আস্তানা বহাল তবিয়তে কিভাবে টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে? আবার চা বাগানেই বা কিভাবে মাদক উৎপাদন বা নেশার আসর বসে? এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছেনা কেন?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের নরককুন্ডগুলোতে জমজমাট হয়ে উঠে মদ গাঁজার ইয়াবা ফেন্সিডিলের আসর-

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের নরক কুন্ডগুলো এখনো সরগরম! প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা। জমজমাট হয়ে উঠে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা আর মদ গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। রাত গভীর থেকে এখানে চলে ভোর পর্যন্ত নেশার আড্ডা।

নরক কুন্ডগুলোর কয়েকটার অবস্থান নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, কয়েকটা আবার শহরতলীর বিভিন্ন চা বাগানে। সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বন্দরবাজার এলাকা। এই বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি সংলগ্ন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সিলেটের প্রধান নরক কুন্ড হিসাবে কুখ্যাত। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে মানুষতো থাকেই। কিন্তু সেই ঘরগুলোতেই চলে মদ-গাজা আর ইয়াবা ফেন্সিডিলের জমজমাট আসর।

এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে জমতে শুরু করে কাষ্টঘরে নেশার আসর । তারপর মদের গ্লাসে চুমুকে চুমুকে জমে উঠে রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতিসহ দেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। গাজার কল্কিতে ধোঁয়া উঠে, উঠে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাগুলোও দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয় এখানে।

আতঙ্কের বিষয়, সিলেট এবং দেশের অনেক বড়বড় দাগি অপরাধীরাও পরিচয় আড়াল করে এখানে বসেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। আর এরমধ্যেই জীবন যাপন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবার পরিজন- নারী ও শিশুরা।

অতোটা জম-জমাট না হলেও সুরমার দক্ষিণপারের সুইপার কলোনিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। আর এসব কলোনিতে মদের যোগান বাইরে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটের চা বাগানগুলো থেকে। বাগানের চা শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ বিশেষ শ্রেণীর মদ উৎপদানের সাথে জড়িত- এটা প্রায় সবাই জানেন। তাদের উৎপাদিত মদ ‘বাংলা মদ’ হিসাবে পরিচিত এবং যারা মদের নেশা করেন তাদের কাছে এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে।


শুধু উৎপাদন আর বাইরে বিক্রিই নয়, কোনো কোনো বাগানেও কাষ্টঘরের মতো এমন আসর বসে। অবশ্য পরিমাণে কম হলেও কাষ্টঘরেও বাংলা মদ উৎপাদন হয় বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেই কোনকাল থেকেই সরগরম সিলেটের এই নরক কুন্ডগুলো। কালেভদে অভিযান হয়, কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনোবা যৌথ অভিযান। এতে দু’চারজন ধরাও পড়েন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনা। কাজের কাজটি হচ্ছে নিয়মিত অভিযান বা স্থায়ীভাবে মদ গাজা ইয়াবা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। সেটি আর হয়ে উঠেছে না।

এ ব্যাপারে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের আগ্রহ, এত এত মাদক বিরোধী অভিযান হয়, অথচ পুলিশের নাকের ডগায় এত বড় মাদকের আস্তানা বহাল তবিয়তে কিভাবে টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে? আবার চা বাগানেই বা কিভাবে মাদক উৎপাদন বা নেশার আসর বসে? এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছেনা কেন?