সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে এসএসসিতে শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফেল ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ সিলেটে স্বামী উপপরিচালক ক্ষমতার কেন্দ্রে স্ত্রী! জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মাধবপুর ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৩ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ সিলেটে কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, আহত ২

যাত্রী রেখে চলে গেল ট্রেন, স্টেশন মাস্টার বরখাস্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে থামেনি চট্টলা এক্সপ্রেস। মূলত স্টেশন মাস্টারের ভুলের কারণে থামেনি এ ট্রেন। এর জেরে ভোগান্তিতে পড়েন স্টেশনে থাকা যাত্রীরা। পরে বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস থামিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।

রোববার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় স্টেশনের সহকারী মাস্টারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৮০২ নম্বর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিয়ম অনুযায়ী নাঙ্গলকোট স্টেশনে থামার কথা ছিল। কিন্তু, স্টেশন মাস্টারের ভুল নির্দেশনার কারণে ট্রেনটি না থেমে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটে যখন স্টেশন সহকারী মাস্টার রুপন চন্দ্র শীল লাকসাম কেবিন মাস্টারকে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি চট্টলার পরিবর্তে ভুলবশত ৭০২ নম্বর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন ভেবে সিগন্যাল দেন। ফলে নির্ধারিত স্টপেজ উপেক্ষা করে ট্রেনটি চলে যায়।

এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট স্টেশনে থাকা যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।  যাত্রীদের কেউ কেউ স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে জবাবদিহি চান। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে নাঙ্গলকোটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠায়।

স্টেশন মাস্টার রুপন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমি লাকসাম কেবিনে দায়িত্বরত মাস্টারকে বলেছিলাম ট্রেন চালানোর জন্য। কিন্তু তিনি সম্ভবত ভুল করে চট্টলা এক্সপ্রেসকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ভেবে স্টেশন না থামিয়ে চালিয়ে দেন।’

কেবিন মাস্টার শিমুল মজুমদার নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৮০২ চট্টলা ট্রেনের কাগজ দিয়েছি। সুবর্ণ ট্রেনের নাম লিখিনি। আমরা মাস্টাররা ভুল করতেই পারি। কিন্তু, ট্রেনের চালক বা গার্ড তো থামাতে পারতেন।’

নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন মাষ্টার জামাল হোসেন বলেন, সহকারী মাষ্টার রুপন চন্দ্র শীল দায়িত্বরত ছিলেন।  তিনি ভুলবশত সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু, ট্রেনের চালক ও গার্ড চাইলে ট্রেন থামাতে পারতো। এ ঘটনায় স্টেশন সহকারী মাষ্টার রুপন চন্দ্র শীল, ট্রেনের চালক, গার্ড তাদের সবাইকে হেডকোয়ার্টারে ঢাকা হয়েছে।

কুমিল্লা রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যাত্রী রেখে চলে গেল ট্রেন, স্টেশন মাস্টার বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১১:৩০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে থামেনি চট্টলা এক্সপ্রেস। মূলত স্টেশন মাস্টারের ভুলের কারণে থামেনি এ ট্রেন। এর জেরে ভোগান্তিতে পড়েন স্টেশনে থাকা যাত্রীরা। পরে বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস থামিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।

রোববার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় স্টেশনের সহকারী মাস্টারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৮০২ নম্বর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিয়ম অনুযায়ী নাঙ্গলকোট স্টেশনে থামার কথা ছিল। কিন্তু, স্টেশন মাস্টারের ভুল নির্দেশনার কারণে ট্রেনটি না থেমে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটে যখন স্টেশন সহকারী মাস্টার রুপন চন্দ্র শীল লাকসাম কেবিন মাস্টারকে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি চট্টলার পরিবর্তে ভুলবশত ৭০২ নম্বর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন ভেবে সিগন্যাল দেন। ফলে নির্ধারিত স্টপেজ উপেক্ষা করে ট্রেনটি চলে যায়।

এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট স্টেশনে থাকা যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।  যাত্রীদের কেউ কেউ স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে জবাবদিহি চান। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে নাঙ্গলকোটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠায়।

স্টেশন মাস্টার রুপন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমি লাকসাম কেবিনে দায়িত্বরত মাস্টারকে বলেছিলাম ট্রেন চালানোর জন্য। কিন্তু তিনি সম্ভবত ভুল করে চট্টলা এক্সপ্রেসকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ভেবে স্টেশন না থামিয়ে চালিয়ে দেন।’

কেবিন মাস্টার শিমুল মজুমদার নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ৮০২ চট্টলা ট্রেনের কাগজ দিয়েছি। সুবর্ণ ট্রেনের নাম লিখিনি। আমরা মাস্টাররা ভুল করতেই পারি। কিন্তু, ট্রেনের চালক বা গার্ড তো থামাতে পারতেন।’

নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন মাষ্টার জামাল হোসেন বলেন, সহকারী মাষ্টার রুপন চন্দ্র শীল দায়িত্বরত ছিলেন।  তিনি ভুলবশত সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু, ট্রেনের চালক ও গার্ড চাইলে ট্রেন থামাতে পারতো। এ ঘটনায় স্টেশন সহকারী মাষ্টার রুপন চন্দ্র শীল, ট্রেনের চালক, গার্ড তাদের সবাইকে হেডকোয়ার্টারে ঢাকা হয়েছে।

কুমিল্লা রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।