সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

সুনামগঞ্জ ছাতকে দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ছাতকে নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গিয়ে উপজেলার টেঙ্গারগাঁও গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা। হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা দায়ের হলে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় দুই সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন শাহিন। সেই হুমকির একটি কল রেকর্ডসহ শাহিনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও তৎকালীন ওসি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে শাহিন ও তার ভাইয়েরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য ছাতক থানার এসআই মো. রোমেন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ ছাতক পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের টেঙ্গারগাঁও গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় গ্রামের আলতাফ আলীর পুত্র শাহিনের ভাই জয়নাল মিয়া আসামি ধরতে পুলিশকে বাধা দেন। এছাড়া মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে পুলিশকে হেনস্তাসহ জিম্মি করে ফেলেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ছাতক থানার ওসি শফিকুল আলম খানসহ পুলিশের আরেকটি দল। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার জন্য শাহিনের নেতৃত্ব পুলিশের ওপর হামলা চালান তার ভাই জয়নাল মিয়া (৩০), আক্তার মিয়া (২৭), মিলন মিয়া (২৫), মো. সাইমন মিয়া (২২), তার পিতা মো. আলতাফ মিয়া (৬০), একই এলাকার নুরুল হকের পুত্র মোস্তাকিন, লাল মিয়ার পুত্র মান্নাসহ ৪০/৫০ জনের একটি দল। হামলাকারীরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে ৪ হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

হামলায় আহত এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে উন্নত চিকিৎসার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এসআই সাহাব উদ্দিনকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে অন্যান্য আসামিদের ধরতে রাত ২টায় পৃথক অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় তাদেরকে না পেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাতক থানার ওসি শফিকুল আলম জানান, নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৪ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুনামগঞ্জ ছাতকে দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ছাতকে নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গিয়ে উপজেলার টেঙ্গারগাঁও গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা। হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা দায়ের হলে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় দুই সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন শাহিন। সেই হুমকির একটি কল রেকর্ডসহ শাহিনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও তৎকালীন ওসি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে শাহিন ও তার ভাইয়েরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য ছাতক থানার এসআই মো. রোমেন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স সহ ছাতক পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের টেঙ্গারগাঁও গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় গ্রামের আলতাফ আলীর পুত্র শাহিনের ভাই জয়নাল মিয়া আসামি ধরতে পুলিশকে বাধা দেন। এছাড়া মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে পুলিশকে হেনস্তাসহ জিম্মি করে ফেলেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ছাতক থানার ওসি শফিকুল আলম খানসহ পুলিশের আরেকটি দল। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার জন্য শাহিনের নেতৃত্ব পুলিশের ওপর হামলা চালান তার ভাই জয়নাল মিয়া (৩০), আক্তার মিয়া (২৭), মিলন মিয়া (২৫), মো. সাইমন মিয়া (২২), তার পিতা মো. আলতাফ মিয়া (৬০), একই এলাকার নুরুল হকের পুত্র মোস্তাকিন, লাল মিয়ার পুত্র মান্নাসহ ৪০/৫০ জনের একটি দল। হামলাকারীরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে ৪ হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

হামলায় আহত এসআই সাহাব উদ্দিন ও কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত কনস্টেবল মোস্তাক আহমদকে উন্নত চিকিৎসার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এসআই সাহাব উদ্দিনকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে অন্যান্য আসামিদের ধরতে রাত ২টায় পৃথক অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় তাদেরকে না পেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাতক থানার ওসি শফিকুল আলম জানান, নিয়মিত মামলার আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৪ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।