সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.)মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক সিলেট জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি, মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি সচেতনতামূলক র‌্যালি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি নের্তৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীদের মিষ্টিমূখ সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ রাষ্ট্রপতিকে সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি জানালেন সিসিক প্রশাসক সিলেট ১ শিশুর মৃত্যু, প্রায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৬০ সিলেটে (এসএমপি) বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ৫২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন

ছয় মাস ধরে থমকে আছে স্বপ্নের সেতুর কাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বৃহৎ ‘যাদুকাটা’ সেতুর নির্মাণ কাজ গত ছয় মাস ধরে থমকে আছে। ৫ আগষ্টের পর জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ কাজ হলেও গত ৬ মাসের মধ্যে এক ইঞ্চিও কাজ হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত এলাকা সহ তিন (তাহিরপুর, মধ্যনগর- বিশ্বম্ভরপুর) উপজেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা, পর্যটন ও ব্যবসা- বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে যাদুকাটা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুর নির্মাণের মেয়াদ ছিল আড়াই বছর। এর মধ্যে সাড়ে ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এর কাজ এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে ৪ বার।

জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তমা কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ পায়। সেতু নির্মাণের নির্ধারিত সময় দেয়া হয় ৩০ মাস। কিন্তু গত সাড়ে ৬ বছরেও এর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর জন্য ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি হয়। ৪ দফা সময় বাড়িয়ে এ পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ। তারা বিল নিয়েছে ৭৮ ভাগেরও বেশি। তারা ইতোমধ্যে ৬৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করেছে। কাজের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি বিল নিলেও সেতুর নির্মাণ কাজ এখনো থমকে আছে।

উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.) ও অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু নামে এর নাম করণ করা হয়। শুরুতে এর কাজ পুরোদমে শুরু  হলেও গত ৬ মাসে এক ইঞ্চিও এর কাজ হয়নি।  এ সেতুটি দ্রুত নির্মাণ হলে পর্যটনখাতের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে ভাটি অঞ্চলে। এটি হবে জেলার সবেচেয় দীর্ঘতম আধুনিক সেতু।

সোমবার সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গত ৬ মাস আগে সেতুর সমপুন্ন পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। স্পেন ১৫ টির মধ্যে ১২টি হয়েছে। ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০ টির কাজ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০টি গার্ডার ও ৩টি স্পেন নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। গত জুন মাসের বন্যার সময়ে বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গার্ডার ভেঙে পানিতে পড়লে সেতুর নির্মাণ কাজ থমকে পড়ে।

মোল্লা পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক হাসান শাহ নিপু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তারা কখনও কাজ বন্ধ রাখে, আবার কখনও লোক দেখানো কাজ করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও ঢিলেমি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লাউড়েরগড় গ্রামের বালু পাথর ব্যবসায়ি মো. রইস মিয়া বলেন, এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি টালবাহানা করছে। গত ৬ মাস ধরে সেতুর কাজ থমকে আছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে অনাগ্রহী হলে, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, যাদুকাটা নদী সীমান্তের বিশাল প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য্যকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। দুই পাড়ের লাখো মানুষ সেতুর জন্য অপেক্ষা করছে। এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে এলাকার মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ম্যানেজার মোহাম্মদ নাসির বলেন, বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হচ্ছে সেতু নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে সেতু’র ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনিক জটিলতায় কিছুদিন এ সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যে সেতুর প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সমপুন্ন হতে আরো এক বছর সময় লাগতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছয় মাস ধরে থমকে আছে স্বপ্নের সেতুর কাজ

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বৃহৎ ‘যাদুকাটা’ সেতুর নির্মাণ কাজ গত ছয় মাস ধরে থমকে আছে। ৫ আগষ্টের পর জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ কাজ হলেও গত ৬ মাসের মধ্যে এক ইঞ্চিও কাজ হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত এলাকা সহ তিন (তাহিরপুর, মধ্যনগর- বিশ্বম্ভরপুর) উপজেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা, পর্যটন ও ব্যবসা- বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে যাদুকাটা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতুর নির্মাণের মেয়াদ ছিল আড়াই বছর। এর মধ্যে সাড়ে ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এর কাজ এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে ৪ বার।

জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তমা কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ পায়। সেতু নির্মাণের নির্ধারিত সময় দেয়া হয় ৩০ মাস। কিন্তু গত সাড়ে ৬ বছরেও এর নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর জন্য ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি হয়। ৪ দফা সময় বাড়িয়ে এ পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ। তারা বিল নিয়েছে ৭৮ ভাগেরও বেশি। তারা ইতোমধ্যে ৬৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করেছে। কাজের চেয়ে ১ কোটি টাকা বেশি বিল নিলেও সেতুর নির্মাণ কাজ এখনো থমকে আছে।

উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.) ও অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতু নামে এর নাম করণ করা হয়। শুরুতে এর কাজ পুরোদমে শুরু  হলেও গত ৬ মাসে এক ইঞ্চিও এর কাজ হয়নি।  এ সেতুটি দ্রুত নির্মাণ হলে পর্যটনখাতের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে ভাটি অঞ্চলে। এটি হবে জেলার সবেচেয় দীর্ঘতম আধুনিক সেতু।

সোমবার সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গত ৬ মাস আগে সেতুর সমপুন্ন পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। স্পেন ১৫ টির মধ্যে ১২টি হয়েছে। ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০ টির কাজ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০টি গার্ডার ও ৩টি স্পেন নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। গত জুন মাসের বন্যার সময়ে বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গার্ডার ভেঙে পানিতে পড়লে সেতুর নির্মাণ কাজ থমকে পড়ে।

মোল্লা পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক হাসান শাহ নিপু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তারা কখনও কাজ বন্ধ রাখে, আবার কখনও লোক দেখানো কাজ করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও ঢিলেমি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লাউড়েরগড় গ্রামের বালু পাথর ব্যবসায়ি মো. রইস মিয়া বলেন, এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি টালবাহানা করছে। গত ৬ মাস ধরে সেতুর কাজ থমকে আছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে অনাগ্রহী হলে, তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, যাদুকাটা নদী সীমান্তের বিশাল প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য্যকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। দুই পাড়ের লাখো মানুষ সেতুর জন্য অপেক্ষা করছে। এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে এলাকার মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ম্যানেজার মোহাম্মদ নাসির বলেন, বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হচ্ছে সেতু নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে সেতু’র ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রশাসনিক জটিলতায় কিছুদিন এ সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যে সেতুর প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সমপুন্ন হতে আরো এক বছর সময় লাগতে পারে।