ভাসানীরা না থাকলে শেখ মুজিব কখনো তৈরি হতেন না: নাহিদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা মওলানা ভাসানীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই। কারণ তাকে ইতিহাসে স্মরণ করা হয় না। ভাসানীর মতো মহান রাজনৈতিক পুরুষ, বাংলাদেশের স্থপতি থাকা সত্ত্বেও শুধু একজনকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৫৪ বছরে একজন ব্যক্তিকে পূজা করা হয়েছে। কিন্ত ভাসানীরা না থাকলে শেখ মুজিব কখনো তৈরি হতে পারতেন না।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু একজন জাতির পিতা নন, অনেকগুলো জাতির পিতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম মাওলানা ভাসানী। তিনি কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য লড়াই করেছিলেন, গণমানুষের জন্য লড়াই করেছিলেন। আমরা ভাসানীর সেই আদর্শকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মাওলানা ভাসানী শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের একজন রাজনৈতিক পুরুষ ছিলেন। ভাসানীর রাজনীতি শুরু হয়েছিল আসামে। সেই আসামে তিনি বাঙালি মুসলিম কৃষকদের অধিকার ও তাদের ভূমি অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন। সেই লড়াই এখন পর্যন্ত আসামের বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের লড়তে হয়। সেখানে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে পরিচিত হতে হয়।
তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী প্রথম ব্যক্তি যিনি কাগমারী আন্দোলনের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীদের বিদায় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি হচ্ছেন এমন রাজনৈতিক পুরুষ যিনি স্বাধীনতার পরে বলেছিলেন ‘আমরা পিঞ্জির ভেঙেছি, দিল্লির দাসত্ব করার জন্য নয়, দিল্লির গোলামি করার জন্য নয়।’
টাঙ্গাইলের শাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নামে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির সমালোচনা করে বলেন, তাঁত শিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, দেশের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আমরা কৃষকদের সংগঠিত করতে চাই।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোওয়ারী, সিনিয়র জেষ্ঠ সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, টাঙ্গাইল জেলার মুখ্য সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজের সামনে থেকে পদযাত্রা নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে আসেন তারা।
ব্রিটিশ-পিন্ডি-দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই করা ভাসানীর পথেই দেশকে এগিয়ে নেব: নাহিদ

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ, পিন্ডি ও দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা মওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্ববায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্টের অন্যতম স্থপতি। মওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই জায়গা থেকে আমরা তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা করছি। আমরা মাওলানা ভাসানীকে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দেখি। ’
তিনি আরও বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ছিলেন কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষের রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যিনি একই সঙ্গে ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে, পিন্ডির আধিপত্যের বিরুদ্ধে ও দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।’
ছাত্রদের উদ্দেশে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সমাজের যে ভূমিকা ছিল, আমাদের আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণেও আপনাদের সেই ভূমিকা থাকবে। আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ইনশাল্লাহ আগামীর বাংলাদেশও সকল অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়াই করবো। তরুণ্যের এ জাগরণ অব্যাহত রাখতে হবে। ’
জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে সোমবার রাতে টাঙ্গাইল আসে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করতে যান। জিয়ারত শেষে ভাসানী দরবার হলে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।




























