সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

সিলেটে কোম্পানীগঞ্জ শাহ আরেফিনের পাথর আটকাতে ব্যারিকেড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়েছে অভিনব কৌশল। যে রাস্তা দিয়ে পাথর পরিবহন করা হয় সেই রাস্তায় ট্রাক্টর আটকাতে দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ভাবে লোহার পাইপের ব্যারিকেড। এছাড়াও শাহ আরেফিন টিলার সাথে সংযুক্ত সকল রাস্তা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে দেওয়া হবে। যাতে টিলা থেকে কোন গাড়ি বের হতে না পারে।

শাহ আরেফিনের পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে পাথর উত্তোলন পরিবহন মজুদ ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় প্রায় ১৫ জনকে জেল জরিমানা দেওয়া হয়েছে। তার পরেও বন্ধ হচ্ছে না শাহ আরেফিনের পাথর উত্তোলন।

গত ১০ নভেম্বর শাহ আরেফিন টিলা পরিদর্শনে আসেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি এসময় বলেন যে কোন মূল্যে বন্ধ করা হবে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন। সেই সাথে আইনের আওতায় আনা হবে দুষ্কৃতকারীদের। জেলা প্রশাসকের এমন হুশিয়ারীর পর কিছুটা বন্ধ হয় পাথর উত্তোলন। পাথরের গর্ত থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় লিস্টার মেশিন। তবে এরমধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন দু-চারজন যারা ডিসির হুশিয়ারীর পরেও মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জালিয়ারপাড়ের বাবুল আহমদ ও চিকাডহরের আব্দুর রহিম চালিয়ে যান এই দুঃসাহসী কাজ। তারা শাহ আরেফিনের মাজার ও মাজারের আসপাশ থেকে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন। তাদের এই দুঃসাহসে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যরাও পাথরের গর্তে মেশিন বসাতে শুরু করে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫/১৭টি গর্তে মেশিন বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে রাস্তায় লোহার পাইপ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে শাহ আরেফিনের রাস্তার সংযোগ স্থানে বসানো হয়েছে এই ব্যারিকেড। দুপাশে লোহার খুটি ও উপরে লোহার পাইপ দিয়ে বসানো এই ব্যারিকেড দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। তবে বড় গাড়ি পার হতে হলে উপরের লোহার পাইপ খুলে দিতে হবে। এজন্য সেখানে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ. পিপিএম, জানান শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এর মধ্যে আমরা প্রায় ১৫ জনকে আটক করে জেল দিয়েছি। নতুন করে মামলা দেওয়া হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, শাহ আরেফিন টিলার পাথর যাতে কেউ পরিবহন করতে না পারে সেজন্য আমরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছি। তাছাড়া শাহ আরেফিন টিলার সাথে সংযুক্ত সকল রাস্তা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে দেওয়া হবে।

ইউএনও আরো জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের সুবিধার্তে ব্যারিকেডটি তালা সিস্টেম করা হয়েছে। আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনমতো তারা তালা খুলে গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে কোম্পানীগঞ্জ শাহ আরেফিনের পাথর আটকাতে ব্যারিকেড

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন নিয়েছে অভিনব কৌশল। যে রাস্তা দিয়ে পাথর পরিবহন করা হয় সেই রাস্তায় ট্রাক্টর আটকাতে দেওয়া হয়েছে স্থায়ী ভাবে লোহার পাইপের ব্যারিকেড। এছাড়াও শাহ আরেফিন টিলার সাথে সংযুক্ত সকল রাস্তা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে দেওয়া হবে। যাতে টিলা থেকে কোন গাড়ি বের হতে না পারে।

শাহ আরেফিনের পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে পাথর উত্তোলন পরিবহন মজুদ ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় প্রায় ১৫ জনকে জেল জরিমানা দেওয়া হয়েছে। তার পরেও বন্ধ হচ্ছে না শাহ আরেফিনের পাথর উত্তোলন।

গত ১০ নভেম্বর শাহ আরেফিন টিলা পরিদর্শনে আসেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি এসময় বলেন যে কোন মূল্যে বন্ধ করা হবে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন। সেই সাথে আইনের আওতায় আনা হবে দুষ্কৃতকারীদের। জেলা প্রশাসকের এমন হুশিয়ারীর পর কিছুটা বন্ধ হয় পাথর উত্তোলন। পাথরের গর্ত থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় লিস্টার মেশিন। তবে এরমধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন দু-চারজন যারা ডিসির হুশিয়ারীর পরেও মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জালিয়ারপাড়ের বাবুল আহমদ ও চিকাডহরের আব্দুর রহিম চালিয়ে যান এই দুঃসাহসী কাজ। তারা শাহ আরেফিনের মাজার ও মাজারের আসপাশ থেকে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন। তাদের এই দুঃসাহসে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যরাও পাথরের গর্তে মেশিন বসাতে শুরু করে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫/১৭টি গর্তে মেশিন বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে রাস্তায় লোহার পাইপ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে শাহ আরেফিনের রাস্তার সংযোগ স্থানে বসানো হয়েছে এই ব্যারিকেড। দুপাশে লোহার খুটি ও উপরে লোহার পাইপ দিয়ে বসানো এই ব্যারিকেড দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। তবে বড় গাড়ি পার হতে হলে উপরের লোহার পাইপ খুলে দিতে হবে। এজন্য সেখানে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি রতন শেখ. পিপিএম, জানান শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এর মধ্যে আমরা প্রায় ১৫ জনকে আটক করে জেল দিয়েছি। নতুন করে মামলা দেওয়া হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, শাহ আরেফিন টিলার পাথর যাতে কেউ পরিবহন করতে না পারে সেজন্য আমরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছি। তাছাড়া শাহ আরেফিন টিলার সাথে সংযুক্ত সকল রাস্তা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে দেওয়া হবে।

ইউএনও আরো জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের সুবিধার্তে ব্যারিকেডটি তালা সিস্টেম করা হয়েছে। আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনমতো তারা তালা খুলে গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।